১১:২৭ এম
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজদের মধ্যে কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রা করতে যাওয়া অনেক মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বুধবার হিমবাহ ধসের পর নেপাল এবং তিব্বতের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোতে বহু মানুষ হতাহত এবং নিখোঁজ হন। এই ঘটনার পর কৈলাস পর্বতের গুরুত্ব আবার আলোচনায় এসেছে।
কৈলাস পর্বত তিব্বতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত, যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ হাজার ৪০০ মিটার ছাড়িয়ে যায়। এর নিকটে রয়েছে মানস সরোবর। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং তিব্বতি বন ধর্মীয় ঐতিহ্যে এই পর্বতকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।
হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুসারে, কৈলাস পর্বত শিব ও পার্বতীর আবাসস্থল। তিব্বতি বন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি আধ্যাত্মিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হিন্দু ও বৌদ্ধদের বিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাসের সঙ্গে পৌরাণিক মেরু পর্বতের সম্পর্ক রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘বর্তমান নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধ স্থগিতে সম্মত ইউক্রেন’
প্রতিবছর কৈলাস মানস সরোবরকে কেন্দ্র করে তীর্থযাত্রার আয়োজন করা হয়। ভারত সরকার জুন থেকে আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কৈলাস মানস সরোবর তীর্থযাত্রার আয়োজন করে। নেপালের পথ ব্যবহার করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তীর্থযাত্রার আয়োজন করে থাকে।
তীর্থযাত্রীরা সাধারণত কৈলাস পর্বতে আরোহণ করেন না। বরং তারা পর্বতটিকে ঘিরে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার পথ হেঁটে প্রদক্ষিণ করেন। এই যাত্রা সম্পন্ন করতে সাধারণত প্রায় তিন দিন সময় লাগে। হিন্দু ও বৌদ্ধরা সাধারণত ঘড়ির কাঁটার দিকে পর্বত প্রদক্ষিণ করেন, অপরদিকে বন ধর্মাবলম্বীরা বিপরীত দিকে প্রদক্ষিণ করেন।
বিশ্বাস অনুসারে, কৈলাস প্রদক্ষিণ করলে পাপ থেকে মুক্তি ও আধ্যাত্মিক শুদ্ধি অর্জন করা যায়। কাছের মানস সরোবরে কিছু হিন্দু তীর্থযাত্রী আধ্যাত্মিক শুদ্ধির অংশ হিসেবে স্নানও করেন।
এবারের আকস্মিক বন্যায় এই তীর্থযাত্রীদের মধ্যে অনেকেই নিখোঁজ হয়ে গেছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের অন্তত ১৭৮ জন রয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই তীর্থযাত্রায় ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকরাও নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর তুরস্কের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত
আধ্যাত্মিক গুরু জগ্গি বাসুদেব, যিনি সদগুরু নামেও পরিচিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁর ইশা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কৈলাস থেকে ফেরার পথে ৭৭ জন তীর্থযাত্রী বন্যার সময় তিব্বতের গিরংয়ের একটি অভিবাসন কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও কাদার স্রোতে ইতোমধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিখোঁজ তীর্থযাত্রীসহ অন্যান্যদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন