প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি গুমের ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি এই মন্তব্যটি করেছেন রোববার (৩০ আগস্ট) ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে, যা শনিবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশ পায়।
আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক মানুষ গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, "যারা গুমের শিকার এবং যারা এখন পর্যন্ত তাদের পরিবারের সদস্যদের সন্ধান পাননি, তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা এই প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে, প্রত্যেকটি গুমের ঘটনার ন্যায়বিচার আমরা নিশ্চিত করব।" গুমের মতো অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ গুমের শিকার না হন। তিনি জানান, গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, "সমাজের যত বড় ব্যক্তি হোক, কাউকেই কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।" গুমের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কারাগারে পাঠানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রিগেডিয়ার আযমী, ব্যারিস্টার আরমান ও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুমের বিচার কার্যক্রমের আওতায় আছেন।
অন্যদিকে, গুমের শিকার প্রায় ২৫০ জনের পরিবারের অভিযোগ এসেছে। চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, "আমরা আশা করি এ বছরের মধ্যেই ২৫০ জন গুম পরিবারের সদস্যের পক্ষ থেকে করা অভিযোগের তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসব।"
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস রোববার পালিত হচ্ছে। জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে, এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবার তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারে না এবং বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়।
জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, স্মরণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন