মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১৬ এম
বেকারত্ব দূরীকরণ ও শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে টাঙ্গাইলে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী জব ফেয়ারে তাৎক্ষণিকভাবে ৪৪৬ জনের চাকরি হয়েছে। পাশাপাশি বাছাই করা আরও ১ হাজার ৫৮১ জনের চাকরি আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। ফলে মেলার মাধ্যমে মোট ২ হাজার ২৭ জন চাকরিপ্রার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জনসেবা চত্বরে দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এসময় জব ফেয়ারে চাকরি পাওয়া কয়েকজন তরুণ-তরুণীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ জব ফেয়ারে জেলার শীর্ষস্থানীয় এনজিও, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৫১টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অনলাইন ও অফলাইনে সিভি সংগ্রহের পাশাপাশি মেলায় সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জব ফেয়ারে অনলাইন ও অফলাইনে সর্বমোট ১১ হাজার ৪২৭ জন চাকরিপ্রার্থী নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ৪৪৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাছাই করা আরও ১ হাজার ৫৮১ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। সব মিলিয়ে এ জব ফেয়ারের মাধ্যমে ২ হাজার ২৭ জনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘এটা প্রাথমিকভাবে আয়োজন করা হয়েছিল। বেশ সাড়া ফেলেছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এটি আরও বড় পরিসরে কীভাবে করা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনের আগেও বলেছি, টাঙ্গাইলের একজন শিক্ষিত যুবকও যাতে বেকার না থাকে, আমি সেই অনুযায়ী কাজ করব।’
জব ফেয়ারের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একজন শিক্ষিত ও দক্ষ মানুষ যাতে বেকার না থাকে এবং শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করার পর প্রত্যেকে যাতে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগ পায়, সে পরিবেশ ও ক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
চাকরি না পাওয়া প্রার্থীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘আজকে যাদের চাকরি হলো না, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তাদের সিভি জমা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের জব ফেয়ার সারাদেশে আয়োজন করা হলে চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটতে হবে না। একই জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, চাকরি করতে আগ্রহী অনেক শিক্ষিত মানুষ বিভিন্ন সময়ে তার কাছে কর্মসংস্থানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি জব ফেয়ার আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখান। পরবর্তীতে তার পরামর্শ ও সহযোগিতায় এ জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, জব ফেয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে পেরেছে। এতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন উৎসাহ সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জব ফেয়ার আয়োজন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে ধনবাড়ী উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা, কেক কাটার অনুষ্ঠান, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমান।
এতে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব এনামুল হক ভিপি, ধনবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম এ ছোবহান, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাফেজ খাইরুল ইসলাম মুন্সি, ধোপাখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন তালুকদার মিন্টু, ধনবাড়ী পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. কছর আলীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। তারা দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। অনুষ্ঠানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপির প্রয়াত নেতাকর্মীদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিত্যাগ করে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতিতে মনোনিবেশ করা আবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি শুরু হয়েছে। মুকসুদপুরের প্রতিটি ঘরে ঘরে ধানের শীষের জয়জয়কার, বিএনপির জয়জয়কার, তারেক রহমানের জয়জয়কার।’
আলোচনাসভায় মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম খান সভাপতিত্ব করেন। এ সময় গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, মুকসুদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল বাশার, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাসভার পূর্বে কমলাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে কলেজ মোড়ের সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গাজীপুরে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে গাজীপুর মহানগর বিএনপি।
মঙ্গলবার এসব কর্মসূচিতে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার, সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি এবং বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
বিকালে কালীগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
অন্যদিকে, সকালে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর এলাকায় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর বাইপাস এলাকায় অনুষ্ঠিত আরেকটি র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হাততালি, স্লোগান এবং পদক জয়ের আনন্দের মধ্যে দিয়ে গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে কুমারখালী এম এন পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এই প্রতিযোগিতার সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শেষ দিন সকাল থেকেই উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছিল।
বিগত কয়েক দিন ধরে এই প্রতিযোগিতায় উপজেলার ৭২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খুদে ক্রীড়াবিদরা অংশগ্রহণ করেন। হ্যান্ডবল, কাবাডি, সাঁতার ও দাবাসহ বিভিন্ন ইভেন্ট ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। মাঠজুড়ে শিক্ষার্থীদের উল্লাস এবং সমর্থকদের করতালি ছিল। পদক জয়ের আনন্দে খুদে ক্রীড়াবিদরা উচ্ছ্বসিত ছিলেন।
সুরাইয়া ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘অনেক দিন ধরে অনুশীলন করেছি। আজ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। খুব ভালো লাগছে।’
অন্যদিকে, সানজিদা আক্তার নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মেয়েরাও যে খেলায় ভালো করতে পারে, আজ তা প্রমাণ করলাম।’ প্রতিযোগী মো. সাব্বির জানান, ‘বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পেরে মজা হয়েছে। হার-জিত আছে, তবে খেলায় অনেক আনন্দ হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করা। যারা ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে দেশের হয়ে খেলবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘খেলার মাঠই পারে তরুণদের বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।’
বিকেলে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার। তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা শুধু শরীর গঠন করে না, চরিত্রও গঠন করে। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা জরুরি। শিক্ষার্থীরা মাঠে থাকলে মাদক ও স্মার্টফোনের অপব্যবহার থেকে দূরে থাকবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ