০২:২৮ পি.এম
ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইউএই'র দিকে ব্যালাস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার অভিযোগ ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে।
দেশটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং আঞ্চলিক আস্থা ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছে।
মঙ্গলবার, সংযুক্ত আরব আমিরাত পারস্য উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজের দিকে ইরানের দুটি ব্যালাস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার অভিযোগ আনে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মঙ্গলবার গভীর রাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সাথে সমস্ত বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত ঘোষণা করেছিল।
আরও পড়ুন: হন্ডুরাসে চীনা ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি শুরু
এধরনের হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান প্রকাশ করে জানায়, ‘সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতি হিসেবে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ এড়ানো উচিত।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে বলেন, ‘তেহরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই দাবিকে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এধরনের দাবি আঞ্চলিক শান্তি জোরদার করার চলমান প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে।’
মন্ত্রণালয়ের টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বাঘাই বলেন, ‘এই আচরণ সৎ প্রতিবেশীসুলভ নীতির পরিপন্থী এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আস্থা জোরদার করার ও অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার বিস্তার রোধে চলমান প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে।’
এছাড়া, তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ধস নামানো চীনা প্রতিষ্ঠান ডিপসিককে নিষিদ্ধ করলো
তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ইতিমধ্যে জটিল হয়ে উঠেছে।’
অবশ্যই, ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে, শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে দেশের দিকে উৎক্ষেপণ করা দুটি ব্যালাস্টিক মিসাইল শনাক্ত করেছে।’
অতঃপর, পরবর্তীতে প্রকাশিত দ্বিতীয় এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ব্যবহারিক ও তদন্তের ফলে দেখা গেছে যে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা শনাক্ত হওয়া মিসাইল দুটি মূলত সামুদ্রিক নৌচলাচলকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল এবং সেগুলো সাগরে গিয়ে পড়েছে।’
আরও পড়ুন: ক্রেমলিন: ইউরোপ বিশৃঙ্খলার দ্বারপ্রান্তে
এর আগে, গত জুন মাসে একটি ভুল অ্যালার্ট এবং জুলাই মাসে একটি হামলার সতর্কবার্তার মধ্যে এটিই ছিল প্রথম মিসাইল সতর্কতা দেয়া। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয়, তখন ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন