বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩০ পি.এম
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পুটিমারী বাজার এলাকায় একটি অস্ত্র ও নয়টি মাদক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত (ওয়ারেন্টভুক্ত) আসামি এসকেন শেখকে (৩৫) পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসকেন পুটিমারী গ্রামের বাবলু শেখের ছেলে।
গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নড়াগাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হোসেন ও হাসান পুঠিমারী থেকে এসকেন শেখকে গ্রেফতার করেন। এরপর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফসহ (হাতকড়া) এসকেনকে ছিনিয়ে নেয় তার বাবা বাবলু শেখ, ভাই নয়ন শেখ ও সজল শেখসহ তাদের লোকজন।
এ সময় এসআই মুরাদ হোসেনের হাত, পিঠ ও ঘাড়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন তারা। আহত পুলিশ কর্মকর্তা মুরাদকে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হোসেন আলী জানান, পুটিমারী ঈদগাহের সামনে থেকে ভাঙ্গা হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এসকেনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তার নামে একটি অস্ত্র এবং নয়টি মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় ২৩জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর–কলমাকান্দা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন ইকবাল রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইকবাল রোডের ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোশতাক আহমেদ রুহীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোশতাক আহমেদ রুহীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
মোশতাক আহমেদ রুহী ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং পরবর্তীতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নেত্রকোনা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এদিকে, গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবতার সেবায় এগিয়ে এসে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে রাসু ফাউন্ডেশন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পবনবেগ মোহাম্মদীয়া নূরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যাম্পে তিন শতাধিক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করেন। চিকিৎসাসেবা দেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শাবনাজ সুলতানা।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ছকিনা বেগম (৩৫), লিয়াকত শেখ (৬০) ও রহিমা বেগম (৬৫)সহ একাধিক রোগী বলেন, “বিনামূল্যে চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা পেয়ে আমরা খুবই উপকৃত ও আনন্দিত। দূরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য অনেকের নেই। সাধারণ মানুষের জন্য এ ধরনের মহৎ উদ্যোগ অত্যন্ত উপকারী। এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।
ক্যাম্প পরিচালনা ও তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আবদুল্লাহ সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক সেকেন্দার রুমি।
এছাড়া মো. হাসান খান, আকিব সিকদার, সিয়াম মোল্যা, রিফাত মোল্যা, রনি মোল্যা, আরাফাত মোল্যা ও ওমর মোল্যাসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা সেবা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
রাসু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আবদুল্লাহ সুমন বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। তাই এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, শারীরিক হামলা এবং সিল জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে ১৮ জন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক শিক্ষাবর্ষের (দুই সেমিস্টার) জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে এবং ২০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সিন্ডিকেট সদস্যের মাধ্যমে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, র্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৪ জন, সিল জালিয়াতির অভিযোগে তিনজন এবং জুনিয়রের ওপর শারীরিক হামলার অভিযোগে একজনসহ মোট ১৮ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া, এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া ১৮ জনসহ মোট ২০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
র্যাগিংয়ের ঘটনায় আরও ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে র্যাগিংয়ে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সভা-২০২৬-এ উপস্থাপিত অভিযোগের তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, শাস্তিপ্রাপ্ত ৯৯ শিক্ষার্থী ১০টি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
এর মধ্যে ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের ৩১ জন, ইতিহাস বিভাগের ১৮ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৫ জন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ১৩ জন, অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সাতজন, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের চারজন, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের চারজন, চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের চারজন, অর্থনীতি বিভাগের দুজন এবং গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের একজন রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান বলেন, ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী র্যাগিং, বিভাগে মারামারি এবং সিল জালিয়াতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে তিনি সিন্ডিকেটের সদস্য না হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ বহাল থাকলে র্যাগিংয়ের ঘটনায় কেউ কঠোর শাস্তি, কেউ সতর্কতামূলক শাস্তি এবং কারও হলের আবাসিকতা স্থায়ীভাবে বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে চিঠি দিয়ে তাদের বিষয়ে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
প্রক্টর আরও বলেন, “শাস্তির উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের ধ্বংস করা নয়, বরং ভুল থেকে তাদের ফিরিয়ে এনে ভবিষ্যৎ জীবন সুন্দর করার সুযোগ দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত রাখতে চায়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, র্যাগিংয়ের ঘটনায় ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় শত শিক্ষার্থীকে র্যাগিংসহ বিভিন্ন অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শাস্তির মধ্যে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল ও কঠোর সতর্কতাসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তা থাকবে—র্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করবে না বর্তমান প্রশাসন।”
এ ছাড়া আরও কয়েকটি বিভাগের অভিযোগ উপকমিটিতে তদন্তাধীন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় সেসব বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার উলাঙ্কাব অঞ্চলটি পূর্বে দেশের "আলুর রাজধানী" হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বর্তমানে বিস্তৃত আলু ক্ষেতের পাশেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে বিশালাকার রেক্ট্যাঙ্গুলার ভবনগুলো, যা চীনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিশ্বে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।
উলাঙ্কাবের বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে কর্মচাঞ্চল্যের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। শত শত নির্মাণ শ্রমিক ভারী যন্ত্রপাতি বহন করছেন, আর আকাশে উড়ছে বিশাল সব ক্রেন। কাজের গতি দেখে এক প্রকৌশলী হাসতে হাসতে মন্তব্য করেন, "এটাই চীনের গতি (China Speed)। আমরা তো অবকাঠামো তৈরির পাগল!" চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৯৯ শতাংশ শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে এআই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়ার যে বিশাল পরিকল্পনা করেছে, এই ডেটা সেন্টারগুলো তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন সংঘাত ও প্রযুক্তির লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে উলাঙ্কাব, নিংশিয়া, গ্যানসু এবং গুইঝৌ-এর মতো অপেক্ষাকৃত শীতল ও কম জনবহুল অঞ্চলগুলোতে হুয়াওয়ে, বাইটড্যান্স এবং ডিপসিকের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য শত শত ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। এই অবকাঠামোগত বিপ্লব ঘটছে ঠিক তখন, যখন ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এআই নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা নিয়ে বৈঠকে বসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, চীন যেভাবে এআই ক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে, তা তাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের এই আশঙ্কাকে "স্নায়ুযুদ্ধের পুরোনো মানসিকতা" হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বেইজিং এখন শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে দৌড়াচ্ছে না, বরং একটি ভিন্ন মডেল দাঁড় করাচ্ছে—ওপেন-সোর্স এআই, যা কম খরচে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন দেশ নিজেদের মতো ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে মার্কিন চিপ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন দ্রুত উদ্ভাবন নিশ্চিত করতে সক্ষম হচ্ছে।
মেধার প্রত্যাবর্তন ও সবুজ শক্তির ব্যবহারও এই প্রক্রিয়ার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে অনেক তরুণ চীনা গবেষক ও প্রকৌশলী আমেরিকা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে আসছেন। ইয়েল ও কেমব্রিজে পড়াশোনা করা চীনা গবেষক জ্যাক ঝাং বলেন, "বিদেশে কাজের সম্পদ বা সরকারের সরাসরি সহায়তা পাওয়া কঠিন। চীনে সেই সুযোগ অনেক বেশি।" চীন প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ সায়েন্স ও টেকনোলজি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ।
এছাড়া এসব ডেটা সেন্টারের বিশাল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বাতাস ও সৌরশক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এখনও অনেক জায়গায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা রয়েছে এবং পানির সংকট নিয়ে কিছু পরিবেশগত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
প্রযুক্তির এই জোয়ারে যেমন স্বপ্ন আছে, তেমনি রয়েছে একশ্রেণীর মানুষের সংশয়। ডেটা সেন্টারের জন্য অনেককে বসতভিটা ছাড়তে হলেও স্থানীয়রা সরাসরি কোনো সুবিধা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ অনেকের।
আলু ক্ষেতে কর্মরত ঝাং নামের এক প্রবীণ কৃষক গর্ব করে বলেন, "চীন এখন বিশ্বের শীর্ষে। আমার সন্তানরা এখানে কাজ পেয়েছে।" কিন্তু ভেড়া চড়াতে যাওয়া অন্য এক বয়স্ক কৃষক ক্ষোভের সাথে বলেন, "বিগ ডেটা বা এআই—এসব সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসে না। আমার ভাঙা ফোনে ইন্টারনেটের দাম দেওয়া ছাড়া কোনো পরিবর্তন আসেনি।"
সব মিলিয়ে, চীনের অর্থনীতি বর্তমানে কিছুটা ধীরগতির হলেও এবং সাধারণ জনগণের এক অংশের মাঝে হতাশা থাকলেও, শি জিনপিংয়ের বিশ্বজয়ের এই প্রযুক্তি-সংগ্রাম দমানো কঠিন। উলাঙ্কাবের এই বিশাল ডেটা সেন্টারগুলোই বলে দিচ্ছে—ভবিষ্যতের এআই দুনিয়ায় চীন তার আধিপত্য ধরে রাখতে পুরোপুরি প্রস্তুত। সূত্র: বিবিসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ