০১:৫০ এম
রাজশাহীর এক সরকারি কর্মকর্তা মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণে তার দুই পা হারিয়েছেন। এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানোর সময় ঘটে এই দুর্ঘটনা। এলাকাবাসীর মধ্যে এটি শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাইপাস মহাসড়কের কাশিয়াডাঙ্গা কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ওই কর্মকর্তা হলেন, পবা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও এইচএসসি পরীক্ষার কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার মো. সুলতানুল ইসলাম (৫৪)। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতের কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাঁটুর নিচ থেকে তার দুই পা কাটা পড়েছে। এছাড়া তার মাথার পেছনের অংশ ও বাম চোখেও গুরুতর আঘাত রয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা থেকে এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে সরকারি মোটরসাইকেলে পরীক্ষাকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হন সুলতানুল ইসলাম। কাশিয়াডাঙ্গা কলেজের সামনে পৌঁছালে একটি ট্রাক বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে তিনি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে যান এবং ট্রাকটি তার দুই পা ও মোটরসাইকেলের ওপর দিয়ে চলে যায়। চালক ট্রাকটি ফেলে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
দুর্ঘটনার পরপরই কাশিয়াডাঙ্গা কলেজসংলগ্ন এলাকায় একটি বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল যে, কলেজের সামনে পুলিশ বক্স থাকলেও কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা বলেন, স্পিড ব্রেকার, জেব্রা ক্রসিং ও সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডের অভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার করতে হয়। তাদের দাবির পর প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। বিক্ষোভকারীদের তিনি আশ্বস্ত করেন যে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আহত কর্মকর্তার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার থেকেই স্পিড ব্রেকার নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় আহত কর্মকর্তার চিকিৎসা এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।
এদিকে আহত কর্মকর্তার ছোট বোনের স্বামী আজাহার ইসলাম বাদী হয়ে ট্রাকচালক রতন রায়ের বিরুদ্ধে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় সড়ক পরিবহন আইনের অধীনে মামলা করেছেন। পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে এবং চালককে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আলী বলেন, দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। চালককে গ্রেপ্তার এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন