মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
০২:১৫ পি.এম
রাঙামাটির প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে জেলা পরিষদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবগঠিত পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
রোববার (৩০ আগস্ট) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ সৌজন্য সাক্ষাতে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাসেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, রাঙামাটির ভৌগোলিক বাস্তবতায় দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে জেলা পরিষদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় স্বাস্থ্য খাতকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর ও জনবান্ধব করার পাশাপাশি জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নবগঠিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল কার্যকাল কামনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় মো. পারভেজ মিয়া নামে এক ব্যক্তির হত্যার অভিযোগে সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির সময় সাবেক রেলমন্ত্রী আদালতে দাবি করেন, "একটি মামলায় জামিনের পর নতুন করে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার বিষয়টি বিবেচনা নেওয়া উচিত।"
রবিবার (৩০ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. জাকির হোসেন ১৯ আগস্ট এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন আজ রবিবার।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি নূরুল ইসলাম সুজন এ ঘটনার সাথে জড়িত বা অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুন অর রশীদ আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ আলম শাহীন এর বিরোধিতা করেন।
শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, "আমি পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। আমি সেখান থেকে নির্বাচিত এমপি। আমার রাজনীতির ক্যারিয়ার ওখানেই।"
তিনি আরও বলেন, "ওইখানে আমি ৪০ বছর ধরে অবস্থান করছি। সর্বশেষ আমি রেলমন্ত্রী হিসাবে ছিলাম। একটি মামলায় জামিন হলে আরেকটি মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো। কিসের ভিত্তিতে দেখানো হচ্ছে তা আপনি (বিচারক) বিবেচনা করা উচিত। তবে এই সময়ে আপনি (বিচারক) বিবেচনা করতে পারবে কি না আমি জানি না। তবে এটা এখন মূল বিষয়।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এই বিষয়ে উচ্চ আদালতেও অনেক সিদ্ধান্ত রয়েছে।" তিনি বলেন, "কেউ দোষী হয়ে থাকলে অবশ্যই তার বিচার হবে। বর্তমান সরকার বড় বড় পদে থেকে মন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলছেন। কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ তো নেই। এজন্য এইগুলোতে বলব, মামলায় দুই বছর হলো, এজাহারে নাম নেই, ফরোয়ার্ডিও নেই। অথচ এই মামলায় আমাকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হল। এই শ্যোন এরেস্টটি আদৌও হবে কি না, আপনি (বিচারক) কেস ডকেটটা একটু দেখবেন। যদি সত্যি হয়, তাহলে অবশ্যই আপনি (বিচারক) আদেশ দিবেন। তবে এই পর্যায়ে এসে আপনি আদেশ দিতে পারবেন কি না আমার জানা নেই।" বিচারক শুনানি শেষে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন মো. পারভেজ মিয়া। ওইদিন বিকেল ৫টায় আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানী শ্যামলীর বাংলাদেশ বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে সুজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০টি ঘোড়া জবাই করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৭টি ঘোড়া জবাই করে মাংস নিয়ে গেলেও তিনটি ঘোড়া জবাই করে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী এলাকায় পরিত্যক্ত বাড়িতে স্থানীয়রা জবাই করা ঘোড়া, ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও হাড় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে ভিড় করে লোকজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী এলাকায় পরিত্যক্ত বাড়িতে রাতের আঁধারে ১০টি ঘোড়া জবাই করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ৭টি ঘোড়া জবাই করে মাংস নিতে পারলেও তিনটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস নিতে পারেনি দুর্বৃত্তরা।
সকালে স্থানীয়রা তিনটি জবাই করা ঘোড়া ও ৭টি ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া পড়ে দেখতে পাই। ধারণা করা হচ্ছে- অন্য কোথাও থেকে ঘোড়া নিয়ে গিয়ে এই নির্জন পরিত্যক্ত জায়গায় জবাই করা হয়েছে। ভোর হওয়ার কারণে তিনটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস নিতে পারেনি, ৭টি ঘোড়ার মাংস নিতে পেরেছে দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ বলেন, সকালে শুনতে পাই ১০টি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে। ৭টি ঘোড়ার মাংস নিয়ে গেছে। তিনটি ঘোড়া জবাই করে ফেলে রেখে গেছে। আমরা কীভাবে বাজার থেকে গরুর মাংস কিনবো। গরুর মাংস কিনতে মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
বাসাইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী এলাকায় পরিত্যক্ত বাড়িতে ১০টি ঘোড়া জবাই করেছে দুর্বৃত্তরা। আমাদের ধারণা- রাত ১টা থেকে ৪টার মধ্যে ঘোড়াগুলো জবাই করেছে।
তিনি বলেন, ভোর হয়ে গেছে, এজন্য ৭টি ঘোড়ার মাংস নিতে নিয়ে তিনটি ঘোড়া জবাই করে ফেলে রেখে চলে গেছে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ধারণা করছি- অন্য কোথাও থেকে ঘোড়া নিয়ে এসে এখানে জবাই করেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারে দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে চার নারী ও চার পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সোনাইমুড়ী উপজেলার পূর্ব মির্জানগর গ্রামের মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে মো.সোহাগ (৪০), নজরপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ইকবাল হোসেন (৪২), দৌলতপুর গ্রামের ইসমাইলের ছেলে জুনায়েদ (২৭) এবং হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা গ্রামের মিলন উদ্দিনের ছেলে মোঃ মুন্না (২৩)।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরের দিকে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার চৌমুহনী বাজারের মিয়ামী ও স্কাইভিউ হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসির সার্বিক তত্ত্বাবধানে হোটেল দুটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮জন জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নোয়াখালী ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌমুহনীর দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার নারী ও চার পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে নয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ছমির উদ্দিন (৬১) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে পাগলা থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তকে কান্দিপাড়া বাজার থেকে ওইদিন রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে ওই শিশুকে প্রায়ই কুপ্রস্তাব দিতেন কান্দিপাড়া বাজার এলাকার বৃদ্ধ ছমির উদ্দিন।
প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ২৫ আগস্ট বিকালে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে কান্দিপাড়া বাজারে আশা অফিসের পাশে নিয়ে যায়। পরে সেখানের কলাবাগানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বৃদ্ধ ছমির উদ্দিন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে একটি মহল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজাত আলী জানান, শিশুকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ