০৬:৩৫ পি.এম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, গার্মেন্টসে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা ব্যক্তিদের পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির উপস্থিতি রয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম বার্ষিক মাহফিলের সমাপনী দিনে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের ওপর যে নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে, সেই জালেম, স্বৈরাচারী ও খুনি আওয়ামী লীগকে দেশের জনগণ আর রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ওয়াকফের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে এবং আন্দোলনের সময় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও দ্বিনের পক্ষে, দেশের পক্ষে এবং ফ্যাসিবাদী-ইসলামবিদ্বেষী অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে গিয়েছে। এর নেতৃত্বে ছিলেন আমাদের শ্রদ্ধেয় মুরব্বি হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী এবং তার পূর্বসূরি আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ২৩ বছর সময় লেগেছিল, আর ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী সরকারের হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ১৬-১৭ বছর সময় প্রয়োজন হয়েছে। আলেম-ওলামা ও ছাত্রসমাজ অকাতরে রক্ত দিয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। বিগত ১৬-১৭ বছরে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুম হয়েছেন এবং প্রায় ৭ হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ মামলা-হামলায় নিপীড়িত হয়েছেন। এত রক্তের সিঁড়ি বেয়ে আমরা মুক্ত হয়েছি, তাই ফ্যাসিবাদীদের পুনরাগমনের সুযোগ এ দেশের মানুষ দেবে না।
এছাড়া ধর্মের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করার কিছু গোষ্ঠীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা মুখে এক কথা বলে, কিন্তু তাদের দলীয় ম্যানিফেস্টোতে শরিয়াভিত্তিক শাসনের কোনো প্রতিফলন নেই; বরং তারা শরিয়া শাসনের বিপক্ষে। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি, যেখানে বিসমিল্লাহ সংযোজন করা হয়েছে এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় গঠিত হয়েছে।’
হেফাজতে ইসলামের আমির ও বাবুনগর মাদরাসার পরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই মাহফিলের সমাপনী দিনে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাগণ।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন