০৬:৫৩ এম
আজ বুধবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সারা দেশে সাধারণ ছুটির ঘোষণা রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দিন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কারণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় এক ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে আজকের দিনে, অর্থাৎ ৫ আগস্ট।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
সেদিন ছাত্র-জনতার প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান।
এই ত্যাগ ও সংগ্রামের দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
অভ্যুত্থানের পূর্বে ৩ আগস্ট আন্দোলনকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘একদফা’ দাবি ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় লাখো মানুষ শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে রাজপথে নামতে শুরু করেন।
বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং সহিংসতার ঘটনা উন্মোচিত হয়।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা হলে কারফিউ উপেক্ষা করে ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। কেউ বাসে, কেউ মোটরসাইকেলে, আবার অনেকে মাইলের পর মাইল হেঁটে রাজধানীতে প্রবেশ করতে থাকেন। দুপুর বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে ওঠে। একদফার স্লোগানে মুখরিত হয়ে রাজপথ ধরে আন্দোলনকারীরা গণভবনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন।
এ সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৫ বছরের শাস্তির অবসান ঘটে। পরে সরকার ৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে। সাধারণভাবে ঐ তারিখ ৫ আগস্ট হলেও অভ্যুত্থানকারীরা মাসটিকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত বিবেচনা করেন যতক্ষণ না রক্তস্রোত বন্ধ হচ্ছে।
আন্দोलনের সূত্রপাত ঘটে ২০২৪ সালের ৫ জুন। ঐ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে কর্মসূচি শুরু করেন। ১ জুলাই থেকে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। আন্দোলনকারীরা নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে কোটা সংস্কারের দাবি তুললেও সরকার বিষয়টিকে আদালতের অধীন বলে উল্লেখ করে।
১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন নতুন গতি পায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হিসেবে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং পরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে এসব উদ্যোগ আন্দোলন থামাতে সক্ষম হয়নি; বরং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে তা গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সারা দেশে দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। আহতদের একটি বড় অংশ চোখে গুরুতর আঘাত পান এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর সম্মুখীন হন। এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম গণআন্দোলন বলা হয়।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে প্রথমে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ এবং পরে মাহফুজ আলম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিচারপ্রক্রিয়া ও নির্বাচন আয়োজনের নানা উদ্যোগ গ্রহণের পর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০২৬ সালে राष्ट्रीय নির্বাচন আয়োজন করে অন্তর্বর্তী সরকার। ঐ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।
জাতীয় কর্মসূচি অনুযায়ী ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো যাবে।
এদিন সকালে ৯ টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন। বেলা ১১ টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
আরো আয়োজন হিসেবে, এই উপলক্ষে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল আজ সকালে সাড়ে ১০টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ করবে।
এছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স, গণফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন