প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজারের পেন্নাই গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার মেম্বার মধ্যরাতে দলবল নিয়ে গ্রামে প্রবেশ করার পর গণপিটুনিতে নিহত হন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের (জাহাঙ্গীর গ্রুপ) একটি অংশ চাঁদা না পেয়ে তাঁকে হত্যা করেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, বাঙ্গরা বাজারের উত্তর পেন্নাই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (মেম্বার) সাবেক এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এই সম্পর্কের সুবাদে তিনি এমপির প্রভাব দেখিয়ে স্থানীয় জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালাতেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে। আনোয়ারের দখলে ছিল এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসার একক আধিপত্য। ২০২৩ সালে ড্রেজারের অভিযানে গেলে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গাড়িতে হামলা করেন আনোয়ার ও তাঁর বাহিনী। তখন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি আইনের হাত থেকে বেঁচে যান।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকার বিজয়ী হওয়ার পর আনোয়ার মেম্বার এলাকা ছাড়েন। ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে মধ্যরাতে এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁর দ্বারা নির্যাতিত এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন।
১৩ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে আবারও দলবল নিয়ে গ্রামে আসেন আনোয়ার মেম্বার। এ সময় এলাকাবাসী তাঁর দলবলকে ধাওয়া দেয়, ফলে গণপিটুনিতে আনোয়ার মেম্বার নিহত হন।
উত্তর পেন্নাই গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ মাকসুদ মিয়া বলেন, "আনোয়ার ডাকাত আওয়ামী লীগের সময়ে মানুষকে মানুষই মনে করত না। জমি কিনলে, বাড়ি করলেও, দোকান দিলেও তাঁকে চাঁদা দিতে হতো। দলমত নাই, তাঁর কাছে সবাই নির্যাতিত ছিল। মধ্যরাতে সে দলবল নিয়ে হামলা করলে সাধারণ মানুষ বাঁচার জন্য প্রতিরোধ করলে সে গণপিটুনিতে আহত হয়ে মারা যায়।"
নিহত আনোয়ারের মেয়ের জামাতা শফিকুল ইসলাম বলেন, "আমার শ্বশুর আওয়ামী লীগ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে। আমার শাশুড়ি বাড়িতে থাকেন। রাতে আমার শ্বশুর বাড়িতে আসলে তাঁকে আওয়ামী লীগের (জাহাঙ্গীর গ্রুপের) নেতারা ১০ লাখ টাকার চাঁদার জন্য পিটিয়ে হত্যা করে। এখানে বিএনপির কেউ নেই। দুই গ্রুপই আওয়ামী লীগের।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঙ্গরা থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, "আনোয়ার মেম্বার নামের নিহত ব্যক্তি মধ্যরাতে দলবল নিয়ে গ্রামে হামলা দেয়। এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে সে নিহত হয়।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন