ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হামিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি


হামিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: হোসেনপুর ও নগদিপুর বাজারে কামরুল ইসলামের প্রচারণা, অংশ নেন সাধারণ মানুষ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৭নং জগদল ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন সাবেক জগদল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান দিরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. কামরুল ইসলাম।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি হোসেনপুর ও নগদিপুর বাজারে স্থানীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় বাজারের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সাধারণ মানুষ তার সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রচারণায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে বাজার এলাকায় নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়।
কামরুল ইসলাম স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে তাদের বিভিন্ন কথা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন। এ সময় তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও এলাকার মানুষের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয় তুলে ধরেন।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে কামরুল ইসলাম বলেন, “দল যদি আমাকে সমর্থন করে, তাহলে আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। যেভাবে গত ১৭ বছর আপনাদের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে মাদরাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থীর একজনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৮ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে মাদরাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ ৫ শিক্ষার্থীর একজনের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কাশীপুরে একটি মহিলা মাদরাসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন, আতিয়া আক্তার রিমা (১১), মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন মো. সুলতান মাহমুদ সিকদার আতিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আতিয়ার শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। দগ্ধ অন্য দুই শিক্ষার্থীর অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে।

নিহত আতিয়া নাটোর সদর উপজেলার আতাউর রহমান ও নাসিমা বেগমের কন্যা।

সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফতুল্লার কাশীপুরের মহিলা মাদরাসায় বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হয়ে পাঁচ নারী শিক্ষার্থী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হন। তাদের পরে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

দগ্ধ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা হলেন— জিদনী (১৪), লামিয়া (১৩), সুমাইয়া (১৩) ও আছিয়া (১২)। চিকিৎসকদের মতে, দগ্ধদের মধ্যে জিদনীর শরীরের ৮২ শতাংশ, লামিয়ার ৫৫ শতাংশ, সুমাইয়ার ১৩ শতাংশ এবং আছিয়ার ৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আতিয়া মারা গেলেন। বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজনের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


মধুপুরে শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেফতার

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চোর সন্দেহে জিহাদ (৮) নামে এক শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগে মফেজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে মধুপুর থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম তাকে গ্রেফতার করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হকের দিকনির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে মফেজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সন্ধ্যায় মধুপুর উপজেলার বেরীবাইদ ইউনিয়নের গুবুদিয়া গফুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জিহাদকে চোর সন্দেহে ডেকে নিয়ে যান মফেজ উদ্দিন। পরে তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
শিশুটির নানা মফিজুল ইসলাম ও নানি মাছাঃ বকুলি বেগমের ভাষ্য, জিহাদের বাবা-মা নেই। গত ছয় বছর ধরে তাঁরা শিশুটিকে লালন-পালন করছেন। জিহাদ গুবুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শিশুটির নানা মফিজুল ইসলাম বলেন, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই বা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে একজন শিশুকে মারধর করা গুরুতর অন্যায়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো শিশুকে চোর সন্দেহে নিজের হাতে বিচার বা শারীরিকভাবে নির্যাতন না করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি জানানো উচিত।
এ বিষয়ে মধুপুর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মফেজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মফেজ উদ্দিনকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয়দের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং তাদের ভূমিকার কারণে অনলাইনে ভারতীয়, বাংলাদেশী ও পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণ বা ঘৃণাসূচক বক্তব্যের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে—একটি নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ ও বক্তব্য, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান দৃশ্যমানতা রয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসওএইচ)-এর বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে। ‘দ্য রাইজিং টাইড অব অ্যান্টি-সাউথ এশিয়ান হেট ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে প্রতি মাসে ঘৃণামূলক পোস্টের সংখ্যা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২৪০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যেখানে এমন পোস্টের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৯০৪টি, ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৮৪৩টিতে।

গবেষকেরা ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এক্সে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে ৫ লাখ ৪২ হাজারের বেশি ঘৃণামূলক পোস্ট শনাক্ত করেছেন। ওই সময়ের শেষের দিকে থাকা ছয় মাসের মধ্যে পাঁচ মাসেই এমন পোস্টের সংখ্যা ছিল পুরো সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গবেষকেরা জাতিসংঘের নির্ধারিত ঘৃণাবাক্যের সংজ্ঞা ব্যবহার করেছেন। তারা অনলাইনে দক্ষিণ এশিয়াবিরোধী গালিগালাজ ও বিভিন্ন বর্ণনাধর্মী প্রচারণা অনুসরণ করেছেন। প্রতিটি পোস্ট পর্যালোচনা করে এমন সমালোচনামূলক পোস্ট বাদ দেওয়া হয়েছে, যেগুলো জাতিসংঘের নির্ধারিত ঘৃণাবাক্যের মানদণ্ড পূরণ করে না।

এছাড়াও এক্সে থাকা ঘৃণামূলক পোস্টের প্রায় অর্ধেকেই দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে ‘আক্রমণ’ বা ‘দখল’ করছে, চাকরি কেড়ে নিচ্ছে অথবা দেশের জনসংখ্যাগত কাঠামোর জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে অবমাননাকর গালি ‘পাজিত’ এবং এর বিভিন্ন রূপ এক্সে থাকা ঘৃণামূলক পোস্টের ৩০ শতাংশে এবং বিকল্প বা প্রান্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে থাকা পোস্টের ৪৫ শতাংশে দেখা গেছে। দক্ষিণ এশীয়দের নোংরা বা অপরিচ্ছন্ন হিসেবে তুলে ধরা পোস্ট এক্সে ১৭১ শতাংশ বেড়েছে। গবেষকেরা বলেছেন, সব ধরনের বর্ণনার মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা বয়ান।

ঘৃণামূলক বক্তব্যে প্রায়ই দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠীকে একাকার করে ফেলা হয়েছে। ভারতীয়, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিদের পরস্পরের সঙ্গে গুলিয়ে এক গোষ্ঠী হিসেবে দেখানো হয়েছে। একইভাবে হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টানদেরও একটি অভিন্ন গোষ্ঠী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়, বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে গবেষকেরা মনে করেন, বর্তমানের এই উত্থানের পেছনে পুরোনো বৈষম্যের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ একসঙ্গে কাজ করছে।

প্রতিবেদনটিতে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিকে বড় একটি সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিতে পারেন। এইচ-১বি ভিসাধারীদের ৭০ শতাংশের বেশি ভারতীয়। গবেষকেরা দক্ষিণ এশীয়বিরোধী ঘৃণার কয়েকটি বড় উত্থানের সঙ্গে এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলার অর্থপ্রদানের শর্ত আরোপের ঘটনা। এ ধরনের পদক্ষেপ একটি শক্তিশালী প্রতীকী ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে এগুলো ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে থাকা শত্রুতাকেও আরও শক্তিশালী করে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য নিয়েও প্রতিবেদনটি একই ধরনের যুক্তি দিয়েছে। সেখানে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি এআই সম্মেলনে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সমালোচনা করে বলেছিলেন, তারা ভারতীয়দের কাছে চাকরি আউটসোর্স করছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ওই বক্তব্যের পর অনলাইনে দক্ষিণ এশীয়বিরোধী বক্তব্যে তীব্র বৃদ্ধি দেখা যায়। সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি পোস্টের কথা উল্লেখ করেছে। যদিও পোস্টটি পরে মুছে ফেলা হয়। পোস্টটির শিরোনাম ছিল ‘ট্রান্সফরমারস: এজ অব ডিপোর্টেশন’। সেখানে ‘মিস্টার সিং’ নামে একজন শিখ ব্যক্তিকে দেখিয়ে তাকে বলা হয়, ‘আমাদের রাস্তা থেকে সরে যাও।’

এর কয়েক দিন পর ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশন ‘মেক কলেজ ফুটবল গ্রেট অ্যাগেইন’ নামে একটি পোস্ট প্রকাশ করে। এর আগে টেক্সাসের রিপাবলিকান রাজনীতিক বো ফ্রেঞ্চ টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফুটবল খেলায় দক্ষিণ এশীয়দের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। প্রতিবেদনটির যুক্তি হলো, এ ধরনের বক্তব্য দক্ষিণ এশীয়দের এমন মানুষ হিসেবে দেখানোর ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে, যারা ‘এই দেশের মানুষ হিসেবে কখনোই সত্যিকার অর্থে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

‘মডেল সংখ্যালঘু’ থেকে ‘চাকরি চোর’

গবেষকেরা লিখেছেন, অর্থনৈতিক ক্ষোভও এই প্রবণতার আরেকটি কারণ। কিছু দক্ষিণ এশীয়ের সাফল্য ক্রমশ তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতীয়-আমেরিকানদের একসময় ‘মডেল সংখ্যালঘু’ হিসেবে যে ধারণায় দেখা হতো, এখন তাদের ‘সুযোগসন্ধানী ও প্রতারক’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। আরও বিস্তৃতভাবে, চাকরি ও অর্থনীতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভের জন্য দক্ষিণ এশীয়দের বলির পাঁঠা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি এমন একসময়ে ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয়দের উপস্থিতি ও দৃশ্যমানতা ক্রমেই বাড়ছে। এর উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের স্ত্রী উষা ভ্যান্স এবং রাজনীতিক বিবেক রামাস্বামীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেই বর্ণবাদী আক্রমণের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, মামদানির দলীয় প্রার্থী হওয়ার নির্বাচনে জয় এবং পরে মেয়র নির্বাচনে জয়ের পর দক্ষিণ এশীয়বিরোধী ও ইসলামবিদ্বেষী অনলাইন আক্রমণে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা যায়।

গবেষকেরা বলছেন, এই দুই প্রবণতা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ‘নিজেদের মর্যাদা বা অবস্থান হারানোর আশঙ্কার’ সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে। এর ফলে ‘গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট থিওরি’ বা ‘মহা প্রতিস্থাপন তত্ত্ব’র মতো ষড়যন্ত্রতত্ত্বও শক্তিশালী হচ্ছে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পশ্চিমা দেশগুলোর শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে অন্য জনগোষ্ঠী দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্য ও এআইয়ের ভূমিকা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এসব বর্ণবাদী ধারণাকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক হয়রানিতে পরিণত করেছে। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, এক্সের কিছু অ্যাকাউন্ট দক্ষিণ এশীয়দের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করছে। এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে যে তারা অন্যদের চাকরি কেড়ে নিয়েছে অথবা ভিসা জালিয়াতি করেছে। কিছু প্রভাবশালী অনলাইন ব্যক্তিত্ব আবার দক্ষিণ এশীয়দের বাড়ি ও কর্মস্থলে গিয়ে তাদের মুখোমুখি হয়েছেন এবং সেই ঘটনাগুলোর ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে ডানপন্থী অনলাইন প্রভাবশালী সারা গনজালেজের কথা বলা হয়েছে। তিনি পাঁচ লাখের বেশি অনুসারীর কাছে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওটিতে তিনি এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগে এক দক্ষিণ এশীয় ব্যক্তিকে হয়রানি করেন।

এদিকে, গবেষকেরা বলছেন, জেনারেটিভ এআই এই ধরনের কনটেন্ট তৈরি করা আরও সহজ করে দিয়েছে। এআই ব্যবহার করে দক্ষিণ এশীয়দের এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন তারা ‘নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন, যৌনভাবে হিংস্র বা শিকারি মানসিকতার, সাংস্কৃতিকভাবে পশ্চাৎপদ অথবা জনসংখ্যাগত হুমকি।’ যদিও প্রতিবেদনটি মূলত অনলাইনে ঘটা ঘৃণামূলক কর্মকাণ্ড অনুসরণ করেছে, গবেষকেরা লিখেছেন যে অনলাইনের ঘৃণা ‘অফলাইনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।’

প্রতিবেদনটি জুলাই মাসের একটি ঘটনার উল্লেখ করেছে। সেখানে উটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি শপিং মলের এক ভারতীয় মুসলিম কর্মীকে বারবার ছুরিকাঘাত করা হয়। ফেডারেল প্রসিকিউটররা ওই হামলাকে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। চলতি সেপ্টেম্বরেও উয়োমিংয়ের একটি ট্রাক স্টপে এক শিখ ট্রাকচালককে ১৭ বার ছুরিকাঘাত করা হয়।

গবেষকেরা লিখেছেন, অনলাইন ও অফলাইনের ঘৃণা একে অপরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কারণ বয়ান, স্টেরিওটাইপ এবং কোনো গোষ্ঠীকে দানব বা অমানবিক হিসেবে উপস্থাপনের বিভিন্ন পদ্ধতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, রাজনৈতিক বক্তব্য, গণমাধ্যম এবং দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএনসিসিতে খেলার মাঠ ও পার্ক তৈরিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব : প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


ডিএনসিসিতে খেলার মাঠ ও পার্ক তৈরিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব : প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন সকল পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় শিশুদের খেলার মাঠ, শহীদ মিনার ও পার্ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিএনসিসির আওতাধীন পার্ক ও খেলার মাঠগুলো দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দ্রুত সময়ের মধ্যে মিরপুরের এই পার্ক ও খেলার মাঠটি সংস্কার করে উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে ডিএনসিসির আওতাধীন সব পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে সংস্কার, পরিচ্ছন্ন ও জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন পার্ক, খেলার মাঠ, মসজিদ ও মাদরাসার উন্নয়ন এবং ঢাকা-১৫ আসনকে ‘ক্লিন ও গ্রিন’ করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

পার্ক ও মাঠের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে, জানিয়ে প্রশাসক বলেন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি মাঠের সংরক্ষণ ও দেখভালের দায়িত্ব পালন করবে।

তিনি আরো জানান, আগামী দেড় মাসের মধ্যে পার্ক ও খেলার মাঠটি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পার্কটি এলাকাবাসীর জন্য খোলা থাকবে। সন্ধ্যার পর তা বন্ধ রাখা হবে।

শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘খেলার সময় খেলবে, আবার সন্ধ্যার পর পড়াশোনার জন্য ঘরে ফিরতে হবে। পড়াশোনা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

পার্কে কোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের আড্ডা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

মিরপুর-কাফরুল এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ২২ নম্বর টেকী খাল উদ্ধারের উদ্যোগের কথাও জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন হওয়ার আগেই খালটি স্থায়ীভাবে উদ্ধার করে এর চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং নৌযান চলাচলের উপযোগী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

মেট্রো রেলের পিলারে লাগানো অবৈধ পোস্টার অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পোস্টার অপসারণের পর সেখানে গ্রাফিতি আর্ট ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক চিত্রায়নের কাজ শুরু করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ে অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় থানা-পুলিশের কর্মকর্তা এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%