শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৫১ পি.এম
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেবরনে (আল-খলিল) ইসরাইলি সেনাদের ওপর গুলি করে হত্যার ঘটনায় গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট প্রশংসা জানিয়েছে। শুক্রবারের ওই প্রতিশোধমূলক ঘটনায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হন। এটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তেল আবিব শাসনব্যবস্থার অবিরাম নিষ্ঠুরতার সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
পপুলার রেসিট্যান্স কমিটি (পিআরসি) শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ অভিযানের প্রশংসা করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং চরমপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা সংঘটিত নৃশংস অপরাধের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে, ইসরাইলের ধারাবাহিক অপরাধ দখলদার শক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না কিংবা ফিলিস্তিনি জনগণের মনোবল ভাঙতে সক্ষম হবে না। তাদের মতে, এ গুলির ঘটনায় ইসরাইলের নিরাপত্তা, সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থাও বড় ধরনের আঘাতের মুখে পড়েছে।
ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এ ঘটনাকে ‘বীরত্বপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে। তবে হামলা চালানোর দায় স্বীকার করেনি সংগঠনটি।
লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহও এ অভিযানের প্রশংসা করেছে। তাদের ভাষ্য, হত্যা, গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ ও পবিত্র স্থানগুলোতে হামলাসহ ইসরাইলের চলমান অপরাধের বিরুদ্ধে এটি ‘স্বাভাবিক ও বৈধ প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বিবেচিত।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত দুই সেনার নাম ২৩ বছর বয়সী স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান এবং ২০ বছর বয়সী সার্জেন্ট ইউভাল শাই সভিলেম। রয়টম্যান একটি সেনাদলের কমান্ডার ছিলেন বলে জানা গেছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত দুই ফিলিস্তিনি ৩৫ নম্বর সড়কে বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের হামলা পরিকল্পনা করছিল। তবে তারা বুঝতে পেরেছিল যে তারা হাইওয়েতে পৌঁছাতে পারবে না, তাই তারা পরিবর্তে অস্থায়ী চেকপয়েন্টে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একটি গাড়িতে করে ওই দুই ফিলিস্তিনি হেবরন শহরের বাইরে সেনাদের স্থাপন করা অস্থায়ী চৌকির কাছে পৌঁছান। এরপর পাশের একটি সড়কে গাড়ি থেকে নেমে তাঁরা একটি অ্যাসল্ট রাইফেল ও একটি পিস্তল নিয়ে গুলি চালান। এ সময় আশপাশের ভবনগুলো আড়াল হিসেবে ব্যবহার করেন বলে দাবি ইসরাইলি বাহিনীর।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরাইলি সেনাদের দীর্ঘ সময় ধরে বন্দুকযুদ্ধের দৃশ্য দেখা গেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, এই সংঘর্ষ ২০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলে।
সূত্র: প্রেস টিভি
এমএমআর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুক্রবার দুপুরে এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
তাদের আশঙ্কা, বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভেঙে যেতে পারে বেড়িবাঁধ। এতে আকিলপুর ছালাদার জামে মসজিদসহ আশপাশের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানায় এক চঞ্চল্যকর রহস্যে পুলিশিংয়ের বৃত্ত ভেঙে জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশিং সেবার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবু নাছের রায়হান। থানায় যোগদানের পর থেকে তার সততা ও কঠোর অপরাধ দমন নীতির কারণে পুরো উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়নে সকল প্রকার মাদক, সন্ত্রাসী ও সাধারণ অপরাধের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে কাঠালিয়া উপজেলা।
ওসি আবু নাছের রায়হান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কাঠালিয়া থানায় মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন। সাধারণ মানুষ যাতে কোনো হয়রানি ছাড়াই সরাসরি আইনি সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে তিনি নিজের কক্ষে একটি ‘উন্মুক্ত দুয়ার’ (Open-door policy) নীতি বজায় রেখেছেন। যেকোনো সাধারণ নাগরিক এখন কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ওসির কাছে এসে নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারছেন এবং তাৎক্ষণিক আইনি প্রতিকার পাচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে পুলিশের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওসির এই কঠোর অবস্থানের কারণে কাঠালিয়া থানায় যোগদানের পর থেকে সেবাপ্রত্যাশীদের আর কোনো দালালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না। অতীতে যেখানে সাধারণ মানুষকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করতে এসে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হতো, বর্তমানে ওসির সরাসরি হস্তক্ষেপে সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা মধ্যস্থতা ছাড়াই সাধারণ মানুষ এখন ওসির কক্ষে প্রবেশ করে সরাসরি তাদের আইনি সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্বে কচুয়া, বাসস্ট্যান্ড ও দক্ষিণ চেঁচরীসহ উপজেলার কয়েকটি স্পটে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের যে প্রকাশ্য দৌরাত্ম্য ছিল, পুলিশের নিয়মিত চিরুনি অভিযানের কারণে তা এখন অনেকটাই বন্ধ। ওসির কঠোর অবস্থানের কারণে স্থানীয় অনেক প্রভাবশালী মহল তদবির করার সাহস পাচ্ছেন না, যার ফলে অপরাধীরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায় যে সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক সহিংসতা ও চুরির ঘটনার সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের কারণে সাধারণ নারীরাও এখন নির্ভয়ে থানায় এসে আইনি সহায়তা নিচ্ছেন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সাম্প্রতিক শারদীয় দুর্গোৎসবে বিশেষ নিরাপত্তা প্রোটোকল ও ২৪ ঘণ্টা পুলিশি মনিটরিং নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছেন।
জনবান্ধব পুলিশিংয়ের পাশাপাশি অপরাধীদের দমনে অত্যন্ত অনমনীয় ভূমিকা পালন করছেন ওসি মোঃ আবু নাছের রায়হান। উপজেলাকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন তিনি। এক বিশেষ বার্তায় অপরাধীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ওসি বলেন, "মাদক কারবারিরা যত বড়ই প্রভাবশালী নেতা বা মাস্তান হোক না কেন, আবু নাছের রায়হানের হাত থেকে তারা পার পাবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। এই ঘোষণার পর থেকে কাঠালিয়ার পশ্চিম আউরা,কচুয়া, সদর বাসস্ট্যান্ড, আমুয়া, মরিচবুনিয়া ও দক্ষিণ চেঁচরীসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি চিরুনি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এ অভিযান অব্যহত থাকবে।
স্থানীয় সাধারণ জনগনের কাছ থেকে জানা যায়, কাঠালিয়া থানার ওসির এই সাহসী, আপসহীন ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমের ফলে কাঠালিয়া উপজেলার সামগ্রিক পরিবেশ এখন অনেক বেশি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ। সাধারণ মানুষ এখন কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের আইনি অধিকার আদায়ের জন্য সরাসরি থানায় আসতে পারছেন, যা একটি আদর্শ মডেল থানার বাস্তব রুপ নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হোটেল খান প্যালেসে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ এবং বিস্তীর্ণ বালুকাময় উপকূল কুয়াকাটাকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছে। যথাযথ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এ সৈকত আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলতে পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পাশাপাশি আধুনিক গণশৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বসার স্থান, তথ্যকেন্দ্র, পার্কিং সুবিধা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু করার প্রয়োজন রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড নিয়োগ, উদ্ধারব্যবস্থা জোরদার এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা আবশ্যক।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় অপরিহার্য। স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে পর্যটনসেবার মান বাড়ানো গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে। বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে সরকারের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্রসৈকত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এতে দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরে বেলা ২টা বাজতেই শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কের ঈদগাহ মাঠে জড়ো হন একদল মানুষ। কেউ বয়স্ক, কেউ শিশু, কেউবা দিনমজুর কিংবা ভাসমান মানুষ। তাঁদের কারও হাতে নেই পর্যাপ্ত টাকা, কারও আবার দুপুরের খাবার জোগাড় করাটাই কঠিন। তাই বেলা ১টা থেকেই একবেলা খাবারের আশায় অপেক্ষা করেন তাঁরা। এরপর একটি ভ্যান এসে থামলেই শুরু হয় খাবার পরিবেশন। থালায় তুলে দেওয়া হয় গরম ভাত, ডাল, সবজি, ডিম, মাছ কিংবা মাংস। এভাবেই প্রতিদিন অন্তত একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নৃ ফাউন্ডেশন।
শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কে প্রতিদিনের এই মানবিক উদ্যোগের নাম ‘অনাহারীর আহার’। সংগঠনটির দাবি, গত ছয় বছর ধরে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে অসহায় মানুষের জন্য খাবার বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
খাবার খেতে আসা এসব মানুষের মধ্যে রয়েছেন ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষ, ভিক্ষুক, দরিদ্র রিকশাচালক, হকার ও দিনমজুর। তাঁদের অনেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ শেষে এখানে এসে দুপুরের খাবার খান। কেউ কেউ জানান, সামান্য আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে প্রতিদিন দুপুরে পেট ভরে খাবার খাওয়ার সামর্থ্য তাঁদের থাকে না। নৃ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ তাঁদের সেই কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করছে।
খাবার খেতে আসা কয়েকজন বলেন, প্রতিদিন ভালো খাবার জোটে না। এখানে এসে নিয়মিত দুপুরের খাবার খেতে পারি। এমন উদ্যোগ যেন বন্ধ না হয়, সেটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
২০২০ সালে করোনা মহামারির দুঃসময়ে মানুষের অসহায়ত্ব দেখে এই কার্যক্রম শুরু করে নৃ ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আওরঙ্গজেব আকন্দ জানান, করোনা পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্তত একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যেই ‘অনাহারীর আহার’ কর্মসূচি চালু করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ১০০ জন অসহায় মানুষের জন্য একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। মাসের ১৫ থেকে ২০ দিন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী, বিয়ে কিংবা অন্যান্য উপলক্ষে খাবার বিতরণের দায়িত্ব নেন। বাকি দিনগুলোতে নৃ ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অর্থায়নে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
শুধু খাবার বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয় সংগঠনটির কার্যক্রম। রমজান মাসে ইফতার বিতরণ, মৌসুমি ফল বিতরণ এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানেও কাজ করছে তারা। ‘অসহায়ের সহায়’ নামে আরেকটি কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংগঠনটির ২১ সদস্যের এই তরুণ দল দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সহায়তা সংগ্রহ করা হয়।
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা এই উদ্যোগে প্রতিদিন খাবার পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে অসহায় মানুষের জীবনে। তবে সমাজের দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়া শুধু মানবিক সহায়তা নয়, তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষারও একটি প্রয়াস। নৃ ফাউন্ডেশনের তরুণেরা সেই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলেছেন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে আরও বেশি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ