০৩:০৯ পি.এম
পাকিস্তান জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত। বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দোরাবি। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন কোনো রাষ্ট্রকে এই চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার আগে রিয়াদ এবং আঙ্কারার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও উঠে আসে।
চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা এমজেডিএ স্বাক্ষরিত হয়। আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং তেলের বাজারকে উর্ধ্বমুখী করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে চুক্তিটি যৌথ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
চুক্তির একটি মূল শর্ত হলো—চুক্তিবদ্ধ তিনটি দেশের মধ্যে যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ হলে, সেটি বাকি দুই দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরব নিউজকে একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ঢাকা এখনও এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এসএএফএনের অনারারি সিনিয়র ফেলো নিযুক্ত
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বাংলাদেশ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মুখপাত্র তাহির আন্দোরাবি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি পরিবর্তনশীল ও ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে উন্মুক্ত রয়েছে সেসব দেশের জন্য, যারা যৌথ দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে আগ্রহী। তিনি আরও জানান, চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসলে তা রিয়াদ ও আঙ্কারায় সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিবেচনা করা হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এই সামরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি অঞ্চলের প্রধান তিনটি সামরিক শক্তিকে একত্রিত করেছে। পাকিস্তান বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সক্রিয় সামরিক বাহিনীর অধিকারী এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। অন্যদিকে, সৌদি আরবের বিশাল অর্থনৈতিক সামর্থ্য, কৌশলগত আঞ্চলিক প্রভাব এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা অবকাঠামো রয়েছে। তুরস্কও সামরিক জোট ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, যার শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ
আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে ইসরাইলের অভিযানে ৩৬ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন