বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪৫ পি.এম
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম (আধাসামরিক পুলিশ) মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
বিএফএমটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃইউনিয়ন জোটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্যারিসের বাইরের বিক্ষোভে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারে। অপরদিকে, রাজধানী প্যারিসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজারের মধ্যে হতে পারে।
বিক্ষোভে শ্রমিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মী এবং মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের প্রধান দাবি হলো—বেতন বৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার জানিয়েছেন, বিক্ষোভের নিরাপত্তাব্যবস্থা গত ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় নেওয়া ব্যবস্থার মতোই থাকবে।
তিনি জানান, নিরাপত্তার দায়িত্বে ২৬টি সাঁজোয়া যান, প্রায় ১৫টি জলকামান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট বিআরআই, রেইড এবং জিআইজিএন-এর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
নুনেজ বলেন, বিক্ষোভকারীদের জন্য যতটা সম্ভব নিরাপদ চলাচলের পথ নিশ্চিত করাই এ নিরাপত্তাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্রস্থলসহ স্পর্শকাতর এলাকা এড়িয়ে চলার ব্যবস্থা করা হবে।
প্যারিসে বিক্ষোভের রুট নিয়ে বিরোধ
প্যারিসে বিক্ষোভের নির্ধারিত পথ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকরা পুলিশের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের রুটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে প্রশাসনিক আদালত পুলিশের দেওয়া রুট বহাল রেখেছে।
পুলিশের নির্ধারিত পথ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিল করবেন।
এর আগে শ্রমিক ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো প্লাস দ্য লা বাস্তিল থেকে জাতীয় পরিষদের কাছে প্লাস দ্য লা কনকর্ড পর্যন্ত মিছিল করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
তবে রাজধানীতে সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং গত ১৭ অক্টোবরের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে পুলিশ ওই প্রস্তাবিত রুটে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পরে বিকল্প রুট নির্ধারণ করা হয়।
বিক্ষোভের পাশাপাশি দেশজুড়ে ধর্মঘটের কারণে পরিবহণব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্রান্সের জাতীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসএনসিএফ জানিয়েছে, আঞ্চলিক ট্রেন চলাচলে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার বিঘ্ন ঘটতে পারে। প্যারিসের আশপাশের কয়েকটি শহরতলির রেললাইনেও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলে তুলনামূলক কম প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও উচ্চগতির টিজিভি ট্রেনের প্রতি ১০টির মধ্যে একটি বাতিল করা হতে পারে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেখ হাসিনা, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী, ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় একাধিকবার এই ঘোষণা দিয়েছেন এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার প্রত্যয়ও প্রকাশ করেছেন।
তবে, তার এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সন্দেহ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি মাথায় রেখে তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসিনার দেশে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় বাধা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি প্রকাশ্যে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারছে না। বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজনীতির মাঠে দলটির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।
গণমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনি জটিলতা।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে শত শত মামলা রয়েছে। ফলে দেশে ফিরলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, এটি নিশ্চিত।
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ একাধিকবার আবেদন করেছে। তবে, ভারত এখনো সাড়া দেয়নি। চুক্তিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগসহ কয়েকটি কারণে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। সাবেক কূটনীতিকদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, ভারত হাসিনাকে ফেরত দিতে আগ্রহী নয়।
অন্য একটি পথ হতে পারে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাশ নেওয়া। কিন্তু এ ধরনের আবেদন করা হলে সরকার তা অনুমোদন করবে কিনা, সেটিও অনিশ্চিত। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে পর্যালোচনা করার কথা বলছেন।
তবে, আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবার এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দলের নেতাদের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছেন। তার ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ মনে করেন, ফেরার প্রক্রিয়া ও বিকল্প পরিকল্পনাও তিনি ঠিক করে রেখেছেন।
আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাতও জানিয়েছেন, ঝুঁকি থাকলেও ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, আওয়ামী লীগ গোপন তৎপরতায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। তারা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত হতে পারে। সেজন্য তারা সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলছেন।
সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নির্ভর করছে আইনি প্রক্রিয়া, বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত এবং ভারতের অবস্থানের ওপর। ডিসেম্বর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে শ্রমিক অসন্তোষ, আন্দোলন, সংঘাত এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শিল্পের উৎপাদন ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা রক্ষা করতে হবে, এবং শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকারের ব্যর্থতা শিল্প খাতকে সংকটের মুখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এই আহ্বান জানান।
শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় এবি পার্টির পক্ষ থেকে কিছু দাবি তুলে ধরেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।
এ সময় মঞ্জু বলেন, "শ্রমিকের অধিকার এবং পোশাকশিল্পের স্বার্থ পরস্পরবিরোধী নয়। শ্রমিককে ন্যায্য মজুরি দিতে হবে, একই সঙ্গে শিল্পের কর্মসংস্থান ও উৎপাদন সক্ষমতাও রক্ষা করতে হবে। তবে শ্রমিকের অধিকার ও শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক সরাসরি এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। কাজেই পোশাকশিল্পের সংকট শুধু মালিকদের ব্যবসায়িক সমস্যা নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতি ও লাখ লাখ পরিবারের জীবিকার প্রশ্ন।" দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে। উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি ও অর্থায়নের খরচ বেড়ে গেলেও আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে না। ফলে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির পুরো চাপ যদি শুধু কারখানার মালিকদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো সংকটে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদেরও শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার দায় নিতে হবে।"
শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভূমিকার সমালোচনা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নয়। দেশে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীদের লাঠিসোঁটা নিয়ে রাজপথে নামতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতির খবরও এসেছে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন? এই একই ভুল আওয়ামী লীগও করেছিলো। শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের নামে রাজনৈতিক কর্মীদের মাঠে নামানো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে এবং নতুন সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে। বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় যে নিরপেক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি করেছিল, এখন তাদের সেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বিএনপি গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিল। অন্যদিকে এর আগে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী বর্তমান পরিকল্পনা প্রতি মন্ত্রী জোনায়েদ সাকি ২৫ হাজার টাকা মজুরির দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।"
এখন শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকার দাবির বিষয়ে তাদের অবস্থান কী, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। বিরোধী দলে থাকলে শ্রমিকের অধিকারের পক্ষে কথা বলা আর ক্ষমতায় এসে সেই প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া উচিত নয়।
মজুরি বোর্ড গঠন ও সরকারের উদ্যোগের বিলম্বের সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, "১৫ অক্টোবর মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড গঠন করতে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লেগেছে। প্রথম সভা হয়েছে ৪ নভেম্বর। শ্রমিক অসন্তোষ বাড়তে থাকার মধ্যে এতদিন কার্যকর আলোচনা ও সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়া সরকারের সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। শ্রমিকদের দাবি ও অসন্তোষকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায্যতার প্রশ্ন।"
গাজীপুরে শ্রমিক তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তিনি বলেন, "এই মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী, শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কারা জড়িত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তা তদন্ত করে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। আন্দোলনে কোনো রাজনৈতিক দলের অনুপ্রবেশ, উসকানি, ভাঙচুর বা নাশকতার অভিযোগ থাকলে সেগুলোও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। কোনভাবেই নৈরাজ্য, গাড়ী ভাঙচুর, প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর গ্রহণযোগ্য নয়। এর সাথে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।"
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির পক্ষ থেকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান বর্তমান মজুরি বোর্ডকে কার্যকর করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করার দাবি জানান। শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে বাস্তবায়নযোগ্য মজুরি বৃদ্ধির রোডম্যাপ ঘোষণা করারও দাবি জানানো হয়। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হলেও প্রতিটি ধাপের পরিমাণ ও কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়।
ব্যারিস্টার নোমান আরও বলেন, "শ্রমিকের মজুরি কমিয়ে কিংবা আন্দোলন দমন করে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আবার ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার মধ্য দিয়েও শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। প্রয়োজন ন্যায়ভিত্তিক মজুরি, দায়িত্বশীল মালিকানা, দক্ষ ও উৎপাদনশীল শ্রমশক্তি এবং জবাবদিহিমূলক সরকার।"
এবি পার্টি সংকট তৈরি হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর রাজনীতি নয়, সংকট তৈরি হওয়ার আগেই সমাধানের রাজনীতি চায়। শ্রমিকের মর্যাদা, শিল্পের সুরক্ষা এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত জাতীয় পোশাকশিল্প ও শ্রমনীতি প্রণয়ন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ক জামাল শেখ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, মোহসীনুল হক চৌধুরী, মশিউর রহমান মিলু, শ্রমিক নেত্রী বেবি পাঠান গাইবান্ধা জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী এবং পল্টন থানার সদস্য আব্দুল কুদ্দুস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দরে নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পন্ন করার পর তিনি বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজারে গমন করেন।
এই সময় প্রধানমন্ত্রী মাজার জিয়ারত করেন এবং দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে কাটাখালি মোড়ে অনুষ্ঠিত একটি পথসভায় বক্তব্য প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পথসভাটি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালি মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী এর আগে সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের কর্মসূচি রয়েছে। এরপর খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ