ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যের ভুল ঘোষণায় কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি উদ্ঘাটন


চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যের ভুল ঘোষণায় কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি উদ্ঘাটন

চট্টগ্রাম বন্দরে কম শুল্কের পণ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের প্রসাধনী, গাড়ির যন্ত্রাংশ, নাট-বল্টু, বিয়ারিংসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার আটটি ঘটনা উন্মোচন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ৩৩ ও ১৭১ ধারায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের এআইআর শাখার যৌথ অভিযানে কন্টেইনারগুলো কায়িক পরীক্ষা করে এসব অনিয়ম উদ্ঘাটন করা হয়।

আরও পড়ুন: অক্টোবরের ২৬ দিনে দেশে এসেছে ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কৃষি কাজে ব্যবহৃত পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন, টুথপিক, প্রিন্টিংয়ের হিট ট্রান্সফার পেপার, রবার বুশ এবং স্টেইনলেস স্টিল সার্কেলের মতো পণ্যের ঘোষণা দিয়ে চীন, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ড থেকে উচ্চ শুল্কের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা হয়। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে- নামী ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, ফেস ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, নিষিদ্ধ ক্রিম, লেজার লাইট, গাড়ির ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, বিয়ারিং, নাট-বল্টু ও পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার।

পাওয়ার স্প্রেয়ারের ঘোষণায় প্রসাধনী: ঢাকার নিউ মার্কেটের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং চীন থেকে ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন আমদানির ঘোষণা দেয়। তবে কায়িক পরীক্ষায় কন্টেইনারে স্টেজ লাইট, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেস্ট, পিলিং জেল, সিরাম, এলইডি লাইট, সানগ্লাস ও ব্ল্যাক হেয়ার শ্যাম্পুসহ বিভিন্ন অঘোষিত পণ্য পাওয়া যায়। ঘোষিত ওজনের চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৮১৭ কেজি অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া যায়। এ চালানে আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়।

টুথপিকের চালানে নিষিদ্ধ ক্রিম: পুরান ঢাকার চকবাজারের কাফ কর্পোরেশন চীন থেকে সাড়ে ২২ টন টুথপিক আমদানির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে মাত্র ১ হাজার ৬২০ কেজি টুথপিক পাওয়া যায়। বাকি পণ্যের মধ্যে পাকিস্তানের গোরি বিউটি ক্রিম, ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, সানগ্লাস ও ডিলে স্প্রে পাওয়া যায়। এ চালানে আনুমানিক ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়।

গাড়ির যন্ত্রাংশ ও ফ্লেক্স ব্যানার: ঢাকার এইচ.আর এন্টারপ্রাইজ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি ইঞ্জিন রবার বুশ আমদানির ঘোষণা দিলেও পরীক্ষায় প্রকৃত রবার বুশ পাওয়া যায় ৬ হাজার ৬২৫ কেজি। বাকি পণ্যের মধ্যে ইঞ্জিন মাউন্টিং, সাসপেনশন বুশ, আর্ম বুশ, সেন্টার বিয়ারিং, স্প্রিং শ্যাকল ও স্টিয়ারিংসহ বিভিন্ন গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আনুমানিক ৪৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: সার আমদানি কমাতে তিনটি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ

নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স চীন থেকে ২৩ হাজার ৬১৮ কেজি হিট ট্রান্সফার পেপার আমদানির ঘোষণা দিলেও কায়িক পরীক্ষায় মাত্র ৩ হাজার ১৬০ কেজি পেপার পাওয়া যায়। বাকি প্রায় ২১ হাজার ৪৬৭ কেজি পণ্যের মধ্যে উচ্চ শুল্কের পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার পাওয়া যায়। এ চালানে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়।

নাট-বল্টু ও বিয়ারিং আমদানিতে অনিয়ম: বংশালের নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ এবং ওয়ারীর মোহাম্মাদীয়া ট্রেড নামের দু’টি প্রতিষ্ঠানের চালানেও অনিয়ম পাওয়া যায়।

মোহাম্মাদীয়া ট্রেড ২২ টন স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল ও এক্সকাভেটর গিয়ার আমদানির ঘোষণা দিলেও কায়িক পরীক্ষায় ৩ দশমিক ৮ টন ঘোষিত পণ্য পাওয়া যায়। কন্টেইনারে অতিরিক্তভাবে ২২ হাজার ১১৩ কেজি নাট, বল্টু ও স্ক্রু পাওয়া যায়। এ চালানে আনুমানিক ৩২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়।

অন্যদিকে, নিউ রনি এন্টারপ্রাইজের চালানে ১৭ হাজার ৫৯২ কেজি নাট-বল্টু, ২ হাজার ৭৮৭ কেজি ভারী রোলিং বিয়ারিং এবং ২ হাজার ৩৩৬ কেজি রিভলভিং চেয়ারের গ্যাস লিফট সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আনুমানিক ৪২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি আমদানির দায় মেটানোর চাপে বাড়ল ডলারের দাম

কন্টেইনারের সিল পরিবর্তনের অপচেষ্টা: কাস্টমসের নজরদারিতে থাকা কাফ কর্পোরেশনের আরেকটি কন্টেইনার অবৈধভাবে সরানোর চেষ্টার তথ্যও উদ্ঘাটিত হয়েছে। কন্টেইনারটি এএসওয়াইসিইউডিএ ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে লক করা থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত কায়িক পরীক্ষার তারিখের আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সেটি কিপ ডাউন করা হয়। এ সময় বিল অব লেডিংয়ে উল্লেখিত মূল সিল ভেঙে অন্য একটি সিল লাগানো হয়।

নথিপত্র যাচাইয়ে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করার তথ্য পাওয়া যায় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। পরে কন্টেইনারটি নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে জব্দ করা হয়।

এনবিআর জানায়, ডিজিটাল রিস্ক ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব জালিয়াতি উদ্ঘাটন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব সুরক্ষা, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ রক্ষা এবং শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: এনএসইজেডের সমস্যা ৩ মাসে সমাধান হবে : প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সেমিনারে বক্তারা

মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা রক্ষায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ এম


মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা রক্ষায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতির আহ্বান

হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংলাপ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির নেতারা।

তারা উল্লেখ করেছেন যে, পবিত্র মক্কা মুকাররমা ও মদিনা মুনাওয়ারার নিরাপত্তা এবং পবিত্রতা রক্ষা করা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে যেকোনো হুমকি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে ‘হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদায় মুসলিম উম্মাহর করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি, বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, পবিত্র দুই মসজিদ শুধু সৌদি আরবের নয়, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ঈমান, ভালোবাসা ও ধর্মীয় অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দু। তাই হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও পবিত্রতার প্রতি যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সচেতনতা, সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

তারা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা, সশস্ত্র সংঘাত এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনাকে তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বক্তারা জানান, মক্কা-মদিনাসহ বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তৈলশোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের কারণ। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক মূল্যবোধ এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তারা।

সেমিনারে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সংলাপ ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, মুসলিম বিশ্বের সংকট নিরসনে আবেগনির্ভর প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, দায়িত্বশীল বক্তব্য, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ অনুসরণ করতে হবে। মুসলিমদের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না।

বাংলাদেশ-সৌদি আরবের সম্পর্কের বিষয়ে বক্তারা মন্তব্য করেন যে, দুই দেশের ঐতিহাসিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের আলেম-উলামা, মসজিদের ইমাম-খতিব, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের হারামাইন শরীফাইনের মর্যাদা ও নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।

পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে মানুষকে সতর্ক করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

বক্তারা সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও কার্যকর ভূমিকা নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সেমিনার থেকে পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা, মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক মানুষের জানমালের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন বক্তারা।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মানযুর এ ইলাহী, প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া, প্রফেসর ড. মুসলেহুদ্দীন, অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ ফারুক, ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানী, ড. মুহাম্মাদ নুরুল্লাহ, শাইখ জাহিদ হাসান মাদানী, ড. ইব্রাহিম আব্দুল হালীম ও ড. আব্দুল বাছির প্রমুখ।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ঐক্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল উদ্যোগের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ পবিত্র হারামাইন শরীফাইনের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ ছয়জনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি স্বজনদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ এম


ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: নিখোঁজ ছয়জনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি স্বজনদের

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

নিখোঁজদের একজন স্বজন জানান, একই পরিবারের নয়জন সদস্য তিন দিন আগে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। তাঁদের থাকার জন্য যে রেস্তোরাঁটি নির্ধারিত ছিল, সেখানে আগুন লেগে যায়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার বাসে তাঁদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। ফেরার প্রস্তুতি চলছিল, কিন্তু ভোরে রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বিমানে ঢাকায় আসেন এবং হাসপাতালে গিয়ে স্বজনদের খোঁজখবর নেন।

তিনি আরও জানান, আগুন থেকে বের হতে সক্ষম হওয়া তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তাঁদের আঘাত গুরুতর ছিল এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে, বাকি ছয়জনের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। যদিও কয়েকজনের ছবি পাওয়া গেছে, তবে সেগুলোর মাধ্যমে সবাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

ওই স্বজন বলেন, ‘এখন প্রশাসন কীভাবে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। আমার মনে হয়, এ ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষা করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। ভুল করে অন্য কারও মরদেহ নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এখানে আরও কয়েকটি পরিবার তাঁদের স্বজনদের জন্য অপেক্ষা করছে। সবার কষ্ট ও উদ্বেগ একই রকম। তাই যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা উচিত।’

তিনি আরও জানান, নিহত বা নিখোঁজদের মধ্যে তাঁরও আত্মীয় রয়েছেন। তিনি তাঁদের ছোট কাকা। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তাঁদের স্বজন। এ কারণে এ ঘটনা তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়া যেসব রেস্তোরাঁ ও রিসোর্ট পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।

উল্লেখ্য, শনিবার সকালে উখিয়ার ইনানী সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন পাটোয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রাণহানি ও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ এম


বেনজির-নওয়াজের মতো ইমরান খানকে দেশ ছাড়ায় বাধ্য করার চেষ্টা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও বেনজির ভুট্টোর মতো দেশত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই।

শুক্রবার পেশোয়ার হাইকোর্টে (পিএইচসি) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। খবর দ্য ডন অনলাইনের।

আচাকজাই বলেন, অতীতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও বেনজির ভুট্টো যেভাবে সমঝোতার মাধ্যমে স্বেচ্ছানির্বাসনে গিয়েছিলেন, ঠিক তেমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে ইমরান খানের ক্ষেত্রেও।

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের কোথাও একজন বন্দিকে সাক্ষাতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয় না।” এ সময় তিনি বিতর্কিত সংশোধনী প্রত্যাহার, পার্লামেন্টকে কার্যকর ক্ষমতা দেওয়া এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানান।

আচাকজাইয়ের মতে, পার্লামেন্টকে ক্ষমতায়ন করা ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য আইনপ্রণেতাদের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী কোথায় আছেন, তা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ তথ্য জানার অধিকার তাদের রয়েছে এবং এটি সাংবিধানিক অধিকার।

তিনি বলেন, “আমরা খাইবার পাখতুনখোয়ার জনগণের পাশে আছি। এ প্রদেশের খনিজ সম্পদের ওপর প্রথম অধিকার এখানকার মানুষের। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” দেশ টিকে থাকলে সবাই নিরাপদ থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আচাকজাইয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তানের (টিটিএপি) নেতারা। এছাড়া বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি-মেঙ্গল (বিএনপি-এম) প্রধান সরদার আখতার মেঙ্গল এবং সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাসও উপস্থিত ছিলেন।

আচাকজাই বলেন, তারা সব বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং শিগগিরই একটি সর্বদলীয় সম্মেলন আহ্বান করবেন।

সম্মেলনে সরদার আখতার মেঙ্গল বলেন, যারা নিজেদের সংবিধানের প্রণেতা বলে দাবি করেন, তারাই সংবিধান পদদলিত করছেন। সন্ত্রাসবাদের কারণ দেখিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন বাতিল চেয়ে আদালতে বিরোধীরা

খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার পেশোয়ার হাইকোর্টে আবেদন করেছে টিটিএপি। এসব পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

আবেদনে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২(১) ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় জারি করা জরুরি অবস্থার ঘোষণা অসাংবিধানিক এবং আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংবিধানে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা হয়নি, অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে বলে আবেদনকারীদের দাবি।

আবেদনকারীরা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক পরিষদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা পার্লামেন্টে স্থানান্তরের উদ্যোগ এবং নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী ঢামেকে ভর্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ এম


কক্সবাজারের রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড, দগ্ধ স্বামী-স্ত্রী ঢামেকে ভর্তি

কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের ছয় জনের মৃত্যুর পর, ওই পরিবারের আরও দুই সদস্য স্বামী-স্ত্রী আহত অবস্থায় ঢামেকে ভর্তি হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইসমাইল রুহুল মাসুদ (৩৫), যিনি সীনহা গ্রুপের মার্চেন্ডাইজার, এবং তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা মিনা (৩০), যিনি প্রিমিয়ার ব্যাংকের চাকরিজীবী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের টুপটুপ রিসোর্টে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ইসমাইলের চাচাতো ভাই মমিন মিয়া জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের ১০ জন সদস্য গত বুধবার কক্সবাজার রিসোর্টে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন গতকাল ফিরে আসেন এবং চার ভাগ্নি, এক ভাগ্নে ও এক নাতিসহ মোট ৬ জন মারা যান। আহত দুজন রিসোর্টের গ্লাস ভেঙে লাফিয়ে পড়ার সময় আহত হন; এতে ইসমাইল কোমরে আঘাত পান এবং তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা হাতে ও পায়ে আঘাত পান।

আহত দুজনকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে আহত ইসমাইলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা চলছে এবং তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসার বার্নের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তবে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কেউ দগ্ধ হননি। আহতদের বাসা উত্তরা দক্ষিণখানে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%