ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুলিশের পোশাক পরিবর্তন: গাঢ় নীল-হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরল


পুলিশের পোশাক পরিবর্তন: গাঢ় নীল-হালকা জলপাই শার্ট ও খাকি প্যান্টে ফিরল

বেশ কয়েকদিন ধরে আলোচনার পর অবশেষে পুলিশের পোশাকের পরিবর্তন আনুষ্ঠানিকভাবে করা হয়েছে। নতুন পোশাকের রঙ হচ্ছে গাঢ় নীল এবং হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট, পাশাপাশি থাকবে খাকি রঙের প্যান্ট।

আজ বুধবার, বিএনপি সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পর, গাঢ় নীল ও হালকা জলপাই রঙয়ের শার্ট এবং খাকি রঙের প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে দেখা গেছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) পরিচালিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।

আরও পড়ুন: ক্যানসার সচেতনতায় বাকৃবিতে সিসিআরটিবির ক্যাম্পাস চ্যাপ্টার গঠনের উদ্যোগ, আবেদন ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত

অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে গাঢ় নীল শার্ট ও খাকি প্যান্ট পরা মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে হালকা জলপাই রঙের শার্ট এবং খাকি প্যান্ট পরিধানে দেখা যায়। ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ জানান, আজ থেকে নতুন পোশাক পরা শুরু করেছে পুলিশ সদস্যরা। তবে, সকল পুলিশ সদস্যের কাছে নতুন পোশাক পৌঁছাতে এখনও কিছু সময় লাগবে। পর্যায়ক্রমে সবাই নতুন ইউনিফর্ম পাবেন, এবং যারা ইতোমধ্যে পেয়েছেন তারা এখন নতুন পোশাকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

২৪ সালের ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে সংস্কারের দাবি ওঠে। পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের দাবিও উঠেছিল। অতীতে, ২০ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশ ইউনিফর্মের পোশাকের রঙ আইরন বা লোহা-ধূসর এবং প্যান্টের রঙ কফি শেল বা কফি-বাদামি ধূসর ছিল। পরবর্তীতে ২৫ নভেম্বর পুলিশ নতুন পোশাকে মাঠে কাজ শুরু করে। তবে, সেই পোশাকের বিষয়টি নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা যায়। অনেকেই পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। পোশাকের রঙ সম্পর্কেও প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিতেই নতুন করে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। ১৮ জুন পুলিশ সদর দপ্তর পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন প্রজ্ঞাপনে পুলিশের শার্ট ও প্যান্টের পাশাপাশি জার্সি, কার্ডিগান, পুলওভার, জ্যাকেট, নারীদের পোশাক, মাথার আবরণ এবং পূর্ণহাতা পোশাকের রঙ-সংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কথাগুলোতে বলা হয়েছে, আগে লোহা-ধূসর রঙের শার্টের উপরে লোহা-ধূসর রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার ব্যবহারের কথা ছিল। তবে, নতুন বিধানে সেটির পরিবর্তে নীল রঙের শার্টের ওপর গাঢ় নীল রঙের ফুলহাতা জার্সি, কার্ডিগান বা পুলওভার যুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আজ যেসব দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা পুলিশ ও এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র‌্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ক্ষেত্রে ট্রাউজার হবে খাকি রঙের টিসি টুইল কাপড়ের। শার্ট হবে গাঢ় নীল রঙের টিসি প্লেইন ফেব্রিক কাপড়ের। সাধার্য হবে শার্টের সামনে চারটি পকেট এবং সামনের দিকে সমদূরত্বে সাতটি বোতাম থাকবে।

নতুন প্রজ্ঞাপনে নারী পুলিশের পোশাক নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। নারীরা চাইলে শাড়ি পরতে পারবেন, জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে গাঢ় নীল ব্লাউজ পরিধানের অনুমতি রয়েছে। মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে হালকা জলপাই রঙের ব্লাউজ পরার কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নারী পুলিশ সদস্যরা চাইলে মাথার আবরণ ব্যবহার করতে পারবেন। ট্রাফিক ইউনিটের নারী পুলিশ সদস্যরাও বছরের বিভিন্ন সময়ে পূর্ণহাতা শার্ট বা ব্লাউজ পরতে পারবেন। গর্ভাবস্থায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানের অনুমতি নিয়ে সাধারণ পোশাক পরিধানের বিষয় রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগ কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়: মাহদী আমিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে রেকর্ড, দেশে এলো ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ এম


২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে রেকর্ড, দেশে এলো ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার

 

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে। আগের অর্থবছরের ১২ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) ১২ মাসে দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বেশি রেমিট্যান্স এক অর্থবছরে আগে কখনো আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মন্তব্য অনুযায়ী, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর সুযোগ অনেকাংশে প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেল ব্যবহারের উৎসাহিত করেছে। ফলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

এদিকে, অর্থবছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে আগের বছরের জুন মাসের তুলনায়ও রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। তবে ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য প্রাথমিক হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক কিছুটা বাড়তে পারে। এর পূর্বে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের অক্টোবরে, তখন রেমিট্যান্স আসে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২ দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮২৩ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে জুন মাসে রেমিট্যান্সে ০ দশমিক ৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

এদিকে, ৩০ জুন একদিনে দেশে ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। কিন্তু এটি একটি সাময়িক (প্রভিশনাল) হিসাব। ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের চিত্রে দেখা যায়, জুলাইয়ে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং জুনে ২৮০ কোটি ৬ লাখ ডলার।

উল্লেখ্য, গত মে মাসজুড়ে দেশে ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। যা ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

এর আগে, সর্বশেষ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামে। তারপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ পতনের সময় ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়নে নেমে যায়। গত ১৪ জুন এডিবির ১০০ কোটি ডলার ঋণ যোগ হওয়ার পর ৩১ বিলিয়নের ঘর ছাড়িয়েছিল। আইএমএফের ঋণের শর্ত মেনে ২০২৩ সালের জুন থেকে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ হিসেবে ওই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। তবে অর্থপাচার বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে সেখান থেকে দ্রুত কমতে থাকে। একই সঙ্গে ওই সময়ে ৮৪ টাকা থেকে প্রতি ডলারের দর বেড়ে উঠে যায় ১২০ টাকায়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ কমে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নামে।

২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ রয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৫ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫৩০ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নরসিংদীতে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নিল স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ এম


নরসিংদীতে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নিল স্থানীয়রা

নরসিংদী রায়পুরায় সেলিম মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি পুলিশ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয়রা। বুধবার (০১ জুলাই) বিকেলে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

আসামি সেলিম মিয়া (৪৫) রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামের মৃত তায়েব উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, বাড়ি পুড়ানো, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারিসহ নানা অভিযোগে এক ডজন মামলা ছিল। বিকেলে শ্রীনগর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে পুলিশ সেলিম মিয়াকে নিয়ে গাড়িতে থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পুলিশ যখন সায়দাবাদ ফেরিঘাটে পৌঁছায়, তখন স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তার কাছ থেকে আসামি সেলিমকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনার সময় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।

এদিকে, রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন নুসরাত জাহান নিপা জানান, বিকেলে আব্দুল আলিম নামক একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তিনি বলেছেন যে, আসামিকে ধরতে গিয়ে আহত হয়েছেন। আসামি তাকে ইট দিয়ে ডান হাতের শোল্ডার জয়েন্টের একটু নিচে আঘাত করে। তাকে এক্স-রে করতে দেওয়া হয়েছে, পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, সেলিমের বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ তিনটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ সায়দাবাদ এলাকায় গেলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়। স্থানীয় লোকজনের ভিড়ের মধ্যে আসামি সেলিম মিয়াকে গ্রেফতারের আগেই তিনি পালিয়ে যান। এই সময় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোকসান কমাতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১টি ট্রেন বেসরকারিকরণের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১১ এম


লোকসান কমাতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১টি ট্রেন বেসরকারিকরণের উদ্যোগ

লোকসান কমাতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ১১টি ট্রেন বেসরকারিকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বেশির ভাগ আন্তঃনগর ও লোকাল মেইল ট্রেনগুলো আয়ের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেকও আয় করতে পারছে না। বরং দিনে দিনে শুধুই লোকসান গুনছে। এর পাশাপাশি, টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা টাকার বেশির ভাগ ট্রেনের দায়িত্বরতদের পকেটে চলে যাচ্ছে। যদিও পশ্চিমাঞ্চল থেকে চলাচলকারী ৬৮টি ট্রেনের মধ্যে কোনোমতে লাভের মুখ দেখছে ১২টি ট্রেন। আর অন্য ট্রেনগুলোর আয় পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় কম। এমন অবস্থায়, আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মাত্র ১২টি ট্রেন লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। যাত্রীর চাহিদা বেশি থাকা ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী-খুলনা রুটে ওই ট্রেনগুলো চলাচল করে। এর মধ্যে পদ্মা, সিল্কসিটি, ধূমকেতু, বনলতা, সাগরদাড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য। কিন্তু মেইল ও কমিউটার ট্রেনগুলোতে লোকসান গুনতে হচ্ছে দিনের পর দিন। মূলত স্বল্প ভাড়া ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে বেশির ভাগ ট্রেন লোকসানে চলছে। জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ও অবকাঠামোগত ব্যয় বেড়ে যাওয়াতে নষ্ট হচ্ছে অনেক ট্রেনের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য।

সূত্র জানায়, লোকসানে ট্রেন চললেও আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের স্বার্থে সেগুলো চালু রাখা হচ্ছে। কারণ রেলওয়ে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি জনসেবামূলক পরিবহনব্যবস্থাও। বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের আওতায় মোট ৬৮টি ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে ৩২টি আন্তঃজেলা ও ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলো পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে চলাচল করে। আর আন্তঃজেলা ট্রেনগুলো পশ্চিমাঞ্চল-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে চলাচল করে। তাছাড়া ৬টি আন্তঃনগর কমিউটার ট্রেনও রয়েছে। কিন্তু চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চল রেলের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮২৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ধরা হলেও এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৫৬৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আয় হয়েছে। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ১৫৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। কিন্তু সেখানে ৬২১ কোটি ৩১ লাখ টাকা আয় হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ট্রেনে যাত্রী ও মালপত্র পরিবহন থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল এক হাজার ৩৭৭ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, কিন্তু আয় হয়েছে ৬৪৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

সূত্র আরো জানায়, পশ্চিমাঞ্চলের মেইল ও লোকাল ট্রেনগুলোতে বিপুলসংখ্যক যাত্রী উঠলেও তাদের বেশির ভাগই টিকিট কাটে না। আবার টিকিট চেক করার জন্য ট্রেনে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়, তাঁরা যাত্রীদের কাছ থেকে যে টাকা আদায় করে, সেই টাকাও পুরোপুরি জমা দেয় না। এর ফলে দিনের পর দিন ওই ট্রেনগুলো লোকসান গুনছে। আর এই লোকসান কমাতে, ওই ট্রেনগুলোর মধ্যে আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারি খাতে ইজারা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া আন্তঃনগর ও আন্তঃজেলা ট্রেনেও বিপুল পরিমাণ যাত্রী প্রতিদিন টিকিটবিহীন যাতায়াত করছে। সেখান থেকেও আয়ের একটি অংশ টিকিট চেকারদের পকেটে চলে যায়। ফলে কোনো কোনো বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও আয় হচ্ছে না।

এদিকে, এই প্রসঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনসার আলী জানান, “টিকিট থেকে রেলওয়ে পর্যাপ্ত আয় করতে পারছে না।” বিশেষ করে লোকাল ও মেইল ট্রেনগুলোতে যাত্রীরা টিকিট কাটতেই চায় না। ফলে আরো ১১টি ট্রেন বেসরকারীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য না দেয়ায় চিকিৎসকের ছয় মাসের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ এম


ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য না দেয়ায় চিকিৎসকের ছয় মাসের কারাদণ্ড

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি গণধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য না দেয়ার কারণে মামলার সাক্ষী ডা. সানজিদা ইসলামকে জরিমানা অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেছে আদালত। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরের সময় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই আদেশ দেন। চিকিৎসক সানজিদা ইসলাম বর্তমানে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি গণধর্ষণ মামলায় ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করে মেডিকেল সার্টিফিকেট দাখিল করেছিলেন ডা. সানজিদা ইসলাম। পরে আদালত এই মামলার জন্য সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডা. সানজিদা ইসলামকে বারবার তলব করে। কিন্তু তিনি আদালতে কখনো আসেননি। গত ২৯ জুন আদালত ওই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। সেই নোটিশে তাকে ০১ জুলাই আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক এই নির্দেশ পালন করেননি। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৪৮৫ ধারার বিধান অনুযায়ী আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে দুই শত পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সেই জরিমানার টাকা পরিশোধের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। জরিমানার টাকা না দেয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৭ ধারার ভিত্তিতে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। আদালতের সরকারের পক্ষের আইনজীবী (পিপি) আইনজীবী ফজলুল হক জানান, 'সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির না হওয়ায় চিকিৎসককে ২৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। কিন্তু নির্ধারিত অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%