০৬:৩৩ পি.এম
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ‘ব্ল্যাক ব্লক’ (Black Bloc) নামের রহস্যময় ও আক্রমণাত্মক আন্দোলনকারীরা। ফ্রান্স থেকে শুরু করে আলবেনিয়া পর্যন্ত, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং ভাঙচুরের ঘটনাগুলোর মধ্যে এই গোষ্ঠীর উপস্থিতি এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি আল জাজিরার একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির পরিচয় এবং তাদের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে।
‘ব্ল্যাক ব্লক’ আসলে কারা?
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ব্ল্যাক ব্লক’ আসলে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত সংগঠন নয়। এটি একটি কৌশল এবং প্রতিবাদ পদ্ধতি, যা মূলত নৈরাজ্যবাদী (Anarchist) এবং উগ্রপন্থী কর্মীদের দ্বারা বাস্তবায়িত হয়। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পূর্ণ কালো পোশাকে নিজেদের মুড়ে নেন এবং মুখ ঢেকে রাখেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য হল বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি থেকে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখা এবং পুলিশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা। ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি, আবাসন সংকট এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে চলা ব্যাপক গণআন্দোলনের সুযোগ নিয়ে এই গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুন: আরব উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নাবিক নিহত
কেন তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে?
শান্তিপূর্ণ ছাত্র কিংবা শ্রমিক বিক্ষোভের আড়ালে ‘ব্ল্যাক ব্লক’ সদস্যরা প্রায়শই হিংসাত্মক আচরণ করে। ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানির শাখা, সরকারি স্থাপনা এবং বিলাসবহুল যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনার জন্য তাদের দায়ী করা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সরাসরি খণ্ডযুদ্ধ এবং টিয়ারশেল বা ইটের টুকরো ছোঁড়ার ঘটনায় ইউরোপজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রায়শই অবনতির দিকে চলে যায়। সরকারের নীতিনির্ধারক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এই গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে প্রায়শই প্রশ্ন ওঠে—‘কেউ কি তাদের আটকাতে পারবে না?’
বর্তমানে ইউরোপের সামগ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এই নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠীগুলো আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন