ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাৎসি প্রচারণার সঙ্গে তুলনা, লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি রিয়ালের


নাৎসি প্রচারণার সঙ্গে তুলনা, লা লিগা সভাপতির পদত্যাগ দাবি রিয়ালের

রিয়াল মাদ্রিদ স্প্যানিশ ফুটবল লিগ লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। ক্লাবটির অভিযোগ, তেবাস গুরুতর সীমা লঙ্ঘন করে নিজেদের কর্মকৌশলের সঙ্গে নাৎসি জার্মানির প্রচারণাপদ্ধতির তুলনা করেছেন।

লা লিগার সভাপতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে রিয়াল মাদ্রিদের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ক্লাবটির টেলিভিশন চ্যানেলে ম্যাচ পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়মিত সমালোচনা প্রচারের কৌশল সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন।

রিয়াল মাদ্রিদ টেলিভিশনে প্রায়শই ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যেখানে আসন্ন ম্যাচের দায়িত্বে থাকা রেফারিদের অতীতের বিতর্কিত ও কথিত ভুল সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরা হয়। তেবাস এই কৌশলকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের প্রচারণাপদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করেন।

আরও পড়ুন: তদন্তের মধ্যে থাকা রিজওয়ানকে ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি

এই ঘটনায় রিয়াল মাদ্রিদ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ক্লাবটির একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্প্যানিশ ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। ক্লাবটির পরিচালনা ও টেলিভিশন চ্যানেলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তাদের প্রচারণাপদ্ধতির সঙ্গে নাৎসি শাসনামলের পদ্ধতির তুলনা করা ‘সম্পূর্ণ অসহনীয় ও অত্যন্ত গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছে রিয়াল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তেবাস নাৎসি মতাদর্শকে বোঝাননি এমন ব্যাখ্যা দিলেও তার বক্তব্যের গভীর অপমানজনক, নৈতিকভাবে ঘৃণ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদার পরিপন্থী চরিত্র কোনোভাবেই কমে না।

রিয়াল মাদ্রিদের অভিযোগ, নেগ্রেইরা মামলা ঘিরে ক্লাব ও রিয়াল মাদ্রিদ টেলিভিশনের বৈধ পদক্ষেপগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেও তেবাস তার মন্তব্য ব্যবহার করছেন। এই পরিস্থিতিতে লা লিগা সভাপতির পদে তাঁর থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্প্যানিশ জায়ান্টরা পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: কুয়েতে কেপিএল টি-টোয়েন্টির চ্যাম্পিয়ন জিলিব প্রবাসী ক্রিকেট ক্লাব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অফিসার্স ক্লাবে সাবেক অতিরিক্ত সচিবকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


অফিসার্স ক্লাবে সাবেক অতিরিক্ত সচিবকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে মৃত্যু

ঢাকার রমনায় অবস্থিত অফিসার্স ক্লাবের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনকে (৭২) রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে রাতে হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, সকাল ১০টার দিকে মোশাররফ হোসেন তার ছোট মেয়েকে সাতার শেখাতে অফিসার্স ক্লাবে নিয়ে যান। মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি নির্মাণাধীন ভবনটির ভেতরে প্রবেশ করেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে রাত পৌনে ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ডাক্তাররা সেখানে মোশাররফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি বলেন, অফিসার্স ক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি বারবার ওপরে উঠছিলেন এবং নিচে নামছিলেন। সম্ভবত তিনি পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে বেজমেন্ট-১ এর ফাঁকা জায়গা থেকে তিনি নিচে পড়ে যান। তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

মো. ইয়াছিন মিয়া আরও জানান, পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত করতে রাজি না হওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ওসি জানান, মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তার স্ত্রী আগেই মারা গেছেন। তার বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তিনি দেশে ফেরার পর মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন হবে। তিনি রাজধানীর বনানীর ৫ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলার দেওভুনা গ্রামে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওরেগনে স্কুলে গুলিবর্ষণ, হামলাকারীকে থামালেন শিক্ষক ও বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


ওরেগনে স্কুলে গুলিবর্ষণ, হামলাকারীকে থামালেন শিক্ষক ও বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর হামলায় এক শিক্ষক ও তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও এক শিশু ও একজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারীকে প্রথমে বাধা দেন এক শিক্ষিকা, পরে দুই সন্তানের এক বাবা বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালিয়ে হামলাকারীকে হত্যা করেন। পুলিশের মতে, তাদের সাহসী পদক্ষেপের ফলে আরও প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ওরেগনের বেন্ড শহরের সিলভার রেইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনাটি ঘটে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পুলিশ জানায়, হামলাকারী ১৬ বছর বয়সী গ্রিফিন জে জন দ্বিতীয়, যিনি ওই বিদ্যালয়ের সাবেক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহত শিক্ষিকার নাম মেগান ল্যামবার্ট, যিনি ২৫ বছর বয়সী। নিহত তিন শিশুর বয়স ৫, ৮ ও ১১ বছর। আহত ৭ বছর বয়সী এক শিশুর অবস্থা গুরুতর হলেও বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। অন্য আহত শিক্ষকের অবস্থাও গুরুতর, তবে তার আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা এক শিক্ষিকা প্রথমে নিজের মুঠোফোন ছুড়ে হামলাকারীকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি হামলাকারীকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে লড়াই শুরু করেন, যা হামলাকারীর গতিরোধে সহায়ক হয়।

বেন্ড শহরের পুলিশপ্রধান মাইক ক্রান্টজ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওই শিক্ষিকার সাহসী পদক্ষেপ আরও রক্তপাত ঠেকাতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি শিক্ষিকাকে প্রকৃত বীর হিসেবে অভিহিত করেন, যিনি নিজের শিক্ষার্থীদের রক্ষায় দাঁড়িয়ে লড়াই করেছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এ সময় দুই সন্তানের ৩৬ বছর বয়সী এক বাবা বৈধভাবে রাখা পয়েন্ট ৪০ ক্যালিবারের একটি পিস্তল নিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। তিনি হামলাকারীকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালান, যার ফলে পুলিশের পৌঁছানোর আগেই হামলাকারী নিহত হয়।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওই ব্যক্তির মা কেন্ডা ফ্রিম্যান জানান, তার ছেলে কেলুব জিয়ামাঙ্কো হামলাকারীকে হত্যা করেছেন। তার দুই মেয়ে ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। পরিবার জানায়, জিয়ামাঙ্কো স্বীকৃতি চান না, বরং উদ্ধারকর্মী, বিদ্যালয়ের কর্মী ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধও জানিয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার আগে কিশোরটিকে বিদ্যালয়ের বেড়ার ওপর দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ছুড়ে ফেলতে দেখা যায়। এরপর সে বেড়া টপকে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। পাশ দিয়ে যাওয়া একটি ট্রাকের চালক তাকে মৌখিকভাবে বাধা দিলে সে ওই গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

এরপর কাচের তৈরি বন্ধ দরজায় গুলি চালিয়ে সে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলা একটি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে। সেখানে সে প্রায় ১৫টি গুলি ছোড়ে। পুলিশ জানায়, তার কাছে আরও ৪৪টি গুলি ছিল।

প্রথম ফোনকল পাওয়ার তিন মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ততক্ষণে হামলাকারী নিহত হয়ে গেছে।

পুলিশপ্রধান ক্রান্টজ বলেন, হামলার পেছনে কী কারণ ছিল এবং কিশোরটি কীভাবে মাভেরিক ৮৮ মডেলের ১২ গেজ পাম্প-অ্যাকশন বন্দুকটি পেয়েছিল, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে। তিনি বলেন, সবাই জানতে চান কেন এমন ঘটনা ঘটল, পুলিশও তার উত্তর খুঁজছে। তবে পুরো ঘটনার কারণ হয়তো কখনোই জানা সম্ভব নাও হতে পারে।

প্রায় এক লাখ মানুষের শহর বেন্ডে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ের বাইরে ফুল ও মোমবাতি রেখে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিদ্যালয়ের কাছাকাছি বসবাসকারী ৭১ বছর বয়সী মাইকেল জাপা বলেন, ওই বাবা অনেকের জীবন বাঁচিয়েছেন। তার জন্য প্রার্থনা করা উচিত, কারণ এমন ঘটনার পর তার ওপরও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে।

নিহত শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্টের পরিবার জানিয়েছে, সিলভার রেইল বিদ্যালয়ে কাজ করা ছিল তার স্বপ্নের চাকরি। তিনি সব সময় পিছিয়ে থাকা মানুষ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতেন। পরিবার হামলাকারীকে থামানো জিয়ামাঙ্কোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এবং তাকে বীর হিসেবে অভিহিত করেছে।

হামলার সময় পাশের একটি শ্রেণিকক্ষে থাকা ৯ বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কালানি জার্নেইগ রয়টার্সকে জানান, গুলির শব্দ শুনে তারা সবাই চিৎকার করছিল এবং খুব ভয় পেয়েছিল। তার আশঙ্কা হয়েছিল, তারাও মারা যেতে পারে। তার এক বন্ধু ঘটনার মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানায় সে।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। বিদ্যালয়ে বন্দুক ছোড়া বা প্রদর্শন কিংবা বিদ্যালয়ের সম্পত্তিতে গুলি লাগার ঘটনা নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি তথ্যভান্ডারের হিসাবে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৪৯টি ঘটনায় ১১৮ জন আহত বা নিহত হয়েছেন।

অন্য একটি তথ্যভান্ডার গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৩৭১টি ব্যাপক গুলিবর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী, হামলাকারীকে বাদ দিয়ে অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হলে সেটিকে ব্যাপক গুলিবর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়। বেন্ডের ঘটনাসহ এর মধ্যে তিনটি হামলা সরকারি বিদ্যালয়ে ঘটেছে।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গত নয় মাসে ৪১০টি অপতথ্য ছড়িয়েছে: প্রেস সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২২ এম


প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গত নয় মাসে ৪১০টি অপতথ্য ছড়িয়েছে: প্রেস সচিব

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে, এমন তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।

তিনি আরো জানান, একই সময়ের মধ্যে বিএনপিকে ঘিরে ১১৮টি এবং বর্তমান সরকারকে কেন্দ্র করে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি এই তথ্য উপস্থাপন করেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংগঠনটির নতুন সদস্যদের বরণ অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালেহ শিবলী উল্লেখ করেন, অপতথ্য এবং গুজব সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই কারণে মানুষ এখনও গুরুত্বপূর্ণ খবরের সত্যতা যাচাই করতে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার ঘটেছে, তবে এর সঙ্গে দায়িত্বহীন আচরণও বেড়েছে। এর বিপরীতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এখনও মানুষের আস্থা ধরে রেখেছে। মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো খবর দেখার পর সেটি সঠিক কিনা, তা যাচাই করতে টেলিভিশন ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রের খবরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেল ও গণমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য যাচাইবিষয়ক অনুষ্ঠান চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি অনুষ্ঠানও মানুষকে সঠিক তথ্য শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, কখনো কখনো বড় সংবাদমাধ্যমও যাচাই না করে ভুয়া ছবি বা তথ্য প্রচারের ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কোনো তথ্য প্রচারের আগে সেটির সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সালেহ শিবলী আরো বলেন, অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় একটি কার্যকর আইন থাকা প্রয়োজন। তবে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সময়ের প্রয়োজনে আইনের সংশোধন, সংযোজন বা পরিবর্তনের সুযোগও থাকতে হবে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে না জানা অনেক মানুষও অপতথ্যের শিকার হন। তারা নিজেরা এর প্রতিবাদ জানাতে বা প্রতিকার চাইতে সক্ষম নাও হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সবার জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

ডিআরইউ’র নতুন সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, সংগঠনের ঐক্য ধরে রাখা জরুরি। মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার মধ্যদিয়ে অভিন্ন লক্ষ্যে পৌঁছানোই একটি সংগঠনের সৌন্দর্য। সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা আদর্শকে সমর্থন করা সাংবাদিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। তবে ব্যক্তিগত বা দলীয় বিশ্বাস যেন সত্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হচ্ছে যা সত্য, তা তুলে ধরা। সরকারের ভালো উদ্যোগের ইতিবাচক দিক যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি কোথাও অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সেটিও প্রকাশ করতে হবে। তবে কোনো বিচ্ছিন্ন অনিয়মকে কেন্দ্র করে সামগ্রিক উদ্যোগের ইতিবাচক দিক আড়াল করা উচিত নয়।

সালেহ শিবলী আরও বলেন, দেশে এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যেখানে ধর্ম, মতাদর্শ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না। সব নাগরিকের সমান অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র নতুন সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি সংগঠনটির ঐতিহ্য ও ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাইনুল হাসান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম। আরও বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ’র সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান, সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ কার্যনির্বাহী কমিটির অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক মো. রাশিম (রাশিম মোল্লা), ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী ও মো. আব্দুল আলীম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদিগামী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ১৬৬২০ যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২২ এম


সৌদিগামী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ১৬৬২০ যাত্রী

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে দেশে আটকা পড়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী।

গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এছাড়া, ভারতীয় বেসরকারি বিমান পরিচালনা সংস্থা ইন্ডিগো আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবগামী সকল ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

বেবিচক জানায়, বাতিল হওয়া ১০৭টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪৪টি সরাসরি এবং ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া, ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ট্রানজিট ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইন্ডিগো জানিয়েছে যে, সৌদি আরবের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম ও মদিনা থেকে যাওয়া-আসার ফ্লাইট ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে সৌদিগামী যাত্রীদের বহনকারী ইন্ডিগোর ২২টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।

ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের মধ্যে বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা বেশি বিপাকে পড়েছেন।

তবে জরুরি পরিস্থিতিতে কর্মীদের বিকল্প পথে সৌদি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%