ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

একজন ভালো আইনজীবী হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই : আইনমন্ত্রী


একজন ভালো আইনজীবী হতে পড়াশোনার বিকল্প নেই : আইনমন্ত্রী

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, একজন ভালো আইনজীবী হওয়ার জন্য শ্রম, অধ্যবসায় এবং নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। যদিও শর্টকাট পথে অর্থবিত্ত অর্জন করা সম্ভব, তবুও তা একজন ভালো আইনজীবী হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

আজ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ল' ফেস্টে আইন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘একজন ধনী ল’ইয়ার হওয়ার শর্টকাট পথ আছে, সেটি হলো ফিক্সিং অ্যান্ড ফক্সিং। কিন্তু ভালো ল’ইয়ার হতে গেলে পড়ালেখার বিকল্প কোনো পথ নেই।’

আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী

আইনজীবীদের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজ বিভিন্ন ধরনের ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। আইনজীবীরা আইনগত দিকনির্দেশনা দিয়ে সমাজকে সঠিক পথে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই একজন আইনজীবীর প্রতিটি বক্তব্য ও শব্দচয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইনমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসক রোগী দেখার সময় মূলত তার নিজের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চিকিৎসা প্রদান করেন। কিন্তু একজন আইনজীবী যখন আদালতে দাঁড়ান, তখন তাকে বিচারক, বিপক্ষের আইনজীবী, নিজের মক্কেল এবং আদালতে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট সবার বিষয় বিবেচনায় রেখে বক্তব্য দিতে হয়। সঠিকভাবে আইন উপস্থাপন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং মামলার বিষয়গুলো যথাযথভাবে আদালতের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব একজন আইনজীবীর।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে একদিন আদালতে দাঁড়িয়ে ‘মাই লর্ড’ বলে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন।

আইনজীবীদের পেশাগত জীবনের বিভিন্ন ধাপের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, শুরুতে অনেক আইনজীবীকেই কোনো আয় ছাড়াই দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। পরে ধীরে ধীরে কাজ ও আয় বাড়ে। এক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে এমন অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়, যখন আইনজীবীর উপস্থিতিই তার পেশাগত সাফল্যের বড় ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

নিজের পেশাগত জীবনের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ কর মামলায় তার সিনিয়রের নির্দেশে তিনি দীর্ঘদিন আদালতের যুক্তিতর্কের নোট নিয়েছিলেন। পরে তার সিনিয়র আইনজীবী আদালতে বড় কোনো বক্তব্য না দিয়েও মামলার শুনানিতে অংশ নেন। মামলায় জয় পাওয়ার পর ওই সিনিয়র আইনজীবী বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক পান। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, দীর্ঘদিনের অধ্যয়ন ও অভিজ্ঞতা একজন আইনজীবীর পেশাগত মূল্য তৈরি করে।

দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হচ্ছে। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ না রেখে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আইন পেশায় দক্ষ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, একজন আইনজীবী একই সঙ্গে তার মক্কেলের প্রতি দায়িত্বশীল এবং আদালতের একজন কর্মকর্তা। মক্কেল তার বিপদের সময়ে আইনজীবীর ওপর আস্থা রেখে নিজের বিষয় তুলে দেন। তাই মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আদালতকে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করাও আইনজীবীর দায়িত্ব।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু

তিনি বলেন, ‘টাকাই সবকিছু নয়। একজন আইনজীবীর উচিত তার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনে বিনা পারিশ্রমিকে মামলা পরিচালনা করা।’

নিজের পেশাগত জীবনের আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক অসহায় ভূমিহীন নারীর জমি-সংক্রান্ত মামলা তিনি কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই পরিচালনা করেছিলেন। পরে ওই নারী তার সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য অর্থ পারিশ্রমিক হিসেবে দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সেই অর্থই তার মেয়ের পরীক্ষার খরচ হিসেবে তাকে ফিরিয়ে দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ওই নারীর দোয়া ও সন্তুষ্টি তার কাছে কোটি টাকার পারিশ্রমিকের চেয়েও মূল্যবান ছিল। এ ধরনের মানবিকতাই একজন আইনজীবীর পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে ভালো-মন্দ ও নানা ধরনের প্রলোভনের মুখোমুখি হতে হবে। তবে তাদের সত্য ও সঠিক পথ বেছে নিতে হবে। সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারলে একজন আইনজীবী সফল হতে পারবেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে

তিনি আরও বলেন, আইন পেশায় কাজ করতে গিয়ে অনেক হাস্যরসাত্মক অভিজ্ঞতারও মুখোমুখি হতে হয়।

এসব অভিজ্ঞতা পেশাটিকে উপভোগ্য করে তোলে।

শিক্ষার্থীদের আইন সংস্কারে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত কোনো আইনে অসংগতি বা পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে মনে হলে তারা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব ও খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারেন।

সরকার সেসব প্রস্তাব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।

আরও পড়ুন: ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতা কম: নিলোফার মনি

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের চিন্তা ও ভাবনাকে ধারণ করে দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা দেশের পরিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং একটি উন্নত বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এ কাজে তরুণ প্রজন্মের সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন: গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাতিয়ায় বন বিভাগের জমি দখলের অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১০ পি.এম


হাতিয়ায় বন বিভাগের জমি দখলের অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা জাগলার চরে বন বিভাগের জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ, বন উজাড় করে দখল, সরকারি জমি ক্রয়-বিক্রয় এবং দাগ বিক্রির নামে অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে জাগলার চর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আটক ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন হলেন উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের উত্তর শূল্যকিয়া এলাকার মৃত আবুল খায়েরের ছেলে মো. এনায়েত হোসেন ওরফে এনায়েত খলিফা (৫৬) এবং অপরজন হলেন চরকিং ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার মৃত খবির উদ্দিনের ছেলে মো. রুবেল (৩০)।

পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়া থানার সুখচর-সংলগ্ন মেঘনা নদীর বুকে সম্প্রতি জেগে ওঠা জাগলার চরে কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে অবস্থান নেন। তারা বন বিভাগের জমিতে গাছপালা উজাড় করে জায়গা দখলের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষকে ওই চরে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আশ্বাস দেন। কথিত এজেন্টদের মাধ্যমে এসব মানুষকে বন বিভাগের জমির ‘দাগ’ বিক্রির কথা বলে নগদ টাকা নেওয়া হয়।

সরকারি বনভূমি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি বা দখল করার কোনো বৈধ সুযোগ না থাকায় এতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, অপরাধজনক বলপ্রয়োগ, আক্রমণের চেষ্টা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রায় ২০ জনকে আসামি করে হাতিয়া থানায় মামলা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর বুকে নতুন চর জেগে ওঠার পর থেকেই সেখানে জমি দখল ও জমি নিয়ে নানা ধরনের তৎপরতা শুরু হয়। বিশেষ করে ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষের একটি অংশ জমি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন ব্যক্তির কথায় টাকা দিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাই না করে টাকা দেওয়ায় অনেকে পরে বিপাকে পড়ছেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, সরকারি জমি দখল, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি এবং প্রতারণার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপর আসামিসহ তদন্তে আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে জমি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র সরকারি বা বন বিভাগের জমি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি কিংবা বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে টাকা চাইলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, জাগলার চরের বনভূমি ও ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সরকারি জমি দখল ও অবৈধ লেনদেন বন্ধে প্রশাসন ও বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোর্শেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১১ পি.এম


সিলেটে কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোর্শেদ

সিলেটের কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

তিনি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রথমে পুরোনো কারাগার এবং পরে বাদাঘাটে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন।

এই পরিদর্শনের সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

১৭ সেপ্টেম্বর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সিলেটের পুরোনো কারাগারের স্থানে নান্দনিক পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর স্থাপনের জন্য ভূমিটি সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র সচিব সিলেটে এসে কারাগার পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যা এই সিদ্ধান্তের একদিন পর।

নগরবাসীকে একটি উন্মুক্ত সবুজ উদ্যান উপহার দিতে কারাগারের ভূমি সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তরের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর আধা-সরকারি (ডিও) পত্র দেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি এবং সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে ভূমিটি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়।

গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পুরোনো কারাগারের স্থলে পার্ক ও রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খানের নামে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের জন্য ভূমিটি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, কারা মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই সিদ্ধান্তের একদিন পরই শনিবার সিলেটে এসে কারাগার পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। দুপুর ১২টায় তিনি পুরোনো কারাগার পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর তিনি ধোপাদিঘির পাড় ওয়াকওয়ে এবং রংমহল টাওয়ারের পাশের কারাগারের ভূমি পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি বাদাঘাটে অবস্থিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, কারা মহাপরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক্টোম্যানিয়ার নতুন নাটক ‘দ্য আলকেমিস্ট: সুবর্ণস্রষ্টা’ মঞ্চে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১২ পি.এম


এক্টোম্যানিয়ার নতুন নাটক ‘দ্য আলকেমিস্ট: সুবর্ণস্রষ্টা’ মঞ্চে

ব্রাজিলিয়ান কথাসাহিত্যিক পাওলো কোয়েলহোর কালজয়ী উপন্যাস ‘দ্য আলকেমিস্ট’ অবলম্বনে নাট্যদল এক্টোম্যানিয়া নতুন প্রযোজনা ‘দ্য আলকেমিস্ট: সুবর্ণস্রষ্টা’ নিয়ে এসেছে মঞ্চে। এটি দলের চতুর্থ প্রযোজনা হিসেবে পরিচিত।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে গত দুই দিনে নাটকটির তিনটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রযোজনাটির মঞ্চনাট্যরূপ দিয়েছেন মাহফুজ ইসলাম মেঘ। মঞ্চ পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন দলের প্রধান তালহা জুবায়ের।

নির্দেশক তালহা জুবায়ের মন্তব্য করেন, "বস্তবাদ ও পুঁজিবাদের এই সময়ে মানুষ যখন চারপাশের সবকিছুকে নিখুঁততার মাপকাঠিতে বিচার করতে ব্যস্ত, তখন কোয়েলহোর উপন্যাসের আধ্যাত্মিকতা, প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের নিয়মের সঙ্গে মানুষের সংযোগের বার্তা মানসিক প্রশান্তি ও দার্শনিক খোরাক জোগায়।"

তিনি আরও বলেন, “‘দ্য আলকেমিস্ট’ কেবল কোনো গন্তব্যে পৌঁছানোর গল্প নয়; এটি পথচলার অভিজ্ঞতা ও আত্মিক রূপান্তরের গল্প। আজকের অনিশ্চিত ও অস্থির সময়ে এই অভ্যন্তরীণ রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করি।”

উপন্যাসের মূল চরিত্র আন্দালুসীয় তরুণ মেষপালক সান্তিয়াগো স্বপ্নে দেখা মিসরের পিরামিডের কাছে গুপ্তধনের সন্ধানে যাত্রা করে। পথে একের পর এক মানুষের সঙ্গে তার দেখা হয়। প্রতিটি সাক্ষাৎ তাকে জীবন ও নিজের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে নতুন উপলব্ধির মুখোমুখি করে।

জিপসি নারী, সালেমের রাজা মেলচিজেডেক, স্ফটিক ব্যবসায়ী, ইংরেজ তরুণ, কাফেলা সর্দার ও মরূদ্যানের ফাতিমা—প্রত্যেকেই সান্তিয়াগোর অভিযাত্রার ভিন্ন অধ্যায় হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত রহস্যময় আলকেমিস্টের সান্নিধ্যে এসে তার সামনে উন্মোচিত হয় জীবনের আরেক সত্য।

বিশ্বনাট্যের ধ্রুপদি ধারাকে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে প্রযোজনাটিতে ফিজিক্যাল অ্যাকশন ও আধুনিক নাট্যরীতির সমন্বয় করেছে এক্টোম্যানিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনী পরশুরাম সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৭৬২ পিস ইয়াবা জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেনী প্রতিনিধি

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১২ পি.এম


ফেনী পরশুরাম সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৭৬২ পিস ইয়াবা জব্দ

ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭৬২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে ৭৬২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণের জন্য স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারি, নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত, সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। ধন্যবাদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%