আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
০৪:৪৯ পি.এম
মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার প্রতিরোধের লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের মধুপুরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ৯ নম্বর অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, মাদক ও জুয়ার বিস্তার শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং এটি একটি পরিবার এবং পুরো সমাজের জন্যও হুমকিস্বরূপ। একইভাবে, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। এ ধরনের সমস্যাগুলো নির্মূল করতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণেরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অরণখোলা ইউনিয়নের প্রশাসক শারমিন সুলতানা সুমি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক, বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবলু, থানার সেকেন্ড অফিসার আমিনুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা এবং আইসিটি কর্মকর্তা আব্রারুল হক শিমুল।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধের জন্য প্রথমে জনসচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মাদক ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করে তাদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।
বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা অরণখোলা ইউনিয়নে মাদক, জুয়া, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতনসহ সকল ধরনের সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান আজ বাসস’কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আগামী ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মির্জা আব্বাসের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় তার চিকিৎসা চলছিল। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি অনেকটা সুস্থ হয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শেই তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ।
উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় মির্জা আব্বাস হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এরপর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানে নিউরোলজি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল টিম তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার (ব্রেন সার্জারি) সম্পন্ন করে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ মার্চ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। পরে তাকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রায় এক মাস ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তেঁতুলিয়ার চার বোন সংবাদ সম্মেলন করে পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টা, হয়রানিমূলক মামলা দায়ের এবং জমিতে রোপণ করা ফসল কেটে নেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন যাতে তারা হয়রানি ও সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
৩০ আগস্ট রোববার তেঁতুলিয়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে চার বোন রমিনা (৫০), জুলেখা (৫৫), তসলিমা (৪০) ও রহিমা (৪৫) উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য আসির (৬০)ও ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা লিখিত বক্তব্যে জানান, তারা চার বোন ও এক ভাই। তাদের বাবার রেখে যাওয়া পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পূর্বে আদালতে মামলা হয়েছিল। পরে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তারা জমির অধিকার লাভ করেন এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জমি বিক্রিও সম্পন্ন করেছেন।
তাদের অভিযোগ, আদালতের রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া জমির বাইরের আরও ২৫ শতক জমি একটি প্রভাবশালী পক্ষ অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছে। তারা বলেন, এ কারণে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে একের পর এক হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সম্প্রতি বিরোধপূর্ণ জমিতে তারা রোপণ করা ফসল কেটে নেওয়ার মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জমির বিবরণ:
মৌজা—দর্জিপাড়া, খতিয়ান নম্বর—৩৯, দাগ নম্বর—১৪১৫, জমির পরিমাণ—২৫ শতক।
সংবাদ সম্মেলন থেকে চার বোন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, হয়রানিমূলক মামলা থেকে প্রতিকার, ফসল কাটার ঘটনার তদন্ত এবং তাদের পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জীবনের দীর্ঘ সঞ্চয়ে গড়া একটি বাড়ি। উঠানে সন্তানের শৈশবের স্মৃতি, দেয়ালে পরিবারের অসংখ্য গল্প। বয়সের ভারে একসময় সেই বাবা-মাই হয়তো সম্পত্তিটি সন্তানের নামে লিখে দিতে চান। কিন্তু মনের ভেতরে থেকে যায় একটি অদৃশ্য ভয়-সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর যদি একদিন নিজের ঘরেই নিজের জায়গা না থাকে?
বাংলাদেশের বহু পরিবারের পরিচিত এই বাস্তবতায় এবার আইনি সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা স্বামী-স্ত্রী সম্পত্তি দান করার পরও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যাতে সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারেন, সে সুযোগ রেখে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। বিলটি পাস হলে নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগত স্বীকৃতি পাবে।
আইনটির পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভাবনা—সম্পত্তি হস্তান্তর করলেই যেন একজন বাবা-মাকে তার পরিচিত ঘর, বসতভিটা কিংবা জীবনযাপনের নিরাপত্তা হারাতে না হয়।
বর্তমানে সম্পত্তি দানের বিভিন্ন আইনি পদ্ধতি থাকলেও দাতা তার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার নিজের কাছে রেখে দান করতে পারবেন—এ বিষয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ফলে সন্তান বা নিকটজনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক সময় প্রবীণ বাবা-মাকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়।
প্রস্তাবিত আইনে সেই জায়গাটিতেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন।
বিলে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন ১২২ক ও ১২২খ ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘আজীবন ভোগদখলের অধিকার’ সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানকে হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, কোনো বাবা-মা তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন, আবার নাতি-নাতনিরাও তাদের পিতা-মাতা কিংবা দাদা-দাদি ও নানা-নানিকে এ ধরনের সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও একই ধরনের হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।
তবে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ দান করতে হবে।
আইনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারবেন। অর্থাৎ সন্তান বা অন্য কোনো নিকটজনের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও বাবা-মা তাদের বসতবাড়ি কিংবা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না।
ধরা যাক, একজন বাবা তার একমাত্র বাড়িটি সন্তানের নামে দান করলেন। নতুন আইনের আওতায় দলিলে যদি তার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষিত থাকে, তাহলে মালিকানা হস্তান্তরের পরও জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতে বসবাস ও সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। সন্তানের মৃত্যু হলেও সেই অধিকার শেষ হবে না।
বিলে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে; কিন্তু দাতার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে এবং তা সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
অর্থাৎ উত্তরাধিকার পরিবর্তিত হলেও একজন বৃদ্ধ বাবা কিংবা মা তার জীবনকালীন নিরাপত্তা হারাবেন না।
শুধু তাই নয়, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিলে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে এ অধিকার পরিবর্তন, প্রত্যাহার বা অন্যভাবে ব্যবস্থাপনা করা যাবে।
কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অসুস্থ বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে জেলা জজের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আবেদনটি সৎ বিশ্বাসে করা হয়েছে কি না- এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
সরকারের মতে, প্রস্তাবিত আইনটি কোনো প্রচলিত দান বা হেবা ব্যবস্থাকে বাতিল কিংবা সীমিত করবে না।
সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা এবং আইনস্বীকৃত অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতি আগের মতোই বহাল থাকবে। নতুন ব্যবস্থা হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক পদ্ধতি এবং এটি সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
সম্পত্তি শুধু ইট-পাথর, জমি কিংবা অর্থের হিসাব নয়। একটি বাড়ি অনেক সময় একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। সেই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সন্তান পালনের স্মৃতি, দাম্পত্য জীবনের গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং শেষ বয়সে একটু নিশ্চিন্তে থাকার আকাঙ্ক্ষা।
সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন সেই নিরাপত্তাটুকু হারিয়ে না যায়-প্রস্তাবিত আইনের মানবিক দিকটি মূলত সেখানেই।
সরকারের উদ্যোগ সফল হলে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দাতা তার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সম্পত্তির ব্যবহার ও ভোগের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।
ফলে ‘সম্পত্তি দিয়ে দিলেই সব হারাতে হবে’-এমন আশঙ্কার জায়গায় তৈরি হতে পারে আইনি নিশ্চয়তা।
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিলটি এখন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায়। আইনটি পাস হলে সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রচলিত ব্যবস্থায় যুক্ত হবে একটি নতুন মানবিক সুরক্ষা-সম্পত্তি যাবে উত্তরসূরির কাছে, কিন্তু জীবনের শেষ আশ্রয়টুকু থাকবে দাতার নিরাপদ হাতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তের প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একটি ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সম্পর্ক পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। রবিবার (৩০ আগস্ট) তিনি নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ তথ্য জানান।
তবে, চিফ প্রসিকিউটর ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম প্রকাশ করেননি।
বেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তের সময় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার কথা এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তিনি উল্লেখ করেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইং আগে থেকেই অবহিত ছিল। এক ইন্টেলিজেন্স কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জোহা বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে ওই কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল, ‘একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’
কিন্তু কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পরদিন সকালে তিনি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। প্রকাশিত এই খবরে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিক চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য জানতে চান। তখন আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাগর-রুনির ইনভেস্টিগেশনটা আমাদের (ট্রাইব্যুনালের) ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (তদন্ত সংস্থা) করছে না। এটা (সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে) করছে পিবিআই।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা একটি ইনভেস্টিগেশন করতে গিয়ে অনেক সময় অন্য কোনো ঘটনার ক্লু পেয়ে যাই। যেমনটা আমরা পেয়েছিলাম মুজাফফরের (সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মুজাফফর হোসেন) ব্যাপারে। এখন যেমন আমরা সাগর-রুনির তদন্তের ব্যাপারে ক্লু পেয়েছি। তবে আমরা নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না। তবে এইটুকু বলতে পারছি যে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনির ঘটনার (হত্যাকাণ্ডে) একটা কানেকশন পাওয়া গেছে।’
মামলাসংশ্লিষ্ট সিডিআর (কল ডিটেইল রেকর্ড) পর্যালোচনার সময় ‘এই কানেকশনটা পাওয়া যায়’ জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা সেগুলা যাচাই-বাছাই করে দেখছি। তার ওপর (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব) আমাদের নজরদারিতে আছেন। আরো ইনভেস্টিগেশন হওয়ার পরে আরো অথেন্টিক কোনো কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের যারা সংশ্লিষ্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার আছেন, তাদের আমরা হয়তো এই তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করব।’
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু এটা (সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে) ওয়াইডস্প্রেড (বৃহৎ পরিসরে) বা সিস্টেমেটিক (পদ্ধতিগত) অফেন্স (অপরাধ) না, এটা একটা ইন্ডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস, সে কারণে এটা সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে। এখন দেখা যাক, কোথায় যায় কী হয়!’
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখ দেন।
২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টের আদেশে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাবকে। চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল দেওয়া হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন চেয়ে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে হাইকোর্টে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানির পর আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন। বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলাটির তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর ওই বছর অক্টোবরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এরপর গত দেড় বছরে আদালত থেকে তিনবার সময় নেয় টাস্কফোর্স। পরে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়, যা গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্টে তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সেদিন টাস্কফোর্সের অগ্রগতি প্রতিবেদন থেকে প্রকাশযোগ্য কিছু তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হাইকোর্টকে বলেন, ‘ওই সময় (হত্যাকাণ্ডের সময়) দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, অন্যান্য দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তি, এমনকি ওই সময়ের পুলিশ প্রশাসনের তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কারো কাছে বর্তমান টাস্কফোর্স কোনো অ্যাকসেস পাচ্ছেন না। ওই সময় যাদেরকে আমরা সচরাচর টেলিভিশনে দেখতাম, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের আমরা পাইনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ