০৫:১০ পি.এম
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও জ্ঞানকে কাজে লাগানোর জন্য এবং তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টিতে একটি বড় উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এই উদ্যোগের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প যৌথ গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর কার্যালয় (টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস—টিটিও) প্রতিষ্ঠা এবং স্টার্টআপ ইনকিউবেটর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-তে তিন দিনব্যাপী ‘পঞ্চম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইনোভেশনস ইন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এই আশার কথা জানান।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ গবেষণার পরিধি কেবল গবেষণাপত্র লেখা ও প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান, প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে হবে। গবেষণার সাফল্য শুধু প্রকাশনা বা উদ্ধৃতির সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন না করে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কার্যকর প্রোটোটাইপ তৈরি এবং মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের মাধ্যমেও মূল্যায়ন করতে হবে।”
আরও পড়ুন: ইডটকো ও ফ্লোসোলারের চুক্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাব্যতা যাচাই
তিনি দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বিদেশি প্রযুক্তি ও পরামর্শসেবার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়করণ, তৈরি পোশাক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার কিংবা বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির মতো সমস্যাগুলোর দেশীয় সমাধান দেওয়ার সক্ষমতা দেশের গবেষকদের রয়েছে। এই লক্ষ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণাগারে বিনিয়োগের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি গবেষকদেরও শিল্পের বাস্তব চাহিদা চিহ্নিত করতে সরাসরি কারখানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের যৌথ গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘টিটিও’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উদ্ভাবনের পেটেন্ট গ্রহণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে স্টার্টআপ ইনকিউবেটর প্রতিষ্ঠায় কৌশলগত অনুদান দেওয়া হবে।
দেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা এবং আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি উচ্চমূল্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জনে তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জীবপ্রযুক্তির মতো সম্ভাবনাময় খাতে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরের ব্যবসায়ীদের অনলাইনে ইলিশ বিক্রিতে জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নিতে হবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন