প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেখ হাসিনা, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী, ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ভারতে অবস্থানরত অবস্থায় একাধিকবার এই ঘোষণা দিয়েছেন এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকার প্রত্যয়ও প্রকাশ করেছেন।
তবে, তার এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সন্দেহ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি মাথায় রেখে তিনি সত্যিই দেশে ফিরবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাসিনার দেশে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় বাধা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি প্রকাশ্যে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারছে না। বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজনীতির মাঠে দলটির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।
গণমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনি জটিলতা।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে শত শত মামলা রয়েছে। ফলে দেশে ফিরলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, এটি নিশ্চিত।
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ একাধিকবার আবেদন করেছে। তবে, ভারত এখনো সাড়া দেয়নি। চুক্তিতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগসহ কয়েকটি কারণে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। সাবেক কূটনীতিকদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, ভারত হাসিনাকে ফেরত দিতে আগ্রহী নয়।
অন্য একটি পথ হতে পারে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাশ নেওয়া। কিন্তু এ ধরনের আবেদন করা হলে সরকার তা অনুমোদন করবে কিনা, সেটিও অনিশ্চিত। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে পর্যালোচনা করার কথা বলছেন।
তবে, আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবার এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দলের নেতাদের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছেন। তার ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ মনে করেন, ফেরার প্রক্রিয়া ও বিকল্প পরিকল্পনাও তিনি ঠিক করে রেখেছেন।
আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাতও জানিয়েছেন, ঝুঁকি থাকলেও ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, আওয়ামী লীগ গোপন তৎপরতায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। তারা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িত হতে পারে। সেজন্য তারা সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলছেন।
সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নির্ভর করছে আইনি প্রক্রিয়া, বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্ত এবং ভারতের অবস্থানের ওপর। ডিসেম্বর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন