ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
মতবিনিময় সভায় সেলিম উদ্দিন

কওমি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা উন্নয়নে সরকারের তেমন পদক্ষেপ নেই


কওমি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা উন্নয়নে সরকারের তেমন পদক্ষেপ নেই

সরকারের শিক্ষাখাতে বিপুল বাজেট বরাদ্দ থাকলেও কওমি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার উন্নয়ন নিয়ে সরকারের উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেই, এই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির এবং ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি জানান, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চরম বৈষম্য বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উপলক্ষে কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার গুণী উস্তাদ ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তরুণদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, কোরআনের চর্চা এবং মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ঢাকাকে মসজিদের নগরী বলা হয় এবং এই নগরের উন্নয়নে আলেম-ওলামা ও হাফেজদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: ২০২৮ সাল থেকে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর প্রস্তুতি শুরু

তিনি সতর্ক করে বলেন, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আলেম সমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। সেলিম উদ্দিন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, হাফেজদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি শিক্ষা খাতের বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে কওমি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় বিপুলসংখ্যক এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কথা উল্লেখ করেন। অথচ তাদের উন্নয়নে পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় বাজেট ও কার্যকর পরিকল্পনার অভাব আছে।

সরকারকে কওমি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় সীমান্তে চলমান পুশইন ইস্যুতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকার সমালোচনাও করেছেন। জাতীয় সংসদে পর্দা (হিজাব) নিয়ে কটাক্ষের ঘটনার নিন্দা জানান।

সেলিম উদ্দিন উল্লেখ করেন, জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশে সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনায় আরও দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: রিজভী: আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ নেই

তিনি জানান, ‘হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকাধীন অন্তত এক লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। হাফেজ ও ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমাজ ও নগর উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সেলিম উদ্দিন বলেন, এই প্রতিযোগিতায় ওমরাহ হজসহ মোট ৪৫ লাখ টাকার পুরস্কার রাখা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের কুরআন শিক্ষায় আরো উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ রেজাউল করিম, এবং হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তা শায়খ হাফেজ আব্দুল হকসহ আলেম সমাজের সকল স্তরের প্রতিনিধিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নামাজ পড়লে বাংলাদেশ-পাকিস্তানে গিয়ে পড়ুন: বিজেপি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ এম


নামাজ পড়লে বাংলাদেশ-পাকিস্তানে গিয়ে পড়ুন: বিজেপি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২১ জুন পশ্চিমবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন। তার অংশগ্রহণের কথা রয়েছে কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিতব্য মূল কর্মসূচিতে। অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদেরও দেখা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে রেড রোড এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলমান থাকায় ১৪ জুন রাত থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

তবে এই বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক ঈদে রেড রোডে নামাজ আদায়ের অনুমতি না দেওয়ার ফলে মুসল্লিদের ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যেতে বলা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য একই স্থানে অনুমতির যৌক্তিকতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছেন। কিছু ইমাম ও ধর্মীয় নেতাও এ বিষয়ে জনসম্মুখে আপত্তি জানান।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করাটা স্বাভাবিক। তার দাবি, যেখানে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তুলনামূলক কম হবে, সেখানেই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

কিন্তু ঈদের নামাজের জন্য রেড রোড ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি কঠোর মন্তব্য করেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কর্মসূচির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হতেই পারে। একই সঙ্গে তিনি বিতর্কিত ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, যারা আপত্তি করছেন তারা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যান, সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবেনা। এখানে এসব চলবে না। সরকার পাল্টে গেছে। এগুলো বন্ধ করার জন্য লোক পাল্টেছে, আর এগুলো বন্ধ হবেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অসম্ভব একটা চাপ অনুভব করছি দায়িত্বে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ এম


অসম্ভব একটা চাপ অনুভব করছি দায়িত্বে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ‘অসম্ভব চাপ’ অনুভব করছেন নিজের দায়িত্বে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, একজন (সাংবাদিক) তার বক্তব্যে বলেছেন, উনি নির্বাচনের পরে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন এবং মানুষের চোখে-মুখে খুশি দেখেছেন। তাঁর মতে, উনি মনে করেন, একই জিনিস উনি নিজেও দেখেছেন। কিন্তু তারপরেও, অবশ্যই তিনি একটি দায়িত্বের চাপ অনুভব করছেন। এর কারণ হলো, এখানে প্রচুর সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একই সাথে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাই উনি দায়িত্বে ‘অসম্ভব চাপ’ অনুভব করছেন।

বুধবার বিকেলে ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস এই খবরটি জানায়।

নিজের বাবা ও বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কয়েকদিন আগে আমি অফিস থেকে বাসায় যাচ্ছি, তখন আমার সাথে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বলছিলাম, আব্বা একদিন বলেছিলেন যে, যদি দিনটা ৪৮ ঘণ্টা হতো, তাহলে আমরা আরো ভালো কাজ করতে পারতাম।’’

তিনি উল্লেখ করেন, আব্বার মতো তিনি বলছিলেন যে, দিনের অর্থাৎ কখন তিনি অফিসে ঢুকছেন এবং কখন সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, এটি বুঝতেই পারছেন না। তিনি বলেন, ‘‘আমি দম ফেলানোর টাইমও পাচ্ছি না।’’ তাই, তিনি মনে করেন, যদি দিনটি ২৪ ঘণ্টার পরিবর্তে ৪৮ ঘণ্টার হতো তবে এটি আরো ভালো হতো।

প্রতিহিংসার মানসিকতা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে प्रधानमंत्री বলেন, ‘‘আমি জেলের মধ্য থেকে এসেছি, আমি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। এক্সরে করলে হয়ত দেখা যাবে, আমার পিঠের হাড্ডিটা বাঁকা হয়ে রয়ে গেছে। কারণ, এই সমস্যাটি যথাযথ সময়ে চিকিৎসা করা হয়নি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি যদি এখন কাউকে দায়ী করে বেড়াই, তাতে আমার হাড্ডি জোড়া লাগবে না। আমি এখনও যেই পেইনটা মাঝে মাঝে অনুভব করি, আমার সেই পেইনটা চলে যাবে না। তাই, আমি মনে করি, ক্ষতির পরিবর্তে দেশের কল্যাণের কথা ভাবতে হবে।’’

তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে তাদের শত্রুতা নেই এবং এ কথা বিএনপি সরকার বারবার প্রমাণ করেছে। ‘‘বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। সরকারের ভুল হতে পারে, তাই গঠনমূলক আলোচনা হওয়া উচিত।’’

গণমাধ্যমের প্রতি সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আপনারা আমাকে অনেক সাহায্য করতে পারেন। শুধু সরকার একা পারবে না। আপনার সহযোগিতা আমার প্রয়োজন। আপনার সহযোগিতা না পেলে আমি বুঝতে পারব না, যে কাজটি ভালো হচ্ছে না বা খারাপ হচ্ছে।’’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

প্রথমবার মুখোমুখি পর্তুগাল ও কঙ্গো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৬ এম


প্রথমবার মুখোমুখি পর্তুগাল ও কঙ্গো

 

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ আগে থেকেই তাদের দখলে রয়েছে। এখন পর্তুগালের জন্য বাকি মাত্র বিশ্বকাপ ট্রফি। বর্ণিল এবং সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে পৌঁছানো প্রিয় সতীর্থ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দোকে বিশ্ব শিরোপার স্বাদ উপহার দিতে মরিয়া হয়ে আছে পুরো পর্তুগিজ টিম। তাদের সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাবেক তারকা ফুটবলার ডিয়েগো জোটার স্মৃতিও তাদের প্রেরণা জোগাচ্ছে। বিশ্বকাপের সেই সোনালি ট্রফির সন্ধানে আজ মাঠে নামছে পর্তুগাল। আজ বুধবার রাত ১১টায় পর্তুগালের এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হতে যাচ্ছে। গ্রুপ ‘কে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে আফ্রিকার পরাশক্তি ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (কঙ্গো ডিআর)। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে; কেননা আন্তর্জাতিক ফুটবল মঞ্চে এটি প্রথমবারের মতো হবে যে চলমান দুটি দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে।

নথিতে-কলমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বাধীন পর্তুগাল দল এখানে নিরঙ্কুশ ফেভারিট। যদি কঙ্গো ডিআর কোনো অঘটন ঘটাতে সক্ষম হয়, তবে সেটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক হিসেবে বিবেচিত হবে। ‘সেলেসাও দাস কুনাস’ নামকরণ করা পর্তুগাল দলে তারকা ফুটবলারের অভাব নেই। স্কোয়াডের গভীরতা এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতার কারণে এবারের গ্রীষ্মে অনেকেই তাদের ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে মনে করছেন। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস পর্তুগালের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। ১৯৬৬ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তাদের সাফল্য ছিল তৃতীয় স্থান অর্জন; এরপর ২০০৬ সালে তারা চতুর্থ স্থান পেয়েছিল এবং সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিয়েছিল। ২০১৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে থাকলেও, বিশ্বকাপের এই সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরতে চান দলের মহানায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে পর্তুগাল দারুণ ফর্মে রয়েছে। বাছাই পর্বে আর্মেনিয়াকে ৯-১ গোলে পরাজিত করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র, চিলি এবং নাইজেরিয়াকে হারিয়ে তারা টানা তিন জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে। তবে গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি তারা রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়েছিল, যা দলের রক্ষণভাগ এবং বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর ক্ষমতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রেখেছে।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ ৫২ বছর পর তারা বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। গত মার্চ মাসে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে আক্সেল তুয়ানজেবের অতিরিক্ত সময়ের গোলে জ্যামাইকাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে তারা সেবাস্টিয়ান দেসাব্রের দলের জন্য রূপকথার মতো একটি টিকিট নিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ের কঙ্গো ডিআর দলটি বেশ গোছানো ফুটবল খেলছে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে শেষ ১৬তে পৌঁছানো দলটি তাদের শেষ চার ম্যাচের দুটিতে জয় পেয়েছে এবং মাত্র একটিতে পরাজিত হয়েছে। জুনের শুরুতে তারা একটি প্রীতি ম্যাচে শক্তিশালী ডেনমার্কের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে, যদিও শেষ ম্যাচে তাদের চিলির কাছে ২-১ ব্যবধানে পরাজয় ঘটেছে।

পর্তুগাল এবং কঙ্গো ডিআর ছাড়াও এই গ্রুপে কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তান উপস্থিত রয়েছে। বর্ধিত দল নিয়ে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে কঙ্গো ডিআরের মতো দলের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে গেছে। গ্রুপে অন্তত একটি জয় লাভ করলেও তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দল হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

পর্তুগাল অবশ্যই গ্রুপ ‘কে’-এর সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। তাই কঙ্গোর নকআউট পর্বে যাওয়ার জন্য আসল লড়াইটি হবে আগামী ২৮ জুন ভোরে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে। কিন্তু তার আগে আজ বুধবার হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের সামনে কঙ্গোর রক্ষা প্রাচীর কেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের ক্ষতি সত্ত্বেও পারমাণবিক আলোচনায় আত্মবিশ্বাসী ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ এম


যুদ্ধের ক্ষতি সত্ত্বেও পারমাণবিক আলোচনায় আত্মবিশ্বাসী ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আগে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে তুলে ধরছে ইরান। যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও দেশটির নেতারা এই সমঝোতাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।

যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক সমঝোতার পর ইরানের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সামরিক কর্মকর্তা এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা একে দেশের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরান চূড়ান্ত বিজয়ের পথে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

একই সঙ্গে সরকারের কার্যক্রম তদারককারী শক্তিশালী পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেঘ আমোলি লারিজানি বলেন, ইরানিরা নতুন করে প্রতিরোধের চেতনা প্রদর্শন করেছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।

তবে বাস্তবতার দিকে তাকালে, যুদ্ধের সময় ইরান তাদের বেশ কয়েকটি শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হারিয়েছে। দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নৌ অবরোধের কারণে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। তবুও দেশটির নেতৃত্বের বিশ্বাস, চুক্তির শর্তাবলি যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্য ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ এবং ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ থেকে অনেক দূরে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। কিছু বাস্তববাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যও ইরানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করছে। ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন এবং বর্তমান ইরানি নেতৃত্বকে তুলনামূলকভাবে ‘বাস্তববাদী’ বলে উল্লেখ করেছেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করা হতে পারে, যা যুদ্ধের আগে প্রচলিত ছিল না।

মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইরান বিশেষজ্ঞ মেহরজাদ বোরুজেরদি মন্তব্য করেছেন, সাম্প্রতিক চুক্তি ইরানকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। এত বড় সামরিক ক্ষতির পরও কূটনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার এমন উদাহরণ খুব কম দেখা যায়।

জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের গবেষক হামিদরেজা আজিজি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ভূমিকা এখন কার্যত স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোও সংঘাতের বদলে সমঝোতার পথ খুঁজছে।

তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় লেবাননের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। তেহরানের দাবি, চুক্তির আওতায় লেবাননে সংঘাত কমানোর বিষয় রয়েছে, যদিও ইসরাইল এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছে।

এদিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ইস্যুগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে কী ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ হবে তা পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহজে ছাড় দিতে রাজি হবে না। ফলে আসন্ন পারমাণবিক আলোচনা হবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্থায়িত্ব এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রকৃত পরীক্ষা।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%