মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১৩ এম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে কুষ্ঠমুক্ত করার জন্য দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি মন্তব্য করেন, জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে বাংলাদেশ কুষ্ঠের মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকিতে থাকলেও দেশের বৃহৎ জনসংখ্যাই আমাদের শক্তি। চিকিৎসকরা নানা সীমাবদ্ধতা ও জনসংখ্যার চাপের মধ্যে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন, যা তিনি উল্লেখ করে তাদের অবদানের প্রশংসা করেন।
ঢাকায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত কুষ্ঠমুক্ত বাংলাদেশ: প্রমাণ, চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের রূপরেখা—বাংলাদেশে কুষ্ঠরোগ পরিস্থিতি নিয়ে যৌথ পর্যবেক্ষণ মিশনের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কুষ্ঠ নির্মূলে সাসাকাওয়া হেলথ ফাউন্ডেশন যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এনজিও অংশীদাররাও কুষ্ঠ নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তিনি তাদের কাজের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা কামনা করেন।
সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে কুষ্ঠমুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. শাহ আলী আকবর আশরাফী, ডা. রাজেশ নারওয়াল, অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, প্রফেসর ডা. তাকাহিরো নানরী, শেখ মোমেনা মনি, ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ, ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ এবং ডা. মাহবুব আরেফিন রেজানুর। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ডা. আফসানা আলমগীর খান, ডা. আয়া ইয়াজিমা ও ডা. ভিভেক লাল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পড়তে বা লিখতে জানেন না। অথচ রেডিওতে কুরআন তিলাওয়াত শুনে ও দীর্ঘদিনের অনুশীলনে পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করেছেন মিশরের ৭১ বছর বয়সি সুকরা সেলিম এবং তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ৭১ বছর বয়সি থানা জিদানও সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ হয়েছেন। মেনুফিয়া প্রদেশের মিত শেহালা গ্রামের এই দুই নারীর কুরআনের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলার ঘটনা দেশটির সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
সুকরা ৫০ বছর বয়সে কুরআন হিফজ শুরু করেন। প্রথম দিকে প্রতিদিন মাত্র দুই আয়াত মুখস্থ করতেন এবং সারা দিন সেগুলো বারবার পড়তেন। পড়তে-লিখতে না জানায় রেডিওতে কুরআন তিলাওয়াত শোনা ও হিফজের আসরে অংশ নেওয়াই ছিল তার প্রধান অবলম্বন। স্বামী মারা যাওয়ার সময় তার ১৬ পারা মুখস্থ ছিল। এরপরও অনুশীলন চালিয়ে গিয়ে তিনি পুরো কুরআন মুখস্থ করেন। বর্তমানে সুকরা ও থানা প্রতিদিন পাঁচ পারা করে একসঙ্গে কুরআন পুনরাবৃত্তি করেন এবং সপ্তাহে একবার পুরো কুরআন খতম করেন।
থানা জিদানের কুরআন হিফজের ইচ্ছা ছিল ছোটবেলা থেকেই। পারিবারিক দায়িত্ব ও সন্তানদের বড় করার পর তিনি হিফজে মনোনিবেশ করেন এবং ৬৫ বছর বয়সে পুরো কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন। এরপর থেকে সুকরার সঙ্গে নিয়মিত কুরআন পুনরাবৃত্তি করে আসছেন।
গত ৩০ আগস্ট ‘বিশ্ব কুরআন বর্ণনা দিবস’-এর আয়োজনে অংশ নিয়ে ফজরের নামাজের পর তিনি কুরআন তেলাওয়াত শুরু করেন। প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে এক বৈঠকে মুখস্থ থেকে পুরো কুরআন তেলাওয়াত করেন থানা।
একই আয়োজনে সুকরাও অংশ নেন এবং মুখস্থ থেকে কুরআন তেলাওয়াত করেন। আল-আজহারের তত্ত্বাবধানে তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত এই কর্মসূচির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘পড়ো ও উন্নত হও’। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হাফেজদের মুখস্থ থেকে কুরআন তেলাওয়াতের সুযোগ দেওয়া হয়।
তাদের কুরআন হিফজ ও তেলাওয়াতের স্বীকৃতি হিসেবে পরে মেনুফিয়া প্রদেশের ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষ সুকরা ও থানাকে সম্মাননা দেয়। এরপর সৌদি আরবপ্রবাসী মিশরীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাইসাম সুলতান দুজনকে ওমরাহ পালনের জন্য দুটি সফর উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন। তাদের ওমরাহ পালনে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
পড়তে-লিখতে না জেনেও শুনে শুনে কুরআন মুখস্থ করা ৭১ বছর বয়সি সুকরা সেলিম এবং দীর্ঘ সাধনায় একই বয়সে পুরো কুরআন হিফজ করে এক বৈঠকে তা তেলাওয়াত করা থানা জিদানের ঘটনা মিশরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে বিমানের টয়লেট থেকে ৫০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। টানা প্রায় চার ঘণ্টার তল্লাশিতে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা এসব স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সিঙ্গাপুর থেকে ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান অবতরণের পরপরই পূর্বপ্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উড়োজাহাজটিতে নিবিড় তল্লাশি শুরু করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে বিমানের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে টয়লেটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণবারের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। পরে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন ১০ তোলা। ৫০টি স্বর্ণবারের মোট ওজন ৫০০ তোলা, যা প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজির সমান। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা।
এ ঘটনায় উদ্ধার করা স্বর্ণের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এর নেপথ্যে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র রয়েছে কিনা, তা শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্বর্ণ চোরাচালানের বড় চালান শনাক্ত ও জব্দের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত চক্রকে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। সীমিত এ সুবিধার আওতায় সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে ব্রিটিশ বিমানবাহিনী। খবর বিবিসির
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পর তিনি এই সহায়তায় সম্মতি দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি ব্রিটিশ ভয়েজার বিমান দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হতে পারে। বিমানটি সাইপ্রাসের আরএএফ আকরোটিরি ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হবে। সহায়তাটি সময়সীমাবদ্ধ এবং প্রাথমিকভাবে কয়েক সপ্তাহের জন্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে হুথিদের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়ানোই এই সহায়তার উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। শনিবার রিয়াদের কাছে হামলার পর আগুন ও ধোঁয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদমুখী একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে।
হুথিদের সঙ্গে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের দীর্ঘদিনের সংঘাত রয়েছে। সৌদি আরব ওই সরকারকে সমর্থন করে আসছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনায় লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারাদেশে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পালিত হবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম। এ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে দিনটি সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি নয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি ও ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। ফলে সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা এদিন ছুটি পাবেন।
তবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ ছুটি নয়। তাদের জন্য দিনটি নিয়মিত কর্মদিবস হিসেবে গণ্য হবে। অবশ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কেউ চাইলে দিনটিকে ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে নিতে পারবেন।
একইভাবে বেসরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। ব্যাংক, বিমা, করপোরেট অফিসসহ অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কর্মদিবস হিসেবে অফিস খোলা থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাধারণ ছুটি পাবেন না।
‘ইয়াজদাহম’ অর্থ এগারো, আর ‘ফাতেহা’ অর্থ দোয়া করা। ইসলামের অন্যতম প্রচারক ও আল্লাহর ওলি বড় পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানী (র.) এর ওফাত দিবস উপলক্ষে মুসলমানদের দোয়া ও ধর্মীয় আয়োজনকে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম বলা হয়।
ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি হজরত আবদুল কাদের জিলানী (র.) ইন্তেকাল করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা দিনটি ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হিসেবে পালন করে আসছেন।
সরকারি ক্যালেন্ডারে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম মুসলিম পর্বের একটি ঐচ্ছিক ছুটি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষাপঞ্জিতে ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি হিসেবে নির্ধারিত হওয়ায় এদিন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
ছুটি পাবেন: সরকারি-বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারী, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারী,
মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারী, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারী।
সাধারণ ছুটি পাবেন না: সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের কর্মী, করপোরেট ও অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।
অর্থাৎ, ২৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছুটির দিন হলেও সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি সাধারণ ছুটির দিন নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ