প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় মো. পারভেজ মিয়া নামে এক ব্যক্তির হত্যার অভিযোগে সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির সময় সাবেক রেলমন্ত্রী আদালতে দাবি করেন, "একটি মামলায় জামিনের পর নতুন করে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার বিষয়টি বিবেচনা নেওয়া উচিত।"
রবিবার (৩০ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. জাকির হোসেন ১৯ আগস্ট এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। ওই দিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন আজ রবিবার।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি নূরুল ইসলাম সুজন এ ঘটনার সাথে জড়িত বা অভিযুক্ত হওয়ায় তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
এদিন রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুন অর রশীদ আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ আলম শাহীন এর বিরোধিতা করেন।
শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন আদালতের অনুমতি নিয়ে বলেন, "আমি পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। আমি সেখান থেকে নির্বাচিত এমপি। আমার রাজনীতির ক্যারিয়ার ওখানেই।"
তিনি আরও বলেন, "ওইখানে আমি ৪০ বছর ধরে অবস্থান করছি। সর্বশেষ আমি রেলমন্ত্রী হিসাবে ছিলাম। একটি মামলায় জামিন হলে আরেকটি মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো। কিসের ভিত্তিতে দেখানো হচ্ছে তা আপনি (বিচারক) বিবেচনা করা উচিত। তবে এই সময়ে আপনি (বিচারক) বিবেচনা করতে পারবে কি না আমি জানি না। তবে এটা এখন মূল বিষয়।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এই বিষয়ে উচ্চ আদালতেও অনেক সিদ্ধান্ত রয়েছে।" তিনি বলেন, "কেউ দোষী হয়ে থাকলে অবশ্যই তার বিচার হবে। বর্তমান সরকার বড় বড় পদে থেকে মন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলছেন। কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ তো নেই। এজন্য এইগুলোতে বলব, মামলায় দুই বছর হলো, এজাহারে নাম নেই, ফরোয়ার্ডিও নেই। অথচ এই মামলায় আমাকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হল। এই শ্যোন এরেস্টটি আদৌও হবে কি না, আপনি (বিচারক) কেস ডকেটটা একটু দেখবেন। যদি সত্যি হয়, তাহলে অবশ্যই আপনি (বিচারক) আদেশ দিবেন। তবে এই পর্যায়ে এসে আপনি আদেশ দিতে পারবেন কি না আমার জানা নেই।" বিচারক শুনানি শেষে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন মো. পারভেজ মিয়া। ওইদিন বিকেল ৫টায় আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। প্রথমে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানী শ্যামলীর বাংলাদেশ বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে সুজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন