০৬:৪২ পি.এম
বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভ্যাসে অভ্যস্ত মডেল শ্রদ্ধা দুবের বর্তমান ঠিকানা হলো কারাগার। ক্যাফে ব্যবসায়ী শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি ভারতের লক্ষ্ণৌয়ের গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে ৪৫ জন নারী বন্দির সঙ্গে একই কক্ষে অবস্থান করছেন তিনি। কারাগারে প্রবেশ করার পর থেকে শ্রদ্ধা ঠিকমতো খাবার গ্রহণ করছেন না। অন্য বন্দিদের সঙ্গেও তার কথোপকথন কমে গেছে।
গত ৯ অক্টোবর লক্ষ্ণৌয়ের একটি আবাসনের চারতলা থেকে পড়ে মারা যান শিবা শর্মা। ওই আবাসনে শ্রদ্ধা দুবের সঙ্গে তার লিভ-ইন সম্পর্ক ছিল। শিবার মৃত্যুর ঘটনায় শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মডেলটি দাবি করেছেন, শিবা আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনার পর ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের পুলিশ নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা, তার বোন রশ্মি এবং তাদের গাড়িচালক আদিলকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে নেপালে অবস্থানকালে পুলিশের নজরে আসার পর তারা ভারতে ফিরে আসেন, গ্রেপ্তার এড়াতে। পরে নাগপুরে আশ্রয় নিলে সেখান থেকেই তাদের আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
শিবার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধাদের পালিয়ে থাকতে সহায়তা করা ব্যক্তিদের খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির শেখের নাম সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, আমির ও তার সহযোগীরা শ্রদ্ধা, রশ্মি ও আদিলের জন্য কানপুর, নাগপুর এবং নেপালে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। আমিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
শিবার মৃত্যুর পর গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে নেওয়ার পর প্রথমে শ্রদ্ধা ও রশ্মিকে নিভৃতবাসে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের অন্য কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে দুই বোন ৪৫ নারী বন্দির সঙ্গে অবস্থান করছেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পরিবারের কেউ কারাগারে আসেনি বলেও জানিয়েছে কারা সূত্র।
কারাগারের জেলার ঋত্বিক প্রিয়দর্শী জানিয়েছেন, দুই বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে। তবে তাদের আচরণে উদ্বেগের ছাপ রয়েছে। বেশির ভাগ সময় তারা চুপচাপ বসে থাকছেন। মাঝে মাঝে নিজেদের মধ্যে কথা বললেও অন্য বন্দিদের সঙ্গে তেমন মিশছেন না।
আরও পড়ুন: তানজিন তিশার ক্ষোভ, ফ্যাশন ডিজাইনারের বিরুদ্ধে মামলার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন তুললেন
কারাগারে প্রথম রাতেও স্বাভাবিক ছিলেন না শ্রদ্ধা। রাতে তাকে রুটি, ডাল, আলু-সয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হলেও তিনি খেতে চাননি। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিলেন, ঘুমও হয়নি ঠিকমতো। ভোর ৬টার দিকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাকেও ঘুম থেকে উঠতে হয়। বিলাসবহুল জীবন থেকে কারাগারের কঠোর রুটিনে এসে এই মডেলের দিন কাটছে এভাবেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন