০৫:২০ পি.এম
ভারতে তৈরি প্রথম এইচপিভি ভ্যাকসিনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রাক-যোগ্যতা অর্জন করেছে। গত সোমবার পুনেভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার তৈরি ‘সার্ভাভ্যাক’ ভ্যাকসিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। এই অর্জনের ফলে সার্ভাভ্যাক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাক-যোগ্যতা পাওয়া ভ্যাকসিনের বৈশ্বিক তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো এখন বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের টিকাদান কর্মসূচিতে ভারত থেকে এই ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।
এএনআই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেরাম ইনস্টিটিউটের জন্য এটি ৩২তম প্রাক-যোগ্যতা অর্জন— অর্থাৎ সংস্থাটি এর আগেও বহু জৈব-পণ্য এই কঠিন মানদণ্ড পেরিয়েছে।
সার্ভাভ্যাক আসলে কী টিকা
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ২০২৩ সালে ১৮৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
সার্ভাভ্যাক একটি রিকম্বিন্যান্ট কোয়াড্রিভ্যালেন্ট এইচপিভি টিকা—হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের চারটি ধরন (৬, ১১, ১৬ ও ১৮)-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। এটি ৯ থেকে ২৬ বছর বয়সী ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য। ভারতের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই) ইতিমধ্যে দেশে এর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
ডব্লিউএইচও প্রাক-যোগ্যতা পাওয়ার পর, টিকাটি এখন জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত হয়ে উঠেছে।
টিকাটি দেশীয় গবেষণা-সহযোগিতায় তৈরি করা হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজি (ডিবিটি), বায়োটেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসিসট্যান্স কাউন্সিলের (বিআইআরএসি) সহযোগিতায় ডব্লিউএইচও-এর ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) এবং গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এটি তৈরি করা হয়েছে।
কারা এই টিকা নিতে পারবেন
আরও পড়ুন: ইসরাইলি নির্বাচনে উগ্রপন্থি বেন-গভিরের হাতিয়ার: মসজিদে জরিমানা ও বাড়িঘর উচ্ছেদ
৯ থেকে ২৬ বছর বয়সী ছেলেমেয়ে — দু’পক্ষের জন্যই টিকাটি অনুমোদিত। মেয়ে ও নারীদের ক্ষেত্রে ১৬ ও ১৮ ধরনের কারণে হওয়া জরায়ুমুখ, যোনি, ভালভার ও পায়ুপথের ক্যান্সার এবং ৬ ও ১১ ধরনের কারণে যৌনাঙ্গের আঁচিল প্রতিরোধে এই টিকা কার্যকর।
এছাড়া, টিকাটি শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য নয় — ৯ থেকে ২৬ বছর বয়সী ছেলেদেরও দেওয়া যেতে পারে, কারণ এইচপিভি সংক্রমণ উভয় পক্ষের মধ্যেই ছড়ায় এবং ছেলেদের ক্ষেত্রেও ক্যান্সার ও আঁচিলের ঝুঁকি বিদ্যমান।
কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ
ভারতে নারীদের জন্য জরায়ুমুখ ক্যান্সার অন্যতম প্রাণঘাতী ক্যান্সার, এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর সূত্রপাত এইচপিভি সংক্রমণ থেকে — চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটি প্রতিষ্ঠিত তথ্য। আমদানি-নির্ভর দামি টিকার পরিবর্তে দেশীয়ভাবে তৈরি টিকা মানে, সরকারি টিকাদান কর্মসূচি অনেক বড় আকারে এবং কম খরচে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা, যুদ্ধবিরতির পর নিহত ১৫২২
সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়ালা জানান, এই স্বীকৃতি বিশ্বব্যাপী এইচপিভি মোকাবিলাকে আরো জোরদার করবে; টিকাদানের পরিধি বাড়াতে সংস্থা প্রস্তুত।
টিকা-স্বনির্ভরতায় আরো এক ধাপ
বিদেশি টিকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে টিকা তৈরি — এই ধারাবাহিকতায় সার্ভাভ্যাকের বিশ্ব-স্বীকৃতি ভারতের জৈবপ্রযুক্তি গবেষণার একটি বড় সাফল্য।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনের সেনা ঘাঁটিতে হুথিদের হামলায় নিহত ২০
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন