রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৩ পি.এম
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষিকাজ অব্যাহত রাখতে সরকারের কাছে যথেষ্ট সার মজুত রয়েছে। তবে কৃষকদের মধ্যে সারের সুষ্ঠু ও যথাযথ বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।
তিনি রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জামালপুর জেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ আলী সভায় সভাপতিত্ব করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সারের বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং কৃষকের স্বার্থে পর্যাপ্ত সার মজুত রেখেছে। তাই সারের সংকট নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় জনবল ও যানবাহন সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, মাদক সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এবং যেকোনো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতে প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেস আলী মামুন, এ.ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, মো. ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল হক, পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এবং ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণ বিশেষ করে সারের সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন।
রোববার বিকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়।
বৈঠকে কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য সচিবালয়ের ষষ্ঠ তলায় যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে ওঠেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজারের পেন্নাই গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার মেম্বার মধ্যরাতে দলবল নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করার পর গণপিটুনিতে নিহত হন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের (জাহাঙ্গীর গ্রুপ) একটি অংশ চাঁদা না পেয়ে তাঁকে হত্যা করেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, বাঙ্গরা বাজারের উত্তর পেন্নাই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (মেম্বার) সাবেক এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এই সম্পর্কের সুবাদে তিনি এমপির প্রভাব দেখিয়ে স্থানীয় জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালাতেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে। আনোয়ারের দখলে ছিল এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসার একক আধিপত্য। ২০২৩ সালে ড্রেজারের অভিযানে গেলে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গাড়িতে হামলা করেন আনোয়ার ও তাঁর বাহিনী। তখন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি আইনের হাত থেকে বেঁচে যান।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকার বিজয়ী হওয়ার পর আনোয়ার মেম্বার এলাকা ছাড়েন। ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে মধ্যরাতে এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁর দ্বারা নির্যাতিত এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন।
১৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে আবারও দলবল নিয়ে গ্রামে আসেন আনোয়ার মেম্বার। এ সময় এলাকাবাসী তাঁর দলবলকে ধাওয়া দেয়, ফলে গণপিটুনিতে আনোয়ার মেম্বার নিহত হন।
উত্তর পেন্নাই গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ মাকসুদ মিয়া বলেন, "আনোয়ার ডাকাত আওয়ামী লীগের সময়ে মানুষকে মানুষই মনে করত না। জমি কিনলে, বাড়ি করলেও, দোকান দিলেও তাঁকে চাঁদা দিতে হতো। দলমত নাই, তাঁর কাছে সবাই নির্যাতিত ছিল। মধ্যরাতে সে দলবল নিয়ে হামলা করলে সাধারণ মানুষ বাঁচার জন্য প্রতিরোধ করলে সে গণপিটুনিতে আহত হয়ে মারা যায়।"
নিহত আনোয়ারের মেয়ের জামাতা শফিকুল ইসলাম বলেন, "আমার শ্বশুর আওয়ামী লীগ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে। আমার শাশুড়ি বাড়িতে থাকেন। রাতে আমার শ্বশুর বাড়িতে আসলে তাঁকে আওয়ামী লীগের (জাহাঙ্গীর গ্রুপের) নেতারা ১০ লাখ টাকার চাঁদার জন্য পিটিয়ে হত্যা করে। এখানে বিএনপির কেউ নেই। দুই গ্রুপই আওয়ামী লীগের।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঙ্গরা থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, "আনোয়ার মেম্বার নামের নিহত ব্যক্তি মধ্যরাতে দলবল নিয়ে গ্রামে হামলা দেয়। এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে সে নিহত হয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ এর মাধ্যমে যেন কোনো ধরনের অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল স্পেসে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে সুরক্ষা প্রদান এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রস্তাবিত আইনের মূল লক্ষ্য। আইনটির অপব্যবহার রোধে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সরকার নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্রহনন বা গালিগালাজ এক নয়।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন পরিমার্জনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সুসংহত করতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের ইতিবাচক পরামর্শ গ্রহণ করবে।
আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, আইআরআইয়ের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার রুকসানা হক এবং তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইআরআই প্রশিক্ষণার্থী চামন ফারিয়া ও মোহাম্মদ প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আইআরআইয়ের চলমান যুব নেতৃত্ব গঠন ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জন ফ্লুহার্টি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি ও বিরোধীদলগুলোর জন্য সর্বসম্মত নীতি ও আইনগত সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে আইআরআইয়ের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সাইবার বুলিং, সংগঠিত অপপ্রচার, যুব নেতৃত্ব ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা নিয়ে আলোচনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ চলাচল সংক্রান্ত ইরানের প্রস্তাবিত বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে বাহরাইন। চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তেহরান এই জলপথ বন্ধ রাখায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
তবে, প্রণালিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার জন্য আগামী সোমবার মাসকাটে একটি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে ইরান।
বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত তারা ইরানের সঙ্গে কোনো যৌথ বৈঠকে অংশগ্রহণ করবে না। এছাড়া, তোষণ নীতি গ্রহণ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছে দেশটি।
বাহরাইন দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে, এতে কোনো ধরনের বৈষম্য, অতিরিক্ত ফি বা অনুমতি থাকা উচিত নয়।
যুদ্ধের পূর্বে সব দেশের জাহাজের জন্য এই জলপথ মুক্ত ছিল, কিন্তু বর্তমানে তেহরান এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি ফি চালুর চেষ্টা করছে। তবে, ইরানের বক্তব্য হলো, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে তারা এই আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।
ওমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রণালিটি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার মতো কোনো চুক্তি না হলেও, এটি চালুর সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ