শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২১ এম
ইসলামে শুক্রবার বা জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর তুলনায় এ দিনের রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ফজিলত। এ দিনে নামাজ, দোয়া ও বিভিন্ন ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ রয়েছে।
আরবিতে শুক্রবারকে বলা হয় ‘ইয়াওমুল জুমুআহ’। পবিত্র কোরআনেও এ দিনের নাম ‘জুমুআহ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে জুমার দিনের মর্যাদা ও বিশেষ কিছু আমলের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বিশেষ দিন
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পূর্ববর্তী উম্মতদের জন্যও বিশেষ দিন ছিল। ইহুদিদের জন্য শনিবার এবং খ্রিস্টানদের জন্য রবিবার নির্ধারিত ছিল। আর উম্মতে মুহাম্মদীকে আল্লাহ জুমার দিনের মাধ্যমে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।
— সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৩
জুমার দিনে মৃত্যুর বিশেষ ফজিলত
হাদিসে জুমার দিন বা রাতে কোনো মুসলমানের মৃত্যু হলে তার জন্য বিশেষ ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত, জুমার দিন বা রাতে কোনো মুসলিম মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করেন।
— জামে তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৪
দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ
নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজ আদায় এবং কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের সগিরা গুনাহ মাফের ফজিলত লাভ করা যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান—মাঝের সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়, যদি বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।
— সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৩
জুমার দিনের পাঁচ বিশেষ বৈশিষ্ট্য
রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন। হাদিস অনুযায়ী—
১. এ দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে।
২. এ দিনেই তাঁকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে।
৩. এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
৪. এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে বৈধ কিছু চাইলে তিনি তা দান করেন।
৫. এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
— সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪
জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ
জুমার দিনের অন্যতম আমল হিসেবে সুরা কাহফ তিলাওয়াতের কথা বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূর দ্বারা আলোকিত থাকবে।
— শুআবুল ঈমান, হাদিস: ৫৯৯৬
বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদত
জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময় রয়েছে। তাই এ দিনে বেশি বেশি দোয়া করা, আল্লাহকে স্মরণ করা এবং নফল ইবাদতে সময় দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
জুমার নামাজের পাশাপাশি সুরা কাহফ তিলাওয়াত, দোয়া ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে একজন মুসলমান এই বরকতময় দিনকে অর্থবহ করে তুলতে পারেন।
জুমার দিনের মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে সচেতন হয়ে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী এ দিনে বেশি বেশি ইবাদত করা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কথা বলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শিশু, নারী, তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড এবং ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন।’
মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশসহ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনার একটি রূপরেখা প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে গণতন্ত্র সুসংহত করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘২০ মিনিটের বেশি সময়ের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেননি; তিনি বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেছেন।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘জাতিসংঘ সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী বহুপাক্ষিক, দ্বিপাক্ষিক ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার ও বিশ্বশান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।‘
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন এবং পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।’
এছাড়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী চারটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন বলেও জানান মাহদী আমিন।
স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। আগামী কয়েক বছরে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ৮০ হাজার নারী এবং মিডওয়াইফারি সেবায় ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্য রয়েছে।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি সদস্যদের অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিশ্বশান্তি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন দেশের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি জোরদারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উয়িংয়ের সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের একই মঞ্চে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বাবা-মায়ের পর সন্তান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বিরল এক ইতিহাস গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই পরিবারের তিন সদস্য- বাবা, মা ও সন্তান রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার ইতিহাস দ্বিতীয়টি নেই।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই ভাষণ দেওয়ার মাধ্যমে নিজ পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কের ৮১তম অধিবেশনে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেন।
বাংলা ভাষায় দেওয়া সেই ভাষণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন দিগন্তের উন্মোচনের পাশাপাশি জাতিসংঘের ইতিহাসেও এক বিরল অধ্যায় রচনা করেছে।
পারিবারিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিশ্ব দরবারে নিজের মাতৃভাষায় কোটি কোটি বাংলাদেশির আশা-আকাঙ্ক্ষা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক চেতনার কথা তুলে ধরেছেন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে সাধারণ পরিষদ হলে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে ভাষণে সম্বোধন করে বলেন, জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এ মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ ও জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্বসমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিষয়াবলি ও রোহিঙ্গা সংকটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের এই ভাষণ তার পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততার একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।
পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। ওই ভাষণে জিয়াউর রহমান ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছিলেন।
পাশাপাশি তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এরপর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ভাষণ দেন। জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।
১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন ও ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি পৃথক সভায়ও খালেদা জিয়া ভাষণ দিয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফ একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বাৎসরিক উরস শরীফ। এরই ধারাবাহিকতায়, ২০২৭ সালের উরস ও বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীপথে আসতে শুরু করেছে বিশাল বাঁশের ভেলা। ভক্তদের কাছে এসব বাঁশ ‘নজরানা’ বা খেদমতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার বাঁশ একত্রিত করে তৈরি করা হয় এসব ভেলা। এরপর দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে স্রোত, নাব্যতা ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ভেলাগুলো আটরশি দরবারে পৌঁছে যায়।
দরবার-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে খাজাবাবা ফরিদপুরীর নির্দেশে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় প্রথম ‘নজরানার বাঁশ’ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুরুতে মাত্র দুটি ভেলা এ যাত্রায় যুক্ত ছিল। প্রথমদিকে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ভেলা ছাড়া হলেও পরে চিলমারী ঘাটকে কেন্দ্র করে এ নৌযাত্রা নিয়মিত হয়ে ওঠে। সময়ের সাথে সাথে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এই প্রথা।
বর্তমানে কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও নরসিংদী, পাবনা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে ভক্তরা বাঁশ নিয়ে আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। অনেক এলাকায় উরসের কয়েক মাস আগে থেকেই বাঁশ সংগ্রহ ও ভেলা তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়।
একেকটি বড় ভেলায় থাকে ২ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত বাঁশ। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার উপযোগী করে বাঁশগুলো বিশেষ কৌশলে বাঁধা হয়। ভেলার ওপর তৈরি করা হয় ছাউনি বা অস্থায়ী ঘর। সেখানে ভক্তদের থাকার, রান্নাবান্না ও বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকে। প্রতিটি ভেলায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ভক্ত অবস্থান করেন। ইঞ্জিনচালিত নৌযানের পরিবর্তে লগি, বৈঠা ও নদীর স্রোতকে কাজে লাগিয়েই এগিয়ে চলে এসব ভেলা।
কুড়িগ্রামসহ দূরবর্তী জেলা থেকে এসব ভেলা নিয়ে আটরশি দরবারে পৌঁছাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। দীর্ঘ এই সময়ে ভক্তরা ভেলার ওপরেই অবস্থান করেন। সেখানে খাবার তৈরি ও বিশ্রামের পাশাপাশি ইবাদত, জিকির, হামদ-নাত ও মোর্শেদি গানে সময় কাটান তারা।
তবে এই নদীযাত্রা মোটেও সহজ নয়। ভেলাগুলোকে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়া, যমুনা, পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ ও কুমারসহ বিভিন্ন নদী ও খাল পাড়ি দিতে হয়। কোথাও নাব্যতা কম থাকলে ভেলা টেনে নিতে হয়, কোথাও কচুরিপানা কেটে পথ তৈরি করতে হয়। আবার প্রবল স্রোতের বিপরীতে বৈঠা চালিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়াও দীর্ঘ এই যাত্রার অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
বাঁশ সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভেলা তৈরি এবং দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে তা দরবারে পৌঁছে দেওয়া—পুরো প্রক্রিয়াটিই ভক্তরা খেদমত হিসেবে করেন। এ কাজে তারা বাঁশের কোনো মূল্য নেন না, এমনকি নিজেদের শ্রমের জন্যও কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন না। অর্থাৎ বাঁশ সংগ্রহ, ভেলা তৈরি ও পরিবহনের পুরো কাজটি সম্পন্ন হয় স্বেচ্ছাশ্রমে। দীর্ঘ পথের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ভেলা আটরশি দরবারে পৌঁছালে ভক্তরা মানসিক তৃপ্তি পান বলে জানান।
আটরশি দরবারে পৌঁছানোর পর এসব বাঁশ উরসের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। সামিয়ানা ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, সাজসজ্জাসহ অন্যান্য আয়োজনে ব্যবহারের পাশাপাশি বাঁশের কিছু অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
দরবার-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বাঁশের ভেলা নিয়ে যাত্রার জন্য খাজাবাবা ফরিদপুরী একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর বাংলা আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম বুধবার জলসা এবং বৃহস্পতিবার উষালগ্ন থেকে ভক্তরা ভেলা নিয়ে দরবারের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
মাত্র দুটি ভেলা দিয়ে ১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া এই নদীযাত্রা ৫১ বছর পরও ধরে রেখেছে তার ঐতিহ্য। নদীর স্রোত, নাব্যতা ও দীর্ঘ পথের বাধা পেরিয়ে প্রতিবছর ভক্তদের বহন করে আটরশি দরবারে পৌঁছে এসব বাঁশের ভেলা। পরে সেই বাঁশই ব্যবহৃত হয় উরসের নানা আয়োজনে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মোঃ রুবেল চৌধুরী। তিনি বর্তমানে দুবাই প্রবাসী। নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
রুবেল চৌধুরীকে ঘিরে ৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে নির্বাচনী আলোচনা শুরু হয়েছে। তার পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রচারপত্রে তাকে ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রচারপত্রে তিনি ওয়ার্ডের মানুষের দোয়া, সহযোগিতা ও ভোট প্রত্যাশা করেছেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ৯নং ওয়ার্ডের পৈলাবাড়ি গ্রামে সাধারণ সদস্য পদে রুবেল চৌধুরীর প্রার্থিতা ঘোষণার কথা জানানো হয়। সেখানে তিনি নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
আজকের সিলেট || সিলেটের তথ্য বিশ্বজুড়ে
প্রবাসে থেকেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রুবেল চৌধুরী দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। দেশে ফেরার পর তিনি ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়, গণসংযোগ ও নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
রুবেল চৌধুরীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জনগণের সমর্থন পেলে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আজকের সিলেট || সিলেটের তথ্য বিশ্বজুড়ে
এদিকে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বুল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতাও বাড়ছে। ৯নং ওয়ার্ডে রুবেল চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ