ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১৬ নদীর ভাঙন-ঘূর্ণিপাকে ঝুঁকিতে ১০ লাখ মানুষ, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি


১৬ নদীর ভাঙন-ঘূর্ণিপাকে ঝুঁকিতে ১০ লাখ মানুষ, বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

আসন্ন জাতীয় বাজেটে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর ভাঙন রোধ ও চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সচেতন নাগরিক সমাজ ও জনপ্রতিনিধিরা। প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদের তীব্র ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার।

ভুক্তভোগীদের মতে, অস্থায়ী প্রতিরোধ নয়, বরং স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা গেলে নদীপাড় ও চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন সম্ভব। অন্যদিকে জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্থায়ী সংকটে রেখে দেশের সার্বিক ও সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করেন সচেতন মহল।

সরেজমিনে প্রতি বছর দেখা যায়, বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই নদ-নদীর তীব্র ভাঙনে ভিটেমাটি ও আবাদী জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে অসংখ্য পরিবার। বন্যার সময় গৃহপালিত পশুসহ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রাণপন লড়াই করতে হয় তাদের। আবার শুষ্ক মৌসুমে খরায় কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় দেখা দেয় তীব্র টান। বন্যা, খরা আর নদীভাঙনের এই ত্রিমুখী ঘূর্ণিপাকেই কাটছে নদীপাড় ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, নদ-নদী এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখার প্রধান মাধ্যম হওয়ার কথা থাকলেও কুড়িগ্রাম জেলায় তা যেন এক চরম দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর প্রধান চারটি নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নতুন জেগে ওঠা চরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় হাজার হাজার পরিবার। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই চরটিও আবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে তাদের পুনরায় অন্য চরে বসত গড়তে হয়।

বার বার ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর অভিযোগ, ভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অস্থায়ী ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে তা রোধের চেষ্টা করে। কিন্তু পরের বছর বন্যার প্রবল স্রোতে তা ভেসে যায় এবং আবারও একই নিয়তি বরণ করতে হয়। এজন্য এবারের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে নদ-নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন তারা।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দুধকুমার পাড়ের বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, 'গত বছর বর্ষায় যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়ায় নদী ভাঙনে প্রায় ২শ টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এবারও নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা নদী পাড়ের মানুষরা বার বার ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। তাই এবারে নতুন সরকারের বাজেটে যেন ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়।'

স্বাধীনতার পর থেকে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর ভাঙনরোধে কোনো স্থায়ী সমাধান না করায় জেলাটি দেশের অন্যতম দরিদ্রতম জেলা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তাই বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নদীশাসন এবং একই সাথে চরের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে কাজ করার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

কুড়িগ্রামে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি খন্দকার খায়রুল আনম বলেন, 'জাতীয় বাজেটে সমবণ্টনের পাশাপাশি কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোর ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশেষ নজর দিতে হবে। চরাঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে এই জেলার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।'

কুড়িগ্রাম চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, 'কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে ১৬টি নদ-নদী প্রবাহিত। প্রতি বছর এসব নদ-নদীর ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। নদী ভাঙন রোধ এবং চরের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগের উন্নয়ন করা না গেলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না। তাই এসব বিশেষ এলাকার টেকসই উন্নয়নের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনসহ বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।'

কুড়িগ্রামসহ সারাদেশে নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় বিশেষ বাজেট বরাদ্দের পক্ষে মত দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যও। কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, 'দেশে নদ-নদীর ভাঙনরোধে বর্তমানে বাজেটে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা পর্যাপ্ত নয়। এই বরাদ্দ অন্তত দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানো উচিত। যাতে করে শুধু কুড়িগ্রাম নয়, সারাদেশের মানুষ নদী ভাঙনের স্থায়ী অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়।'

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান ভাঙনের তীব্রতার কথা স্বীকার করে জানান, প্রতি বছর বর্ষায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পয়েন্টে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। তবে এসব নদ-নদীর তীর রক্ষায় যদি দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী কাজ করা যায়, তবে ভাঙন ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

উল্লেখ্য, জেলার ৯টি উপজেলায় জালের মতো বিস্তার করে আছে প্রধান ৪টিসহ মোট ১৬টি নদ-নদী। এই নদীগুলোর অববাহিকায় গড়ে ওঠা সাড়ে ৪ শতাধিক চরাঞ্চলে প্রায় ৫ লাখ এবং নদীপাড়ের অববাহিকায় আরও ১০ লাখের বেশি মানুষ চরম ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। আসন্ন বাজেটে সরকার কুড়িগ্রামের এই প্রান্তিক জনগণের প্রাণের দাবিকে মূল্যায়ন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিআইজির কার্যালয়ে আবারও কালনাগিনী আতঙ্ক: দুই দিনে উদ্ধার ৪ সাপ, অভিযান অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ এম


ডিআইজির কার্যালয়ে আবারও কালনাগিনী আতঙ্ক: দুই দিনে উদ্ধার ৪ সাপ, অভিযান অব্যাহত

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে একের পর এক কালনাগিনী সাপের সন্ধান মিলছে। সর্বশেষ সোমবার (৮ জুন) আরও এক জোড়া কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করেছেন এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্যরা। এর ফলে গত দুই দিনে ডিআইজি কার্যালয় থেকে মোট চারটি কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে দুটি সাপ উদ্ধার করা হয়। এর আগে রোববারও একই স্থান থেকে এক জোড়া কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছিল।

সাপ উদ্ধারকারী সংগঠন এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর পরিচালক আসাদুল্লাহ্ হাসান মুসা জানান, রোববার বিকেলে ডিআইজি কার্যালয়ে সাপ দেখা যাওয়ার খবর পেয়ে তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সাপের অবস্থান শনাক্ত করতে ডিআইজির কক্ষের ডেকোরেশনের একটি অংশ এবং পরে দেয়ালের কিছু অংশ ভাঙতে হয়। দীর্ঘ চেষ্টার পর দেয়ালের ফাঁকা স্থান থেকে প্রথম জোড়া কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, সোমবার সকালে আবারও একই স্থানে সাপ দেখতে পান কার্যালয়ের কর্মরত পুলিশ সদস্যরা। খবর পেয়ে পুনরায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আরও একটি জোড়া কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করা হয়।

আসাদুল্লাহ্ হাসান মুসার মতে, কার্যালয়টি এখনো পুরোপুরি সাপমুক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। কারণ কর্মচারীরা আরও সাপ দেখার কথা জানিয়েছেন। সম্ভাব্য সব স্থানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সামাজিক বন বিভাগ বরিশাল সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফ রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া চারটি সাপের মধ্যে প্রথম দিনের দুটি সাপ ইতোমধ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার উদ্ধার হওয়া অপর দুটি সাপ বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কার্যালয়ের চারপাশে ঘন ঝোপঝাড় রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই সাপগুলো ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেছে। আরও সাপ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্টরা তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।

কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে একের পর এক সাপ উদ্ধারের ঘটনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পুরো এলাকা সাপমুক্ত করতে বিশেষ নজরদারি ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যায় পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে ভারত: গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ এম


পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যায় পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে ভারত: গবেষণা

বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক শক্তির প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এই প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান এবং ইসরায়েলকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত।

সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা 'স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট' (সিপ্রি)-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সাল জুড়ে ভারত আরও তার পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার বৃদ্ধির দিকে যাবতীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে ভারতের কাছে পরমাণু বোমার সংখ্যা পাকিস্তানের চেয়ে ২০টি বেশি রয়েছে।

সিপ্রি-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারত ১৯০টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র (ওয়ারহেড) ধরণ করছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের কাছে আছে ১৭০টি পারমাণবিক অস্ত্র। শুধুই এ নয়, ভারত ইতিমধ্যেই ১২টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র সরাসরি মোতায়েন করে রেখেছে। প্রতিবেদনে আরও বলেছে, ভারতের এই পরমাণু কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র পাকিস্তান নয়, বরং সেইসাথে পুরো চীন জুড়েও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার অস্ত্র তৈরিকে লক্ষ্য করানো হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের শত্রুতার বিষয়টিকেও মাথায় রাখছে নয়াদিল্লি।

অন্যদিকে, পাকিস্তানও শান্ত থাকতে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক দশকে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রাগারও আরও বড় হতে পারে।

প্রতিবেদনে গত ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলার ফলে ২৬ জন নিহত হয় এবং পরবর্তী সময়ে মে মাসে পাকিস্তান সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস করতে 'অপারেশন সিঁদুর' নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ভারত। সিপ্রি মনে করে, দুই দেশের এই সংঘাত পারমাণবিক ঝুঁকির আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

বর্তমানে বিশ্বে নয়টি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। দেশগুলো হল—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েল। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই দেশগুলোর কাছে মোট ১২,১৮৭টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। বিশ্বে মোট ব্যবহারযোগ্য পারমাণবিক অস্ত্রের প্রায় ৮৩ শতাংশই রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্টক করে রাখা আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ এম


আজ ঢাকার আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানালো আবহাওয়া অধিদপ্তর

আজকের আবহাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, এমন তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে গরমের প্রভাব বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে।

পাশাপাশি, দিনের তাপমাত্রা সাধারণত সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এ সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৫ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে আফ্রিকার শীর্ষ রেফারিকেও প্রবেশের অনুমতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৯ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:০৪ এম


বিশ্বকাপে আফ্রিকার শীর্ষ রেফারিকেও প্রবেশের অনুমতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে প্রথম সোমালিয়ান রেফারি হিসেবে ওমর আরতান নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ার কারণে বিশ্বকাপে অফিসিয়ালদের তালিকা থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (কাফ) বর্ষসেরা পুরুষ রেফারি হিসেবে মনোনীত হওয়া আরতানকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এখন তিনি তুরস্কে অবস্থান করছেন।

৩৪ বছর বয়সী আরতান আফ্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারি হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালে তিনি ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। ২০২৫ সালে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেন। চলতি বছর, একই প্রতিযোগিতার ফাইনালে তিনি রেফারিং কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং কর্মকর্তাদের দলের নেতৃত্ব দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত আরতানকে দেশে ফেরত পাঠানোর কারণ জানায়নি। তবে সোমালিয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকার অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি দেশের একটি। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাবার্তা বলার পর ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানায়, আরতান এখন বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনে অক্ষম।

ফিফার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ম্যাচ কর্মকর্তা ওমর আবদুলকাদির আরতান ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রশিক্ষণ ও ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। আয়োজক দেশের অভিবাসনের প্রক্রিয়া, ভিসা অনুমোদন কিংবা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে ফিফার কোনো ভূমিকা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, আপাতত আরতানের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।’

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ফিফার আগের আসরের মতো এবারও কোনো ব্যক্তি ভিসা পাবেন কি না এবং তাঁকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আয়োজক দেশের সরকারের কাছে আছে।’

সোমালিয়ার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে, ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছিলেন আরতান।

কেরিয়ার এবং যাতায়াত সহজ করতে সোমালির নাইরোবিতে অবস্থিত দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আরতানের জন্য বিশেষভাবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছিল।

এ ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে সোমালি ফুটবল ফেডারেশন (এসএফএফ) ইতোমধ্যে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং জরুরি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপবিষয়ক হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সের প্রধান আন্ড্রু গিওলিয়ানি বলেছেন, ‘এ বিষয়ে নেতিবাচক বা গোপন তথ্য নিয়ে আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না। তবে আমি বলতে পারি, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল এবং আমি সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি।’

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরতান বলেছেন, তিনি এখন ভবিষ্যতের দিকেই মনোযোগ দিতে চান। আরতান বলেন, ‘যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা সত্ত্বেও আমি ইতিবাচক আছি এবং আমার রেফারিং ক্যারিয়ারের পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে সমর্থন ও শুভকামনা জানিয়ে বার্তা পাঠানো ফুটবল পরিবারের সকলকে ধন্যবাদ। বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া আমার সহকর্মীদের জন্য শুভকামনা রইল। ভবিষ্যতের কোনো প্রতিযোগিতায় আবার তাঁদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় থাকলাম।’

আরতান ৫২ রেফারির মধ্যে একজন ছিলেন, যাদের ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল ফিফা। কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র তিনটি দেশে যৌথভাবে আয়োজিত হবে বিশ্বকাপ, যা অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%