সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩৮ পি.এম
ত্রিপুরা পল্লী, একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। বিদ্যুতের আলো এখানেও পৌঁছায়নি। শিশুদের স্কুলে যেতে দুই ঘণ্টা হাঁটতে হয়। পানির জন্যও তাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়। সপ্তাহের একটি দিন, বৃহস্পতিবার, ফসল বিক্রি করেই তাদের জীবন চলে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের ত্রিপুরা পল্লীর জীবনযুদ্ধের চিত্র এটি।
ত্রিপুরা পল্লীতে বিদ্যুতের আলো এখনও আসেনি। সন্ধ্যা হলে পাহাড়ের কোলঘেঁষা ঘরগুলো নিস্তব্ধ হয়ে যায়; সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে যেন জীবনও ঢেকে যায় এক গভীর অন্ধকারে। যেসব পরিবারের সামর্থ্য রয়েছে, তারা সোলার প্যানেল বসিয়ে বৈদ্যুতিক বাতির ক্ষীণ আলো জ্বালিয়েছে—এই আলো যেন অন্ধকারের বিরুদ্ধে একটি ক্ষুদ্র প্রতিবাদ।
প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলোর সন্ধানে হাঁটতে হয় প্রায় দুই ঘণ্টা। পাহাড়ি পথ, ভেজা মাটি, কখনো কাঁটাঝোপ—এসব পেরিয়ে তারা স্কুলে পৌঁছায়।
রাতের পড়াশোনা তাদের কাছে যেন একটি স্বপ্ন; সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের ঘুমিয়ে পড়তে হয়। কারণ অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করার মতো আলো তাদের নেই।
নিত্য ব্যবহারের পানির জন্য তাদের যেতে হয় অনেক দূরে। পাহাড়ি ছড়াই তাদের একমাত্র ভরসা। শিশুদের কাঁধে, মায়েদের কোমরে জলের পাত্র—এ দৃশ্য সেখানে প্রতিদিনের। একটু পানির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয়। কখনো ছড়ার স্রোত শুকিয়ে গেলে জীবন যেন থমকে দাঁড়ায়।
তবুও তাদের এই জীবনেও আনন্দের দিন আসে—প্রতিটি বৃহস্পতিবার। কারণ এই দিনেই তারা সংগৃহীত ফসল বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। কাঁধে ফসলের ঝুড়ি, পায়ে পাহাড়ি পথ—বৃহস্পতিবারের সূর্য তাদের কাছে যেন একটুখানি আশার বার্তা বয়ে আনে। বিক্রির টাকায় সংসারের প্রয়োজন মেটে; সেই টাকায় কখনো আসে এক মুঠো লবণ, কখনো একটি খাতা, কখনো বা শিশুর মুখে একটুখানি হাসি।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বলেন, "এলাকাটি খুবই দুর্গম, এখানে বিদ্যুৎসহ কোনো নাগরিক সুবিধা নেই। পানির ব্যবস্থাটাও খুবই দুরূহ। ১৯৮৬ সাল থেকে তারা এখানে বসবাস করছে। এই ত্রিপুরা পল্লীর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। সরকারি ভাবে যা করার করবো আমরা।"
উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ মোহাম্মদ বলেন, "আলো নেই, পানি নেই, যোগাযোগ নেই—তবুও মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম আছে, আছে স্বপ্ন দেখার সাহস। সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগে বাড়ির পাশের খেত থেকে সবজি আনতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চন্দ্রবানু (৫২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় মাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মেয়ে ডলি (২৬) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের মতইন গ্রামের মনু মেম্বারের বাড়ির পাশে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের খেত থেকে সবজি আনতে গিয়ে সেচপাম্পের তারে পা পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন চন্দ্রবানু। এ সময় মাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মেয়ে ডলিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে দুজনকে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চন্দ্রবানুকে মৃত ঘোষণা করেন। ডলির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সেনবাগ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম মন্তব্য করেছেন যে, বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবাধ্য হয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, "তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ।" জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে, এখন থেকেই পরিশ্রম করা প্রয়োজন। বাবা-মা ও শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে এবং তাঁদের উপদেশ মেনে চলতে হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সরকারি মুকসুদপুর কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার মিজানুর রহমান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার এম এ নাঈম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম রাজু, মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল কাইয়ুম শরিফ, সরকারি মডেল এসজে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুনিল চন্দ্র মন্ডল, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিরু মিয়া, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুর ইসলাম রোমান, লোহাচুড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ওহিদুজ্জামান, মৌলভী আ. হাই মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন।
নওহাটা এআরএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সমুজিত পাল, তাসফিয়া সাফারী সাফা।
অনুষ্ঠানে মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী মোট ৫৫ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম মিরসরাই জোরারগঞ্জ থানাধীন মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরের টিকেট কাউন্টরের সামনে সাধারণ চিকিৎসা সেবা প্রার্থীগণ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট ক্রয়ের সময় রোগী ছদ্মবেশে ১০/১১ জন মহিলা লাইনে দাঁড়াইয়া ভিড় ও ঠেলা ধাক্কা শুরু করে। ভিড়ের মধ্যে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা তিনজন মহিলার গলায় পরিহিত ০৩টি স্বর্ণের চেইন ওজন অনুমান ১৭ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনার সংবাদ পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় ঘটনাস্থল হতে ঘটনার সাথে জড়িত চোর চক্রের ০৭ জন সদস্য গ্রেফতার করেন
এবং চুরি যাওয়া ৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে।
আসামীদের বিরুদ্ধে একাধিক চুরির মামলা রয়েছে বলে জানায়, জোরালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ, মোহাম্মদ আব্দুল হালিম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর থেকে রাজধানীর মগবাজারের দিকে যাওয়ার পথে হৃদয় আনসারী (২৫) নামের এক তরুণের অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপহরণকারীদের বিভিন্ন নম্বরে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরও তার সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় র্যাব-৩ এবং কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।
২৪ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হৃদয় গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন সফিপুর এলাকা থেকে মগবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত সাড়ে ৯টায় পরিবারের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। এরপর থেকে হৃদয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন রোববার ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, হৃদয় তাঁদের জিম্মায় রয়েছে। তাকে মুক্তি দিতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হৃদয়ের কথাও বলানো হয়।
পরিবারের দাবি, প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এরপর জীবননাশের হুমকি দিয়ে আরও ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। পরে রাজধানীর হাতিরঝিলের ২ নম্বর ব্রিজে গিয়ে হৃদয়কে নিয়ে আসতে বলা হয়। কিন্তু পরে অপহরণকারীরা আরও পাঁচ হাজার টাকা নগদে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করার পরও হৃদয়কে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় হৃদয়ের খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পাশাপাশি র্যাব-৩-এর খিলগাঁও ক্যাম্পেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তবে হৃদয় আনসারীর বর্তমান অবস্থান এবং তাকে অপহরণের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনও জানা যায়নি।
মুক্তিপণ দেওয়ার পরও স্বজনের সন্ধান না পাওয়ায় হৃদয়ের পরিবার উৎকণ্ঠায় রয়েছে। তারা দ্রুত হৃদয়কে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ