মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০১:২৩ এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, সদর উপজেলা ও পৌর এলাকায় পৃথক তিন ঘটনায় এক নারী, এক বৃদ্ধ ও এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
মৃতরা হলেন—নবীনগর উপজেলার কাইতলা গ্রামের বাসিন্দা রুমা আক্তার (৩৫), সদর উপজেলার দামচাইল গ্রামের বজলু মিয়া (৬৫) এবং পৌরসভার শেরপুর এলাকার মানিক মিয়া (৫০)।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনজনই পৃথক সময়ে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সোমবার (৩ আগস্ট) ময়নাতদন্ত শেষে দু'জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর একজনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রতিটি ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে এনসিপি নেতা গাজী সালাউদ্দীন তানভীর ও নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির মানহানীকর বক্তব্যের প্রতিবাদে দৌলতপুরে একটি বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা সেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ চিত্রে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করে। মিছিলটি উপজেলা বিএনপি'র কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে দৌলতপুর থানার সামনে এসে শেষ হয়। এর পর সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রাশেদুল হক শামীম এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদুজ্জামান রুবেল, মোঃ রবিউল ইসলাম, সেলিম রেজা সহ সেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানহানীকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁনমিয়া হাউজিংয়ের সামনে ঘটে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টার সময় হাউজিংয়ের ৪ নাম্বার সড়কে এই বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গজ দূরে অবস্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরসা।
মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বকুল মিয়া নামের এক ব্যক্তির বাসার সামনে মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা একটি ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়।
আমরা ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দিন দিন আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে। মরিচা ইউনিয়নের ভুরকা-হাটখোলা থেকে কোলদিয়ার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, চার ফসলি জমি, ফলের বাগান এবং বিভিন্ন স্থাপনা। এর ফলে হাজারো মানুষ চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙনকবলিত মানুষের দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে রোববার, বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোলদিয়ার হাটখোলাপাড়া, মাজদিয়ার ও ভুরকা এলাকার নদীভাঙন পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাঃ রোকনুজ্জামান, উপসহকারী প্রকৌশলী জিলকাদ নাঈম, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি প্রদীপ কুমার দাস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনকালে শত শত ক্ষতিগ্রস্ত নারী-পুরুষ জেলা প্রশাসকের সামনে নিজেদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে বহু পরিবারের ফসলি জমি, পাশাপাশি আম-কাঁঠালের বাগানসহ বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা জীবিকার অবলম্বন। অভিযোগ রয়েছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া হলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন এখন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ভারত থেকে আমদানি করা ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জাতীয় সঞ্চালন লাইন নদী ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী রায়টা-মহিষকুণ্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, জুনিয়াদহ বাজার, হাটখোলাপাড়া জামে মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ও স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। নদীভাঙনের কারণে এলাকা বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে নদী ভরাট সরকারের প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুরকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার কান্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জুনিয়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভুরকা, কোলদিয়ার, জুনিয়াদহ ও কোলদিয়ার পূর্বপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা দ্রুত অস্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও সিমেন্টের ব্লক ফেলার কাজ শুরু করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা আবশ্যক। এলাকাবাসীর আশা, প্রশাসনের এই উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে অন্তত সাময়িকভাবে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের মানুষ নদীভাঙনের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাবে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, "ভাঙনকবলিত মানুষের এই মানবিক বিপর্যয় অত্যন্ত বেদনাদায়ক।" ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বাজেটের চাহিদা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। বরাদ্দ এলেই নদীতে জিও ব্যাগ ফেলা এবং অন্যান্য জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি নদী ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে দৌলতপুর থেকে নির্বাচিত বিএনপি দলের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা দৌলতপুরে মরিচা ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে। সেখান থেকে তিনি মুঠো ফোনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন রোধকল্পে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দাবি করেছেন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের রক্ষা কল্পে এবং জিও ব্যাগ ফেলার জন্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৭০ কেজি হরিণের মাংস নদীর চরে গোলবাগানের ভিতরে ফেলে পালিয়ে গেছে চোরাশিকারীরা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগের সদস্যরা মাংসসহ একটি নৌকা জব্দ করেছে। এই ঘটনা ঘটেছে কয়রা উপজেলার ৬নং কয়রা গ্রামের লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায়। সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের অধীন কাশিয়াবাদ স্টেশনের বন রক্ষীরা একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই হরিণের মাংস উদ্ধার করে।
অভিযানের সময় ২টি হরিণের মাথা, একটি নৌকা এবং হরিণ ধরার জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। বন বিভাগ জানায়, রবিবার (২ আগষ্ট) রাত ৯ টার দিকে ৬নং কয়রা লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদীর চর থেকে এই সকল হরিণের মাংসসহ নৌকা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় চোরাশিকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সুযোগ পেয়ে যায়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন কাশিয়াবাদ স্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার মোঃ নাসির উদ্দীন। খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণী নিধন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত হরিণের মাংস আদালতের অনুমতিক্রমে কয়রা উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চত্বরে মাটিতে পুতে বিনষ্ট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ