পারভিন আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
০৯:১৭ পি.এম
ইসলামী ছাত্র মজলিস কর্তৃক ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্র ঘোষিত ১-৭ আগস্ট ২০২৬, পর্যন্ত জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ২রা আগস্ট ২০২৬ তারিখে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ এবং জেলা সভাপতি আনাস আহমদের যৌথ নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— জেলা সেক্রেটারি কামরুল হাসান মিরাজ, মহানগর প্রশিক্ষণ ও প্রচার সম্পাদক শাফিন আব্দুল্লাহ শাকিল, জেলা বায়তুলমাল সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ, ফতুল্লা থানা সেক্রেটারি আবু হুরায়রা, সরকারি তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি আমির মুহাম্মদ সিয়াম, বক্সনগর থানা শাখার বায়তুলমাল সম্পাদক জাওয়াদুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা নির্বাহী সদস্য নাজিম হাসান স্বপ্ন, আবু সাঈদ সুমন ও সাইয়্যেদাইন আহমদ প্রমুখ।
ছাত্র মজলিসের ১৩ দফা দাবি-সমূহ -
১. শিক্ষাব্যবস্থার সকল স্তরে কুরআন ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২. প্রতিটি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অনুশাসন পালন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে।
৩. সেশনজট নিরসন, নিয়োগসহ সকল পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ এবং মেধার মূল্যায়ন করতে হবে।
৪. ক্যাম্পাসে হল দখল, সিট বাণিজ্য, র্যাগিং কালচারসহ চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে হবে।
৫. শিক্ষাকে সহজলভ্য করতে শিক্ষা ফি, কাগজ, কলম ও বইসহ সকল শিক্ষা উপকরণের দাম কমাতে হবে।
৬. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. শিক্ষা খাতে দেশের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে।
৮. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রীদের জন্য আলাদা শিফটে ক্লাস গ্রহণ এবং গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ চালু করতে হবে।
৯. বেকারত্ব নিরশনে কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা চালু করতে হবে।
১০. প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এবং কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।
১১. প্রতিটি ক্যাম্পাসের ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করতে হবে।
১২. বেসরকারি শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি অনুদান বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. পাঠ্য বইয়ে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিরোধী লেখা বাতিল করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আমরা এক বা দুই বছরের জন্য সংবিধান সংস্কার করব না, আগামী প্রজন্মের জন্য এটি করা হবে, যাতে জনগণ এর সুফল লাভ করে।’ এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘সে জন্য সময়ের আকাঙ্ক্ষা, সময়ের পরিবর্তন এবং জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে আমরা সংবিধান সংশোধন করবো।’
মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে নূরুল ইসলাম এসব মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেছেন, সংবিধান একটি চলমান ও সময়োপযোগী দলিল। তাই সময়ের পরিবর্তন, জনগণের প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের সঙ্গে যাতে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেজন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ, অংশীজন এবং জনগণের গঠনমূলক অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, ‘বর্তমান সংসদের সদস্যদের মধ্যে, বিশেষ করে বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্য প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তাই সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের গভীরভাবে ধারণা নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে এবং কার্যকর অবদান রাখতে বিষয়টি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
এ প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘আমাদের দরজা সব সময় খোলা আছে। তারা যখনই আসবেন, তখনই আমরা তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করবো।’
তিনি আন্তর্জাতিক উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘‘ভারতে বহুবার এবং যুক্তরাষ্ট্রেও সফলভাবে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তাই দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের অন্য কোন বিকল্প নেই।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য বিসিবি ১৫ সদস্যের হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। এই দলে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসএম মেহেরব হাসানকে।
এইচপি দলে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ব্যাটার সাব্বির রহমান। পাশাপাশি শামীম পাটোয়ারী, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, আবদুল গাফফার সাকলাইন, আবু হায়দার রনির মতো পরিচিত মুখও রয়েছেন।
আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশে পা রাখবে মালয়েশিয়া জাতীয় দল। ৮ এবং ১০ আগস্ট মিরপুরে হবে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
পরে বসুন্ধরায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে খেলবে মালয়েশিয়া।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য বাংলাদেশ এইচপি স্কোয়াড এর সদস্যগণ হলো : এসএম মেহেরব হাসান (অধিনায়ক), জিসান আলম, জাওয়াদ আবরার, সাব্বির রহমান, আরিফুল ইসলাম, শামীম পাটোয়ারী, মোহাম্মদ রুবেল, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, আবদুল গাফফার সাকলাইন, আবু হায়দার রনি, স্বাধীন ইসলাম, রাকিবুল হাসান, প্রীতম কুমার, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, ইকবাল হোসেন।
মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ সফরের সূচি হল :
৮ আগস্ট : ১ম টি-টোয়েন্টি, মিরপুর
১০ আগস্ট : ২য় টি-টোয়েন্টি, মিরপুর
১২ আগস্ট : ১ম ওয়ানডে, বসুন্ধরা
১৪ আগস্ট : ২য় ওয়ানডে, বসুন্ধরা
১৬ আগস্ট : ৩য় ওয়ানডে, বসুন্ধরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী সন্দ্বীপের শহীদ সাইমুন ও সৈকতসহ সকল শহীদের স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সন্দ্বীপ উপজেলার উদ্যোগে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে সন্দ্বীপের হানিফ শিকদার জামে মসজিদে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিলের আগে বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে জামায়াত নেতৃবৃন্দ শহীদ সাইমুনের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকাল ৫টায় হানিফ শিকদার জামে মসজিদে আনুষ্ঠানিক দোয়া মাহফিল শুরু হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সন্দ্বীপ উপজেলা আমীর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সন্দ্বীপ উপজেলা সভাপতি মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মাওলানা হেলাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর মুহাম্মদ আলা উদ্দীন সিকদার। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। শহীদ সাইমুন, শহীদ সৈকতসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগ ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মহান আল্লাহর দরবারে সকল শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁদের জান্নাতুল ফিরদাউস দান করেন, আহতদের দ্রুত সুস্থতা প্রদান করেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করেন। পাশাপাশি দেশকে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির পথে পরিচালিত করুন।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সন্দ্বীপ উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবুTaher, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ.এস.এম. হালিম উল্লাহ, উপজেলা তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ খান, ইসলামী ছাত্রশিবির সন্দ্বীপ শহরের সভাপতি মুহাম্মদ নজরুল মাহমুদ, মুছাপুর ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা নাজিম উদ্দীন সিরাজী, পৌরসভার সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ, কালাপানিয়া ইউনিয়নের সভাপতি মাওলানা সোলাইমান চৌধুরী এবং গাছুয়া ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ মাকছুদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল, কর্মী, সমর্থক এবং স্থানীয় মুসল্লিগণ উপস্থিত ছিলেন। শেষ পর্বে শহীদদের রূহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা, শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য উত্তম প্রতিদান এবং দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের ১৪ নম্বর দিগপাইত ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবমাননা ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মচারী মিনহাজের বিরুদ্ধে শহীদ মিনারের বেদি ও আশপাশের এলাকায় মুরগি জবাই করে রক্ত, পালক ও বর্জ্য ফেলে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে অবস্থিত শহীদ মিনারের মূল বেদি ও সিঁড়িতে রক্তের দাগ ছড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া শহীদ মিনারের চারপাশে মুরগির পালক ও অন্যান্য বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় পুরো এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে বক্তব্য দেওয়া এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, শহীদ মিনারের পাশেই ময়লা ফেলার নির্ধারিত ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বশীলরা সেখানে বর্জ্য না ফেলে শহীদ মিনার এলাকাকেই ব্যবহার করেছেন। তিনি এটিকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতির প্রতি চরম অসম্মান বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান নিয়মিত ও নির্ধারিত সময়ে পরিষদে উপস্থিত থাকেন না। ফলে, বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা শহীদ মিনার অবমাননার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শহীদ মিনার এলাকা দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে এর মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মচারী মিনহাজ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ