ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা ৪৯৮টি স্পট নিয়ে চূড়ান্ত হচ্ছে


সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা ৪৯৮টি স্পট নিয়ে চূড়ান্ত হচ্ছে

সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা ৪৯৮টি স্পট নিয়ে চূড়ান্ত হচ্ছে।

 

দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করার লক্ষ্যে এবং দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধবভাবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ‘জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ ও সমাবেশ, গ্রেফতারের দাবি

 

এছাড়া, সারা দেশে সম্ভাব্য প্রায় ১৪৯৮টি পর্যটন স্থান চিহ্নিত করে একটি যুগোপযোগী ও সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কার্যক্রম বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সরকারের এসব পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য প্রদান করেন।

মন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে পর্যটন খাতের সঠিক তথ্যের অভাব দূর করার জন্য এবং সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ প্রণয়নের কার্যক্রমও বর্তমানে চলছে।

আরও পড়ুন: আইনজীবী নেতাদের কাছে চাঁদা দাবি, মোল্লা ইয়ামিন ও তার পরিবার গ্রেফতার

পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

 

মন্ত্রী আরও জানান, স্থানীয় জনসাধারণকে সরাসরি যুক্ত করে ‘কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম’ মডেলে পর্যটন স্পটগুলোর পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার জন্য বিশেষায়িত ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল ও কাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে সমন্বিত করার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সাংস্কৃতিক পর্যটনের সার্বিক প্রসারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লক্ষ্যে শীঘ্রই দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে।

আরও পড়ুন: এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নারীর মৃত্যু, তামাবিল দিয়ে লাশ হস্তান্তর

 

স্মারক স্বাক্ষরের পর দ্রুত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি প্রণয়ন করা হবে এবং পুরো কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এছাড়া, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে কার্যকরভাবে তুলে ধরার জন্য ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ (beautifulbangladesh.gov.bd) শিরোনামে একটি নতুন অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টাল তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে মাদক-জুয়া ও সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে মতবিনিময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


মধুপুরে মাদক-জুয়া ও সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে মতবিনিময়

মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার প্রতিরোধের লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের মধুপুরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ৯ নম্বর অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, মাদক ও জুয়ার বিস্তার শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং এটি একটি পরিবার এবং পুরো সমাজের জন্যও হুমকিস্বরূপ। একইভাবে, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। এ ধরনের সমস্যাগুলো নির্মূল করতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণেরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অরণখোলা ইউনিয়নের প্রশাসক শারমিন সুলতানা সুমি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক, বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবলু, থানার সেকেন্ড অফিসার আমিনুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা এবং আইসিটি কর্মকর্তা আব্রারুল হক শিমুল।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধের জন্য প্রথমে জনসচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মাদক ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করে তাদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।

বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা অরণখোলা ইউনিয়নে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনসহ সকল ধরনের সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মির্জা আব্বাস দেশে ফিরছেন ২ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


মির্জা আব্বাস দেশে ফিরছেন ২ সেপ্টেম্বর

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান আজ বাসস’কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আগামী ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মির্জা আব্বাসের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় তার চিকিৎসা চলছিল। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি অনেকটা সুস্থ হয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শেই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় মির্জা আব্বাস হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানে নিউরোলজি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল টিম তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার (ব্রেন সার্জারি) সম্পন্ন করে।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ মার্চ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরে তাকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রায় এক মাস ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পৈতৃক জমি দখলের চক্রান্ত ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে তেঁতুলিয়ায় চার বোনের সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


পৈতৃক জমি দখলের চক্রান্ত ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে তেঁতুলিয়ায় চার বোনের সংবাদ সম্মেলন

তেঁতুলিয়ার চার বোন সংবাদ সম্মেলন করে পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা, হয়রানিমূলক মামলা দায়ের এবং জমিতে রোপণ করা ফসল কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন যাতে তারা হয়রানি ও সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

৩০ আগস্ট রোববার তেঁতুলিয়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চার বোন রমিনা (৫০), জুলেখা (৫৫), তসলিমা (৪০) ও রহিমা (৪৫) উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য আসির (৬০)ও ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা লিখিত বক্তব্যে জানান, তারা চার বোন ও এক ভাই। তাদের বাবার রেখে যাওয়া পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পূর্বে আদালতে মামলা হয়েছিল। পরে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তারা জমির অধিকার লাভ করেন এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জমি বিক্রিও সম্পন্ন করেছেন।

তাদের অভিযোগ, আদালতের রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া জমির বাইরের আরও ২৫ শতক জমি একটি প্রভাবশালী পক্ষ অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছে। তারা বলেন, এ কারণে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে একের পর এক হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ জমিতে তারা রোপণ করা ফসল কেটে নেওয়ার মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জমির বিবরণ:

মৌজা—দর্জিপাড়া, খতিয়ান নম্বর—৩৯, দাগ নম্বর—১৪১৫, জমির পরিমাণ—২৫ শতক।

সংবাদ সম্মেলন থেকে চার বোন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, হয়রানিমূলক মামলা থেকে প্রতিকার, ফসল কাটার ঘটনার তদন্ত এবং তাদের পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাতার সম্পত্তি ভোগদখলের অধিকার নিয়ে আসছে নতুন আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


দাতার সম্পত্তি ভোগদখলের অধিকার নিয়ে আসছে নতুন আইন

জীবনের দীর্ঘ সঞ্চয়ে গড়া একটি বাড়ি। উঠানে সন্তানের শৈশবের স্মৃতি, দেয়ালে পরিবারের অসংখ্য গল্প। বয়সের ভারে একসময় সেই বাবা-মাই হয়তো সম্পত্তিটি সন্তানের নামে লিখে দিতে চান। কিন্তু মনের ভেতরে থেকে যায় একটি অদৃশ্য ভয়-সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর যদি একদিন নিজের ঘরেই নিজের জায়গা না থাকে?

বাংলাদেশের বহু পরিবারের পরিচিত এই বাস্তবতায় এবার আইনি সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা স্বামী-স্ত্রী সম্পত্তি দান করার পরও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যাতে সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারেন, সে সুযোগ রেখে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। বিলটি পাস হলে নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগত স্বীকৃতি পাবে।

আইনটির পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভাবনা—সম্পত্তি হস্তান্তর করলেই যেন একজন বাবা-মাকে তার পরিচিত ঘর, বসতভিটা কিংবা জীবনযাপনের নিরাপত্তা হারাতে না হয়।

বর্তমানে সম্পত্তি দানের বিভিন্ন আইনি পদ্ধতি থাকলেও দাতা তার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার নিজের কাছে রেখে দান করতে পারবেন—এ বিষয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ফলে সন্তান বা নিকটজনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সময় প্রবীণ বাবা-মাকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়।

প্রস্তাবিত আইনে সেই জায়গাটিতেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

বিলে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন ১২২ক ও ১২২খ ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘আজীবন ভোগদখলের অধিকার’ সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানকে হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, কোনো বাবা-মা তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন, আবার নাতি-নাতনিরাও তাদের পিতা-মাতা কিংবা দাদা-দাদি ও নানা-নানিকে এ ধরনের সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও একই ধরনের হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।

তবে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ দান করতে হবে।

আইনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারবেন। অর্থাৎ সন্তান বা অন্য কোনো নিকটজনের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও বাবা-মা তাদের বসতবাড়ি কিংবা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না।

ধরা যাক, একজন বাবা তার একমাত্র বাড়িটি সন্তানের নামে দান করলেন। নতুন আইনের আওতায় দলিলে যদি তার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষিত থাকে, তাহলে মালিকানা হস্তান্তরের পরও জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতে বসবাস ও সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। সন্তানের মৃত্যু হলেও সেই অধিকার শেষ হবে না।

বিলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে; কিন্তু দাতার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে এবং তা সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

অর্থাৎ উত্তরাধিকার পরিবর্তিত হলেও একজন বৃদ্ধ বাবা কিংবা মা তার জীবনকালীন নিরাপত্তা হারাবেন না।

শুধু তাই নয়, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিলে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ অধিকার পরিবর্তন, প্রত্যাহার বা অন্যভাবে ব্যবস্থাপনা করা যাবে।

কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অসুস্থ বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে জেলা জজের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আবেদনটি সৎ বিশ্বাসে করা হয়েছে কি না- এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সরকারের মতে, প্রস্তাবিত আইনটি কোনো প্রচলিত দান বা হেবা ব্যবস্থাকে বাতিল কিংবা সীমিত করবে না।

সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা এবং আইনস্বীকৃত অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতি আগের মতোই বহাল থাকবে। নতুন ব্যবস্থা হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক পদ্ধতি এবং এটি সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

সম্পত্তি শুধু ইট-পাথর, জমি কিংবা অর্থের হিসাব নয়। একটি বাড়ি অনেক সময় একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। সেই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সন্তান পালনের স্মৃতি, দাম্পত্য জীবনের গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং শেষ বয়সে একটু নিশ্চিন্তে থাকার আকাঙ্ক্ষা।

সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন সেই নিরাপত্তাটুকু হারিয়ে না যায়-প্রস্তাবিত আইনের মানবিক দিকটি মূলত সেখানেই।

সরকারের উদ্যোগ সফল হলে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দাতা তার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সম্পত্তির ব্যবহার ও ভোগের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন। 

ফলে ‘সম্পত্তি দিয়ে দিলেই সব হারাতে হবে’-এমন আশঙ্কার জায়গায় তৈরি হতে পারে আইনি নিশ্চয়তা।

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিলটি এখন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায়। আইনটি পাস হলে সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রচলিত ব্যবস্থায় যুক্ত হবে একটি নতুন মানবিক সুরক্ষা-সম্পত্তি যাবে উত্তরসূরির কাছে, কিন্তু জীবনের শেষ আশ্রয়টুকু থাকবে দাতার নিরাপদ হাতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%