ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রতন কাহারের বিরুদ্ধে ‘বড়লোকের বেটি লো’ গান বিকৃতির অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ


রতন কাহারের বিরুদ্ধে ‘বড়লোকের বেটি লো’ গান বিকৃতির অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ

‘বড়লোকের বেটি লো’—বাংলার লোকসংগীতের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গান নিয়ে আবারও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গানটি বিকৃত করে প্রকাশের অভিযোগে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত শিল্পী রতন কাহার সাইবার ক্রাইম সেলের সাহায্য নিয়েছেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজ থেকে তার সৃষ্ট গানটি বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, গানটির স্রষ্টা হিসেবে রতন কাহারের নামও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

রতন কাহার তার সংগীতজীবন শুরু করেছিলেন ভাদু গান গেয়ে। পরে তিনি নিজেই গান লেখা এবং সুর করার কাজ শুরু করেন। ১৯৭২ সালে তার লেখা ‘বড়লোকের বেটি লো’ গানটি প্রথম গেয়েছিলেন শিল্পী স্বপ্না চৌধুরী। এরপর থেকে গানটি ধীরে ধীরে মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে ২০২০ সালে বলিউডের জনপ্রিয় র‍্যাপার বাদশার ‘লাল গেন্দা ফুল’ গান প্রকাশিত হওয়ার পর ‘বড়লোকের বেটি লো’ নতুন করে আলোচনায় আসে। বাদশার গাওয়া গানটির সঙ্গে রতন কাহারের সৃষ্টির মিল নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার পর বাদশা প্রকাশ্যে রতন কাহারের কাছে ক্ষমা চান। তিনি শিল্পীকে পাঁচ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

বাদশা তখন বলেছিলেন, ‘আমি জানি রতন কাহার একজন মহান শিল্পী। শুনেছি ওনার অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো নয়। আমি ওনাকে সম্মান দিয়ে সাহায্য করতে চাই।’

কিছু বছর পর, এবার ফের নিজের গান নিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন রতন কাহার। তার ছেলে দেবাশিস কাহারও এ ঘটনায় সক্রিয় হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পেজ থেকে গানটির বিকৃত সংস্করণ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, গানের স্রষ্টার নাম বাদ দেওয়ায় বিষয়টি আরো গুরুতর বলে মনে করছেন তারা।

বীরভূমের সিউড়ির বাসিন্দা রতন কাহার দীর্ঘ সংগীতজীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও লোকসংগীতের চর্চা চালিয়ে গেছেন। ‘বড়লোকের বেটি লো’ গানটি আজও বাংলার মানুষের মুখে মুখে ফেরে। সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদ্মশ্রী সম্মানও পেয়েছেন এই শিল্পী। তবে সম্মান ও পরিচিতি পাওয়ার পরও জীবনের একটি দীর্ঘ সময় তিনি আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে কাটাতে বাধ্য হয়েছেন।

আরও পড়ুন: তানজিন তিশার ক্ষোভ, ফ্যাশন ডিজাইনারের বিরুদ্ধে মামলার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন তুললেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে সুইস প্রেসিডেন্টের সফর, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


ভারতে সুইস প্রেসিডেন্টের সফর, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আলোচনা

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরো জোরদার করার লক্ষ্যে তিন দিনের সফরে ভারত গেছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গি পারমেলিন। সোমবার (৫ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনশক্তি চলাচলের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। খবর এএফপি

এই তিন দিনের সফর এমন একটি সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফটিএ) সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তির এক বছর পূর্ণ হয়েছে। সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, আইসল্যান্ড এবং লিশটেনস্টাইন—এই চারটি দেশ ইএফটিএর সদস্য। চুক্তির আওতায় আগামী ১৫ বছরে ভারতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ইএফটিএর পক্ষ থেকে।

চুক্তির ফলে শুল্ক কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য ইএফটিএভুক্ত চার দেশের বাজারে পণ্য রপ্তানি সহজতর হবে। একইসঙ্গে, ভারতেও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বাজারে প্রবেশের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সুইস প্রেসিডেন্ট গি পারমেলিন মন্তব্য করেন, তার এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের আরো অগ্রগতির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশ একসঙ্গে যতটা পথ অতিক্রম করেছে, তা উদ্‌যাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সম্পর্ক কীভাবে আরো উন্নত করা যায়, সেটিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক সম্মেলনে অংশ নিতে ভারত সফর করেছিলেন পারমেলিন।

এদিকে, ইএফটিএর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে পারমেলিনের ব্যক্তিগত সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি বলেন, ভারতের রপ্তানির জন্য সুইজারল্যান্ডের বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

মোদি আরও বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে সুইজারল্যান্ডে ভারতের কৃষিপণ্য, ওষুধ, বস্ত্র এবং প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, বায়োটেকনোলজি, জীবনবিজ্ঞান, ব্যাংকিং, বিমা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং টেকসই উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে নতুন সুইস বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

দুই দেশের সরকার সোমবার জনশক্তি চলাচল সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেছে। মোদি বলেন, এর ফলে সুইজারল্যান্ডে ভারতীয় শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য আরো সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে বড় ভূমিকা নিতে চায় ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনে বড় ভূমিকা নিতে চায় ভারত

ভারত রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি উল্লেখ করেন, নৌচলাচলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং সংঘাত কমানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভারত উভয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে।

একটি সম্মেলনে জয়শঙ্কর জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত শুধুমাত্র বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এ বিষয়ে আরো সরাসরি যুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষ্ণ সাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ এবং সম্ভাব্য ‘আক্রমণ না করার’ বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।” জয়শঙ্করের এই বক্তব্যে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে ভারতের আরো সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ভারত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও রাশিয়ার সমালোচনা থেকে বিরত রয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত থেকেছে। আগস্টের শেষের দিকে কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংঘাতের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, যুদ্ধের অবসানে সংলাপ ও কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরো বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের সহযোগিতা জ্বালানি, মহাকাশ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে।

সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দুই নেতা ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক গভীর করার অঙ্গীকার করেন। এ বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়া থেকে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য চাপ দিচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে নয়াদিল্লিকে রুশ তেল কেনা বন্ধে চাপ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় ভারতের রুশ তেল আমদানি কিছুটা কমলেও পরে তা আবার বেড়ে যায়।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর কাছে রুশ নির্মিত শত শত যুদ্ধবিমান এবং একাধিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতের সময় এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কয়েকটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যাংককে ধেয়ে আসছে বন্যার সর্বনাশা বিপর্যয়: আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক সম্মেলন ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


ব্যাংককে ধেয়ে আসছে বন্যার সর্বনাশা বিপর্যয়: আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক সম্মেলন ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আসন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বহুল প্রত্যাশিত যৌথ শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের প্রধান নদী চাও ফ্রায়ার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা উত্তর ও মধ্য থাইল্যান্ড থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং অবিরাম মৌসুমি বর্ষণের ফলস্বরূপ ঘটছে।

রাজধানী ব্যাংককের নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় নতুন করে তীব্র বিশৃঙ্খলা ও নাগরিক ভোগান্তির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতি-নির্ধারকদের এই মেগা সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করা নিয়ে থাই প্রশাসন চরম চাপে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সূত্রে জানা যায়, নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সামুদ্রিক জোয়ারের কারণে নদীর তীরবর্তী বাণিজ্যিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি প্রবেশের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শহর রক্ষা বাঁধগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে জরুরি ভিত্তিতে লাখ লাখ বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। অতিরিক্ত পানি অপসারণে বড় বড় পাম্প স্টেশনগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়েছে। তবুও তীব্র ঢল সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় বিভিন্ন এলাকার জনজীবনে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে।

সম্মেলনে অংশ নিতে আসা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা থাই কর্তৃপক্ষের জন্য এখন এক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংককজুড়ে কড়া সতর্কতা জারি করা হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা সরকারের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত হবে: মাহ্দী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত হবে: মাহ্দী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার এই উদ্যোগের ফলে দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে এবং তারা একদিন বিশ্বজয় করতে সক্ষম হবে।

মঙ্গলবার কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ‘গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার ক্রীড়া ও খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে খেলাধুলা ও ক্রীড়াচর্চাকে গভীরভাবে সম্পৃক্ত করা। এ লক্ষ্যেই আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্রীড়াকে শিক্ষাব্যবস্থার অনিবার্য অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পাবে এবং বাংলাদেশকে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

এবার দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরে জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দেশের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়েছে। তিনি জানান, দাবা, হ্যান্ডবল, সাঁতার ও কাবাডি—এই চারটি খেলায় নিজ নিজ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে সারা দেশ থেকে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠান, উপজেলা, জেলা, উপ-অঞ্চল ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করেই তারা জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দলগত চেতনা গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, খেলাধুলা শুধু জয়-পরাজয়ের প্রতিযোগিতা নয়, এটি চরিত্র গঠনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা। খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখায়। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান করার মানসিকতা তৈরি করে। এসব গুণ ভবিষ্যতে তাদের ভালো মানুষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।

বিভিন্ন খেলার আলাদা গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দাবা শিক্ষার্থীদের কৌশল, দূরদৃষ্টি এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ায়। হ্যান্ডবল দলগত শক্তি বা টিমওয়ার্কের শিক্ষা দেয়। সাঁতার প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করে। আর কাবাডি জাতীয় ঐতিহ্য ও দেশপ্রেমের পাশাপাশি সাহস ও ক্ষিপ্রতার শিক্ষা দেয়।

মাহ্দী আমিন বলেন, জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীই ইতোমধ্যে বিজয়ী। কারণ প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার কঠিন ধাপ পেরিয়ে তারা জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসেছে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফল যা-ই হোক, জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণই তাদের সক্ষমতার প্রমাণ।

শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চার এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ‘প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশে নতুন ধারার ক্রীড়াচর্চা ও শারীরিক শিক্ষার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

এর আগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাহ্দী আমিন। তিনি স্কুল, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসা প্রতিযোগীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের এই অর্জন আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রীড়াচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দলগত চেতনা তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

প্রতিযোগিতার সার্বিক আয়োজনের প্রশংসা করে মাহ্দী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কুমিল্লায় এই আয়োজন তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইমদাদুল বারী আবু, কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার ও পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%