০৫:১৮ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার এই উদ্যোগের ফলে দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে এবং তারা একদিন বিশ্বজয় করতে সক্ষম হবে।
মঙ্গলবার কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ‘গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার ক্রীড়া ও খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে খেলাধুলা ও ক্রীড়াচর্চাকে গভীরভাবে সম্পৃক্ত করা। এ লক্ষ্যেই আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয় হিসেবে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্রীড়াকে শিক্ষাব্যবস্থার অনিবার্য অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পাবে এবং বাংলাদেশকে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।
আরও পড়ুন: রেফারির পকেটে ডিজিটাল কার্ড, কাগজের লাল-হলুদ কার্ডের পরিবর্তে প্রযুক্তির ব্যবহার
এবার দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরে জাতীয় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দেশের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়েছে। তিনি জানান, দাবা, হ্যান্ডবল, সাঁতার ও কাবাডি—এই চারটি খেলায় নিজ নিজ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে সারা দেশ থেকে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠান, উপজেলা, জেলা, উপ-অঞ্চল ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করেই তারা জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও দলগত চেতনা গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, খেলাধুলা শুধু জয়-পরাজয়ের প্রতিযোগিতা নয়, এটি চরিত্র গঠনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা। খেলার মাঠ শিক্ষার্থীদের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখায়। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান করার মানসিকতা তৈরি করে। এসব গুণ ভবিষ্যতে তাদের ভালো মানুষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
বিভিন্ন খেলার আলাদা গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দাবা শিক্ষার্থীদের কৌশল, দূরদৃষ্টি এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ায়। হ্যান্ডবল দলগত শক্তি বা টিমওয়ার্কের শিক্ষা দেয়। সাঁতার প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করে। আর কাবাডি জাতীয় ঐতিহ্য ও দেশপ্রেমের পাশাপাশি সাহস ও ক্ষিপ্রতার শিক্ষা দেয়।
মাহ্দী আমিন বলেন, জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীই ইতোমধ্যে বিজয়ী। কারণ প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার কঠিন ধাপ পেরিয়ে তারা জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসেছে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফল যা-ই হোক, জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণই তাদের সক্ষমতার প্রমাণ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর অধিনায়কত্বে ইংল্যান্ডের মহিলা কাবাডি দল
শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চার এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ‘প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। দেশে নতুন ধারার ক্রীড়াচর্চা ও শারীরিক শিক্ষার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাহ্দী আমিন। তিনি স্কুল, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসা প্রতিযোগীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের এই অর্জন আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
দেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রীড়াচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দলগত চেতনা তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
প্রতিযোগিতার সার্বিক আয়োজনের প্রশংসা করে মাহ্দী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কুমিল্লায় এই আয়োজন তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
আরও পড়ুন: নাৎসি প্রচারণার সঙ্গে তুলনা, লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি রিয়ালের
অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-১০ আসনের এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইমদাদুল বারী আবু, কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার ও পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন