ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্যার তাণ্ডবে কাইলাস তীর্থযাত্রীদের অনেকে এখনও নিখোঁজ, যে কারণে এই পর্বত এত গুরুত্বপূর্ণ


বন্যার তাণ্ডবে কাইলাস তীর্থযাত্রীদের অনেকে এখনও নিখোঁজ, যে কারণে এই পর্বত এত গুরুত্বপূর্ণ

নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজদের মধ্যে কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রা করতে যাওয়া অনেক মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বুধবার হিমবাহ ধসের পর নেপাল এবং তিব্বতের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোতে বহু মানুষ হতাহত এবং নিখোঁজ হন। এই ঘটনার পর কৈলাস পর্বতের গুরুত্ব আবার আলোচনায় এসেছে।

কৈলাস পর্বত তিব্বতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত, যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ হাজার ৪০০ মিটার ছাড়িয়ে যায়। এর নিকটে রয়েছে মানস সরোবর। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং তিব্বতি বন ধর্মীয় ঐতিহ্যে এই পর্বতকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।

হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুসারে, কৈলাস পর্বত শিব ও পার্বতীর আবাসস্থল। তিব্বতি বন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি আধ্যাত্মিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হিন্দু ও বৌদ্ধদের বিশ্বাস অনুযায়ী, কৈলাসের সঙ্গে পৌরাণিক মেরু পর্বতের সম্পর্ক রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘বর্তমান নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধ স্থগিতে সম্মত ইউক্রেন’

প্রতিবছর কৈলাস মানস সরোবরকে কেন্দ্র করে তীর্থযাত্রার আয়োজন করা হয়। ভারত সরকার জুন থেকে আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় কৈলাস মানস সরোবর তীর্থযাত্রার আয়োজন করে। নেপালের পথ ব্যবহার করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও তীর্থযাত্রার আয়োজন করে থাকে।

তীর্থযাত্রীরা সাধারণত কৈলাস পর্বতে আরোহণ করেন না। বরং তারা পর্বতটিকে ঘিরে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার পথ হেঁটে প্রদক্ষিণ করেন। এই যাত্রা সম্পন্ন করতে সাধারণত প্রায় তিন দিন সময় লাগে। হিন্দু ও বৌদ্ধরা সাধারণত ঘড়ির কাঁটার দিকে পর্বত প্রদক্ষিণ করেন, অপরদিকে বন ধর্মাবলম্বীরা বিপরীত দিকে প্রদক্ষিণ করেন।

বিশ্বাস অনুসারে, কৈলাস প্রদক্ষিণ করলে পাপ থেকে মুক্তি ও আধ্যাত্মিক শুদ্ধি অর্জন করা যায়। কাছের মানস সরোবরে কিছু হিন্দু তীর্থযাত্রী আধ্যাত্মিক শুদ্ধির অংশ হিসেবে স্নানও করেন।

এবারের আকস্মিক বন্যায় এই তীর্থযাত্রীদের মধ্যে অনেকেই নিখোঁজ হয়ে গেছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের অন্তত ১৭৮ জন রয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই তীর্থযাত্রায় ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকরাও নিখোঁজ রয়েছেন।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর তুরস্কের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত

আধ্যাত্মিক গুরু জগ্গি বাসুদেব, যিনি সদগুরু নামেও পরিচিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁর ইশা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কৈলাস থেকে ফেরার পথে ৭৭ জন তীর্থযাত্রী বন্যার সময় তিব্বতের গিরংয়ের একটি অভিবাসন কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন।

নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট বন্যা ও কাদার স্রোতে ইতোমধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিখোঁজ তীর্থযাত্রীসহ অন্যান্যদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুসলিম দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে নতুন আঞ্চলিক চুক্তির আহ্বান ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


মুসলিম দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে নতুন আঞ্চলিক চুক্তির আহ্বান ইরানের

ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মুসলিম দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নতুন আঞ্চলিক চুক্তি ও সহযোগিতার কাঠামো মুসলিম দেশগুলোর জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে সক্ষম হতে পারে।

ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে শনিবার প্রকাশিত বার্তায় গালিবাফ বলেছেন, ইরানে সুন্নি ও শিয়া মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য জাতীয় শক্তি ও নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি প্রমাণ করে যে বিদেশি শক্তিগুলো মুসলিম দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্ষম। সুতরাং, মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সদিচ্ছা, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা গড়ে তোলা উচিত।

গালিবাফের মতে, নতুন আঞ্চলিক চুক্তি ও ব্যবস্থাগুলো মুসলিম প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিদেশিদের পরিবর্তে নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করার সুযোগ দেবে। একই সঙ্গে, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবর্তে সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের পথ বেছে নেয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি মুসলিম ঐক্যের সুফল তুলে ধরেছে। মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিপক্ষের মোকাবিলা এবং আধিপত্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: তাসনিম নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে ট্রাম্পের চুক্তি, যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩১ এম


ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে ট্রাম্পের চুক্তি, যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করে একটি বড় চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এই চুক্তিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবে এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। পুরো চুক্তির নথি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

শুক্রবার রাতে ট্রাম্প এই চুক্তির কথা জানান। এতে উল্লেখ করা হয়েছে ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন, যেখানে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশটির তেলশিল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে, ভেনেজুয়েলা ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর রাজস্ব পেতে পারে।

চুক্তির শর্তানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার একটি বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে নতুন একটি কোম্পানি গঠন করেছে। এই কোম্পানিকে অনুন্নত তেলক্ষেত্রগুলোর অধিকার ১০০ বছরের জন্য প্রদান করা হয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন কোম্পানির কার্যকর উৎপাদনের ৫৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে। এই অংশের মধ্যে মালিকানার অংশীদারিত্ব এবং উৎপাদন খরচে তেল কেনার অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই ৫৫ শতাংশের মধ্যে কতটা মালিকানা এবং কতটা তেল কেনার অধিকার, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

চুক্তির আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো বিনিয়োগের অর্থের উৎস কী হবে। ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে উৎপাদন বাড়াতে কয়েক বছর এবং বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর কথা বললেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প সময়ে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি, ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ল্যাবের পরিচালক অ্যামি মায়ার্স জ্যাফে মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তি সহায়ক হতে পারে। তবে দ্রুত উৎপাদন বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা জ্বালানির দামে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না।

ভেনেজুয়েলায়ও এই চুক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির অনেকের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে এতদিন বলা হয়েছে যে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের মানুষের জন্য। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হচ্ছে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী রিকার্ডো হাউসমান চুক্তিটিকে ‘লজ্জাজনক চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এমন চুক্তি করার বৈধতা নেই।

যুক্তরাষ্ট্রেও এই চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থকেরা এটিকে ঐতিহাসিক চুক্তি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের পেছনে দেশটির তেলসম্পদ দখলের উদ্দেশ্য ছিল।

চুক্তির আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অজানা রয়ে গেছে। বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে কত অর্থ লাগবে এবং সেই অর্থ কে দেবে, সেটিও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্বের সঠিক কাঠামোও পরিষ্কার করা হয়নি।

ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় একমাত্র মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এক্সনমোবিলও কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও এত বড় বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এবং বিনিয়োগের ঝুঁকির কারণে বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো এই খাতে কতটা আগ্রহী হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্র:

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬ মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ এম


৬ মাসে ২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ৬ মাসের মধ্যে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়া শুরু করবে।

তিনি রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এ তথ্য প্রদান করেন।

বিস্তারিত আসছে...

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রত্যেক গুমের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ এম


প্রত্যেক গুমের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি গুমের ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি এই মন্তব্যটি করেছেন রোববার (৩০ আগস্ট) ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে, যা শনিবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশ পায়।

আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক মানুষ গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, "যারা গুমের শিকার এবং যারা এখন পর্যন্ত তাদের পরিবারের সদস্যদের সন্ধান পাননি, তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে, প্রত্যেকটি গুমের ঘটনার ন্যায়বিচার আমরা নিশ্চিত করব।" গুমের মতো অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের শিকার না হন। তিনি জানান, গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, "সমাজের যত বড় ব্যক্তি হোক, কাউকেই কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।" গুমের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কারাগারে পাঠানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রিগেডিয়ার আযমী, ব্যারিস্টার আরমান ও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের বিচার কার্যক্রমের আওতায় আছেন।

অন্যদিকে, গুমের শিকার প্রায় ২৫০ জনের পরিবারের অভিযোগ এসেছে। চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, "আমরা আশা করি এ বছরের মধ্যেই ২৫০ জন গুম পরিবারের সদস্যের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসব।"

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস রোববার পালিত হচ্ছে। জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবার তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারে না এবং বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, স্মরণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%