১১:০২ পি.এম
ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি ব্যবহার করে জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সফলতার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষামূলক এই সফলতার পর, বর্তমানে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সহায়তা করছে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) সংস্থাটি।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে, বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়ার বামদিঘী এলাকায় পরীক্ষামূলক এই ফ্লাইহুইল বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা এবং আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়া গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক কম খরচ হতে পারে এবং দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: দালালদের দিন শেষ: কাঠালিয়া থানায় সরাসরি সেবা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য স্থাপিত যন্ত্রপাতি ও মোটর চালু করে কার্যক্রম প্রদর্শিত হচ্ছে। তখন দুটি পাম্প ও একটি ওয়েল্ডিং মেশিন চালিয়ে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, যদি আরও কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হয় তবে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা সম্ভব।
আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক মন্তব্য করেন, '২০০৪ সাল থেকে এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। ২০১০ সালের পর গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনেও ফ্লাইহুইল প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে, জ্বালানি ব্যবহার না করে কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় সে চিন্তাভাবনা থেকেই ফ্লাইহুইল প্রযুক্তি নিয়ে আমাদের গবেষণা চলমান। পরীক্ষামূলকভাবে ৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার দুটি মোটর চালু করে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম দেখেছি। প্রাথমিক হিসাবে ফ্লাইহুইল প্রযুক্তিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হতে পারে প্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সা।'
ড. আব্দুল মজিদ আরো জানিয়েছেন, 'আরডিএতে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ সার্বক্ষণিকভাবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে উৎপাদন করতে গেলে ১০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হতে পারে। এই প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো, এটি আবহাওয়া বা সূর্যালোকের ওপর নির্ভরশীল নয়।'
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আকিলপুর সমুদ্র সৈকতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী
প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জমা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব এ প্রযুক্তির প্রকল্পটি জলবায়ু ট্রাস্টেও জমা দেয়া হয়েছে।
আরডিএর উপপরিচালক কৃষিবিদ ইঞ্জিনিয়ার ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, 'পরীক্ষামূলকভাবে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল হয়েছি। তবে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে পূর্ণাঙ্গ করে তুলতে আরও কিছু যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। ২০১৪ সাল থেকে আমরা এ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছি। গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণে এক সময় কাজ কিছুটা থেমে যায়। পরে আরডিএ আমাদের সহযোগিতা ও উৎসাহ দেয়ায় আবারও কাজ শুরু করেছি।'
তিনি উল্লেখ করেন, 'প্রয়োজনীয় অর্থ ও যন্ত্রপাতি পাওয়া গেলে এটিকে পূর্ণাঙ্গ আকারে নিয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। আশা করছি, ২০২৫ সাল থেকে প্রযুক্তিটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে পরিচালিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রযুক্তিটি পূর্ণাঙ্গভাবে দাঁড়াতে পারলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ প্রায় ১ টাকা ৫০ পয়সায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।'
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, 'আমরা এখানে এসে পুরো বিষয়টি সরেজমিনে দেখেছি। তারা যে উদ্যোগটি নিয়েছেন, তাতে তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মেশিন চালু করে তারা এর কার্যকারিতাও দেখিয়েছেন। বিষয়টি আমাদের কাছে অত্যন্ত ভালো ও সম্ভাবনাময় মনে হয়েছে। এই উদ্যোগকে কীভাবে আরও বড় পরিসরে নেয়া যায় এবং এ জন্য যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেটি করার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব।'
আরও পড়ুন: বরিশাল নগরীতে মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন