০২:২৭ এম
মালয়েশিয়ার শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহরি আবদুল গনি মন্তব্য করেছেন যে, বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করা উচিত, বিশেষ করে নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন (৩ডি) কাজের ক্ষেত্রে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশটির বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মালয়েশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে রয়েছে। এটি দেশের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বিদেশি কর্মীদের ৩ডি খাতের কাজে নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সোমবার (২ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দেওয়ান রাকিয়াতে এক বক্তব্যে জোহরি আবদুল গনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৬ লাখ বিদেশি কর্মী অবস্থান করছেন। ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১৩এমপি) অনুযায়ী বিদেশি কর্মীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটছে না।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতদের জন্য সউদীর ২৩২টি বাড়ি, স্কুল, মসজিদ ও খেলাধুলার সুযোগ
মন্ত্রী আরও বলেন, ১০ থেকে ২০ বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের চাহিদা জানিয়ে আসছে। এর ফলে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বজায় রেখেছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। তাই বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা মূলত নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সংসদ সদস্য তান হং পিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য তান বলেন, দেশটির অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। তবে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে এখনো কিছু অদক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন, যাদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক।
তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য আবেদন করা অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কম খরচে শ্রমিক পেতে ইন্দোনেশিয়া কিংবা ভিয়েতনামে কারখানা স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের পরামর্শ মালয়েশিয়ার শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে কারখানা ও উদ্যোক্তারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: হরমুজে ৩ জাহাজে আগুন, ইরান দাবি করেছে ২ মার্কিন ড্রোন জব্দ
তান হং পিন জানতে চান, বিভিন্ন শিল্প খাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা সম্প্রসারিত হয়েছে, তা মূল্যায়নে মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করেও প্রয়োজনীয় শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, তাদের ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নীতিতে আরও নমনীয়তা আনা হবে কিনা, সে বিষয়েও তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর জোহরি আবদুল গনি জানিয়েছিলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন তাদের ৩ডি কাজের জন্য বিদেশি শ্রমিক প্রয়োজন।
এ ছাড়া ৩ডি খাতের বাইরে অন্য কোনো পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাবিত বেতন এবং ওই পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার বিবরণ দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব শ্রমিক চাহিদা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। অন্যথায় শ্রমিক সংকটের কারণে মালয়েশিয়ার উৎপাদন ও বিনিয়োগ খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: জেডি ভ্যান্সের ট্রাম্পের থেকে দূরত্ব বাড়ানোর আভাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন