ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পৈতৃক জমি দখলের চক্রান্ত ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে তেঁতুলিয়ায় চার বোনের সংবাদ সম্মেলন


পৈতৃক জমি দখলের চক্রান্ত ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে তেঁতুলিয়ায় চার বোনের সংবাদ সম্মেলন

তেঁতুলিয়ার চার বোন সংবাদ সম্মেলন করে পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা, হয়রানিমূলক মামলা দায়ের এবং জমিতে রোপণ করা ফসল কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন যাতে তারা হয়রানি ও সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

৩০ আগস্ট রোববার তেঁতুলিয়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চার বোন রমিনা (৫০), জুলেখা (৫৫), তসলিমা (৪০) ও রহিমা (৪৫) উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য আসির (৬০)ও ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা লিখিত বক্তব্যে জানান, তারা চার বোন ও এক ভাই। তাদের বাবার রেখে যাওয়া পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পূর্বে আদালতে মামলা হয়েছিল। পরে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তারা জমির অধিকার লাভ করেন এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জমি বিক্রিও সম্পন্ন করেছেন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ

তাদের অভিযোগ, আদালতের রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া জমির বাইরের আরও ২৫ শতক জমি একটি প্রভাবশালী পক্ষ অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছে। তারা বলেন, এ কারণে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে একের পর এক হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ জমিতে তারা রোপণ করা ফসল কেটে নেওয়ার মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জমির বিবরণ:

আরও পড়ুন: নরসিংদী বেলাবোতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা

মৌজা—দর্জিপাড়া, খতিয়ান নম্বর—৩৯, দাগ নম্বর—১৪১৫, জমির পরিমাণ—২৫ শতক।

সংবাদ সম্মেলন থেকে চার বোন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, হয়রানিমূলক মামলা থেকে প্রতিকার, ফসল কাটার ঘটনার তদন্ত এবং তাদের পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাতার সম্পত্তি ভোগদখলের অধিকার নিয়ে আসছে নতুন আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


দাতার সম্পত্তি ভোগদখলের অধিকার নিয়ে আসছে নতুন আইন

জীবনের দীর্ঘ সঞ্চয়ে গড়া একটি বাড়ি। উঠানে সন্তানের শৈশবের স্মৃতি, দেয়ালে পরিবারের অসংখ্য গল্প। বয়সের ভারে একসময় সেই বাবা-মাই হয়তো সম্পত্তিটি সন্তানের নামে লিখে দিতে চান। কিন্তু মনের ভেতরে থেকে যায় একটি অদৃশ্য ভয়-সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর যদি একদিন নিজের ঘরেই নিজের জায়গা না থাকে?

বাংলাদেশের বহু পরিবারের পরিচিত এই বাস্তবতায় এবার আইনি সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা স্বামী-স্ত্রী সম্পত্তি দান করার পরও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যাতে সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারেন, সে সুযোগ রেখে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। বিলটি পাস হলে নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগত স্বীকৃতি পাবে।

আইনটির পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভাবনা—সম্পত্তি হস্তান্তর করলেই যেন একজন বাবা-মাকে তার পরিচিত ঘর, বসতভিটা কিংবা জীবনযাপনের নিরাপত্তা হারাতে না হয়।

বর্তমানে সম্পত্তি দানের বিভিন্ন আইনি পদ্ধতি থাকলেও দাতা তার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার নিজের কাছে রেখে দান করতে পারবেন—এ বিষয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ফলে সন্তান বা নিকটজনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সময় প্রবীণ বাবা-মাকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়।

প্রস্তাবিত আইনে সেই জায়গাটিতেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

বিলে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন ১২২ক ও ১২২খ ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘আজীবন ভোগদখলের অধিকার’ সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানকে হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, কোনো বাবা-মা তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন, আবার নাতি-নাতনিরাও তাদের পিতা-মাতা কিংবা দাদা-দাদি ও নানা-নানিকে এ ধরনের সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও একই ধরনের হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।

তবে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ দান করতে হবে।

আইনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারবেন। অর্থাৎ সন্তান বা অন্য কোনো নিকটজনের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও বাবা-মা তাদের বসতবাড়ি কিংবা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না।

ধরা যাক, একজন বাবা তার একমাত্র বাড়িটি সন্তানের নামে দান করলেন। নতুন আইনের আওতায় দলিলে যদি তার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষিত থাকে, তাহলে মালিকানা হস্তান্তরের পরও জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতে বসবাস ও সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। সন্তানের মৃত্যু হলেও সেই অধিকার শেষ হবে না।

বিলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে; কিন্তু দাতার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে এবং তা সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

অর্থাৎ উত্তরাধিকার পরিবর্তিত হলেও একজন বৃদ্ধ বাবা কিংবা মা তার জীবনকালীন নিরাপত্তা হারাবেন না।

শুধু তাই নয়, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিলে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ অধিকার পরিবর্তন, প্রত্যাহার বা অন্যভাবে ব্যবস্থাপনা করা যাবে।

কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অসুস্থ বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে জেলা জজের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আবেদনটি সৎ বিশ্বাসে করা হয়েছে কি না- এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সরকারের মতে, প্রস্তাবিত আইনটি কোনো প্রচলিত দান বা হেবা ব্যবস্থাকে বাতিল কিংবা সীমিত করবে না।

সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা এবং আইনস্বীকৃত অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতি আগের মতোই বহাল থাকবে। নতুন ব্যবস্থা হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক পদ্ধতি এবং এটি সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

সম্পত্তি শুধু ইট-পাথর, জমি কিংবা অর্থের হিসাব নয়। একটি বাড়ি অনেক সময় একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। সেই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সন্তান পালনের স্মৃতি, দাম্পত্য জীবনের গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং শেষ বয়সে একটু নিশ্চিন্তে থাকার আকাঙ্ক্ষা।

সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন সেই নিরাপত্তাটুকু হারিয়ে না যায়-প্রস্তাবিত আইনের মানবিক দিকটি মূলত সেখানেই।

সরকারের উদ্যোগ সফল হলে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দাতা তার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সম্পত্তির ব্যবহার ও ভোগের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন। 

ফলে ‘সম্পত্তি দিয়ে দিলেই সব হারাতে হবে’-এমন আশঙ্কার জায়গায় তৈরি হতে পারে আইনি নিশ্চয়তা।

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিলটি এখন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায়। আইনটি পাস হলে সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রচলিত ব্যবস্থায় যুক্ত হবে একটি নতুন মানবিক সুরক্ষা-সম্পত্তি যাবে উত্তরসূরির কাছে, কিন্তু জীবনের শেষ আশ্রয়টুকু থাকবে দাতার নিরাপদ হাতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তের প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একটি ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সম্পর্ক পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রবিবার (৩০ আগস্ট) তিনি নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান।

তবে, চিফ প্রসিকিউটর ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম প্রকাশ করেননি।

বেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তের সময় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার কথা এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তিনি উল্লেখ করেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইং আগে থেকেই অবহিত ছিল। এক ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জোহা বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ওই কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল, ‘একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’

কিন্তু কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পরদিন সকালে তিনি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। প্রকাশিত এই খবরে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিক চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য জানতে চান। তখন আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাগর-রুনির ইনভেস্টিগেশনটা আমাদের (ট্রাইব্যুনালের) ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (তদন্ত সংস্থা) করছে না। এটা (সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে) করছে পিবিআই।’

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা একটি ইনভেস্টিগেশন করতে গিয়ে অনেক সময় অন্য কোনো ঘটনার ক্লু পেয়ে যাই। যেমনটা আমরা পেয়েছিলাম মুজাফফরের (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মুজাফফর হোসেন) ব্যাপারে। এখন যেমন আমরা সাগর-রুনির তদন্তের ব্যাপারে ক্লু পেয়েছি। তবে আমরা নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না। তবে এইটুকু বলতে পারছি যে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনির ঘটনার (হত্যাকাণ্ডে) একটা কানেকশন পাওয়া গেছে।’

মামলাসংশ্লিষ্ট সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) পর্যালোচনার সময় ‘এই কানেকশনটা পাওয়া যায়’ জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা সেগুলা যাচাই-বাছাই করে দেখছি। তার ওপর (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব) আমাদের নজরদারিতে আছেন। আরো ইনভেস্টিগেশন হওয়ার পরে আরো অথেন্টিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের যারা সংশ্লিষ্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার আছেন, তাদের আমরা হয়তো এই তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করব।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু এটা (সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে) ওয়াইডস্প্রেড (বৃহৎ পরিসরে) বা সিস্টেমেটিক (পদ্ধতিগত) অফেন্স (অপরাধ) না, এটা একটা ইন্ডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস, সে কারণে এটা সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে। এখন দেখা যাক, কোথায় যায় কী হয়!’

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ দেন।

২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের আদেশে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাবকে। চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন চেয়ে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানির পর আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন। বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর ওই বছর অক্টোবরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এরপর গত দেড় বছরে আদালত থেকে তিনবার সময় নেয় টাস্কফোর্স। পরে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, যা গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্টে তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সেদিন টাস্কফোর্সের অগ্রগতি প্রতিবেদন থেকে প্রকাশযোগ্য কিছু তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হাইকোর্টকে বলেন, ‘ওই সময় (হত্যাকাণ্ডের সময়) দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, অন্যান্য দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তি, এমনকি ওই সময়ের পুলিশ প্রশাসনের তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কারো কাছে বর্তমান টাস্কফোর্স কোনো অ্যাকসেস পাচ্ছেন না। ওই সময় যাদেরকে আমরা সচরাচর টেলিভিশনে দেখতাম, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের আমরা পাইনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ শুরুতে একমত বাংলাদেশ-চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ শুরুতে একমত বাংলাদেশ-চীন

বাংলাদেশ ও চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে, হুমায়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও মূল্যবান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বাংলাদেশের এক চীন নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর, দুই দেশের সম্পর্ক ‘ভাগাভাগি ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত হওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

চীনের রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে তার সহযোগিতা কামনা করেন। চীনের নির্বাহী উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও তিনি হুমায়ুন কবিরকে শুভেচ্ছা জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন ফলাফল তুলে ধরেন ইয়াও ওয়েন। এর মধ্যে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি সই এবং মোংলায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত জানান, সিইআইজেডে প্রায় ৩০টি চীনা কম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে। এতে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এবং স্থানীয় বাংলাদেশিদের জন্য আনুমানিক এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

এর মধ্যে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ে কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর বিষয় ছিল।

এ ছাড়া, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর, রোহিঙ্গা সংকটে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল ও পেয়ারা রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিআইডিসিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং ইউনান প্রদেশের নির্বাহী ভাইস গভর্নরের বাংলাদেশ সফরসহ আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফর ও বিনিময় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

এ সময়, চীনের রাষ্ট্রদূত আগামী অক্টোবর মাসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ম্যাডাম আর নেই, তবে তার শিক্ষা আমাদের হৃদয়ে চিরদিন রয়ে যাবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


‘ম্যাডাম আর নেই, তবে তার শিক্ষা আমাদের হৃদয়ে চিরদিন রয়ে যাবে’

‘ম্যাডাম আর নেই, কিন্তু তার শিক্ষা আমাদের বুকেই রয়ে গেল’

 

‘ম্যাডাম আমাদের খুব ভালোবাসতেন। স্কুলে না গেলে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতেন।

বলতেন—মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, বৃত্তি পেতে হবে। আজ ম্যাডাম আর নেই... কিন্তু তার শেখানো শিক্ষা আর ভালোবাসা আমাদের বুকেই রয়ে গেল।’

এই কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার। প্রিয় প্রধান শিক্ষিকার নিথর মুখটি শেষবারের মতো দেখতে বিদ্যালয়ে এসেছে সে।

 

কিন্তু তার চোখের অশ্রু থামছে না।

সামিয়ার পাশে থমকে দাঁড়িয়ে আছে সহপাঠী মাহফুজা আক্তার। তার হাতে প্রধান শিক্ষিকার আঁকা একটি ছবি। ছবিটি বুকের ভেতরে আঁকড়ে ধরে সে বলে, ‘ম্যাম আমাদের কত খেয়াল রাখতেন! ঠিকমতো খেয়েছি কি না, খোঁজ নিতেন।

 

আজ ম্যাডাম নেই... শুধু তার আঁকা ছবি আর স্মৃতিগুলোই আমাদের কাছে রয়ে গেল।’

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকেই নেমে আসে গভীর নীরবতা ও শোকে নিমজ্জিত এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। প্রিয় প্রধান শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনকে শেষ বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয় শত শত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সহকর্মী ও স্থানীয় মানুষ।

চোখের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ঢাকায় ছিনতাইকারীর নির্মমতায় প্রাণহানি।

৫৭ বছর বয়সী রনজিলা পারভীন বগুড়া শহরের রহমাননগরে বসবাস করতেন। দীর্ঘ ৩০-৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি ছিলেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত প্রিয় ও মমতাময়ী এক রূপকার।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে চোখের চিকিৎসার জন্য ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। শনিবার ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে নেমে ফার্মগেটের ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশে রিকশায় ওঠেন এই দম্পতি।

সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার হাতব্যাগ ধরে সজোরে টান দেয়। ছিনতাইকারীদের নিষ্ঠুর টানে চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে শক্ত পিচঢালা রাস্তায় পড়ে যান রনজিলা পারভীন। মাথায় পান গুরুতর আঘাত। রক্তে ভেসে যায় পথ।

পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‘আর মাত্র ৩০-৪০ সেকেন্ড পরেই হাসপাতালে পৌঁছাতাম...’

স্ত্রীর এমন বিভীষিকাময় মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বামী আব্দুল মতিন। কান্নায় রুদ্ধ হয়ে আসে তার কণ্ঠ, ‘আমরা তো প্রায় পৌঁছেই গিয়েছিলাম... আর হয়তো ৩০ বা ৪০ সেকেন্ড লাগতো হাসপাতালে পৌঁছাতে। তার আগেই দানবের মতো এসে মোটরসাইকেলের ছিনতাইকারীরা ব্যাগ ধরে টান দিল।’

হাহাকার ভরা গলায় তিনি বলেন, ‘চলন্ত রিকশার ধাক্কায় সে ছিটকে পড়ে প্রায় ১০ হাত দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ে। দীর্ঘ দীর্ঘ বছর ধরে শিক্ষকতা করা একটা মানুষ সামান্য চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে, এটা কোন বিবেক মেনে নিতে পারে?’

মায়ের স্মৃতিকাতরতায় দিশেহারা মেয়ে, সুবিচারের ব্যাকুল আকুতি।

রনজিলা পারভীনের এই অকালমৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছে তার পরিবার। সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছে মেয়ে রাইসা আক্তার। ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী এখন মাকে হারিয়ে শোকে যেন পাথর। অশ্রুসজল চোখে সে বলে, ‘আম্মু দেড় মাস ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। ২১ দিন আগে ঢাকায় ডাক্তার দেখিয়ে আবার ফলোআপের জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু ছিনতাইকারীরা সব শেষ করে দিল... আমাদের সব কেড়ে নিল।’

মায়ের ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে রাইসা আকুতি জানায়, ‘আমি সরকারের কাছে বিচার চাই। যেন আর কোনো সন্তানকে এভাবে অকালে মায়ের বুক খালি হতে না হয়।’

নিজের খরচে অসচ্ছলদের আলো দেখাতেন যিনি।

১৯৮৮ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে আলো ছড়ানোর যাত্রা শুরু করেছিলেন রনজিলা পারভীন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেননি, দরদি হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের দিকে। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পোশাক ও পড়ালেখার খরচ জোগাতেন তিনি।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও নাটোরের বনপাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মো. মোতাহার হোসেন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘ম্যাডাম আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। তার মতো একজন মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব মানুষ সমাজে বিরল। এটি কেবল ছিনতাই নয়, স্পষ্ট একটি হত্যাকাণ্ড। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত কঠিন বিচার চাই।’

‘আমাদের ছাদটাই যেন ধসে গেল’

সহকারী শিক্ষক মেহেনাজ আফরিন বলেন, ‘আমাদের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এক বটবৃক্ষ। প্রতিদিন সকাল ৮টা-৯টার আগেই স্কুলে এসে বাচ্চাদের ভালোবাসতেন। আজ আমরা সত্যিই অভিভাবকহীন হয়ে পড়লাম।’

আরেক সহকারী শিক্ষক মোছা. মেরিনা খাতুন স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবারই তার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে ভেবে তিনি সহজে ছুটি নিতে চাইতেন না। সকালেই এসে নিজে স্কুলের তালা খুলতেন। সেই চিরচেনা হাসি আর দায়িত্ববোধের স্মৃতিগুলো এখন বুক ফেটে বেরিয়ে আসছে।’

গাবতলী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, রনজিলা পারভীন ছিলেন একজন অত্যন্ত আদর্শবান শিক্ষক। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে চরম শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

শ্রদ্ধা ও অশ্রুতে শেষ বিদায়

রবিবার জোহরের নামাজ শেষে বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রনজিলা পারভীনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অশ্রুসজল নয়নে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানায় তার প্রিয় শিক্ষার্থীরা।

এরপর আসরের নামাজ শেষে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে শ্বশুরবাড়ি দারাইল এলাকার তরফসরতাজ পারিবারিক কবরস্থানে পরম মমতায় তাকে দাফন করা হয়।

বিদ্যালয়ের মেহগনি গাছের পাতা থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ—সবখানেই এখন হাহাকার। শিক্ষার্থীরা নীরবে কেঁদে চলেছে, আর বুকের ভেতর আঁকড়ে ধরে রাখছে তাদের প্রিয় ‘ম্যাডাম’-এর স্মৃতিময় দিনগুলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%