ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জীবনে সফল হতে ২ গুণ অপরিহার্য


জীবনে সফল হতে ২ গুণ অপরিহার্য

প্রত্যেক মানুষের জীবনে স্বপ্ন থাকে, এবং স্বপ্ন পূরণের পথে নানা রকম অনিশ্চয়তা, ভয় ও বাধা থাকে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে অনেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, কারণ ফলাফল কী হবে তা আগে থেকে জানা যায় না।

ইসলাম এই অনিশ্চয়তায় মানুষকে দুটি জিনিস শেখায়: আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ ভরসা (তাওয়াক্কুল) করা এবং নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা (আমল) করা। এই দুটি একে অপরের বিপরীত নয়, বরং একটি অন্যটিকে পূর্ণতা দেয়।

তাওয়াক্কুলের প্রকৃত অর্থ হলো: তাওয়াক্কুল মানে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা নয়। এর অর্থ হলো উপায়-উপকরণ যথাসাধ্য গ্রহণ করার পর ফলাফলের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (সুরা তালাক, আয়াত ৩)

আরও পড়ুন: মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে মসজিদুল হারামে নামাজ ও কাবা শরিফের তাওয়াফ অব্যাহত

এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, মানুষ যদি কোনো বিষয়ে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে চেষ্টায় নেমে পড়ে, তবে মহান আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন।

তবে প্রতিটি বিষয়ের একটি নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে। তাই মানুষের কাজ হলো চেষ্টা করা, আর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া।

অনেকে কাজের ফলাফল নিয়ে ভয়ে থাকার কারণে কখনো কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারে না। এ ধরনের অতি ভয় মুসলমানের জন্য সমীচীন নয়। মুসলমানকে প্রতিটি কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে এবং সাহসিকতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘অতঃপর যখন সংকল্প করবে তখন আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা: আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯)

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর মানুষ তা-ই পায়, যা সে চেষ্টা করে।’ (সুরা নাজম, আয়াত ৩৯)

আরও পড়ুন: আমিরাতে শুরু হলো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব

এই আয়াত মানুষের চেষ্টার গুরুত্ব বোঝায়। তবে এখানে ফলাফলের নিশ্চয়তা নয়, বরং হালালভাবে চেষ্টার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সফলতা কখন এবং কিভাবে আসবে তা আল্লাহর ইচ্ছা।

অতএব, কোনো কল্যাণকর হালাল কাজের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা যাবে না, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা করে কাজ শুরু করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি তোমার জন্য উপকারী জিনিসের আকাঙ্ক্ষা করো, আল্লাহর সাহায্য চাও এবং কখনো অক্ষমতা প্রকাশ কোরো না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৭৯)

নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলা: কোনো স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আগে নিজেকে (দোয়া ও চেষ্টার মাধ্যমে) সে বিষয় পাওয়ার যোগ্য করে তুলতে হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো কওমের অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।’ (সুরা: রাদ, আয়াত: ১১)

ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া: সফলতা অর্জনের জন্য চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে, পাশাপাশি চেষ্টার ফলাফল মহান আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিতে হবে। কারণ কেউ জানে না যে কিসে কল্যাণ আছে। অনেক সময় মানুষ যা অপছন্দ করে, তাতেই কল্যাণ থাকে, আবার যা পছন্দ করে, তাতে ক্ষতি থাকে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমাদের ওপর লড়াইয়ের বিধান দেওয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় এবং হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোনো বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।’ (সুরা বাকারাহ, আয়াত ২১৬)

আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

তাহলে চেষ্টার পর তাৎক্ষণিক ফল না পেলে হতাশ হওয়ার বদলে ধৈর্য ধরতে হবে। দোয়া করতে হবে। মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে চেষ্টা করা, আর ফলাফল নির্ভর করবে আল্লাহর ইচ্ছার ওপর। তবে মনে রাখতে হবে, মুমিনের কোনো চেষ্টাই বিফলে যায় না। ফল যদি দুনিয়ায় না আসে, তবে তা আখিরাতে কল্যাণ হতে পারে অথবা আরো বড় কোনো পথ খুলে যেতে পারে।

তাহলে মুমিনের দায়িত্ব হলো দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য তাওয়াক্কুলের সঙ্গে পরিশ্রম করা। আল্লাহর ওপর ভরসা মানুষকে ভয় থেকে মুক্ত করে, আর পরিশ্রম তাকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেয়। ফলাফল আল্লাহর হাতে রেখে বান্দা যখন নিজের দায়িত্ব পালন করে, তখন সে মানসিক শান্তি ও প্রকৃত সফলতা দুটিই পেতে পারে।

আল্লাহ আমাদের সব ভালো উদ্যোগ কবুল করুন এবং আমাদের জন্য যা কল্যাণকর তা-ই দান করুন। আমিন।

আরও পড়ুন: সত্য গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে যে বিষয়গুলো

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসি জিতলেন স্প্যানিশ ‘নোবেল পুরস্কার’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ এম


মেসি জিতলেন স্প্যানিশ ‘নোবেল পুরস্কার’

লিওনেল মেসি শুক্রবার স্পেনের সবচেয়ে সম্মানজনক ক্রীড়া পুরস্কার ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস’ গ্রহণ করেছেন। এই পুরস্কারটি তার উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে জুন মাসে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। বিচারকমণ্ডলী তখন তাকে ‘সর্বকালের সবচেয়ে সফল ফুটবলার’ বলে উল্লেখ করেন এবং তার সামাজিক কাজের জন্যও প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানটি স্পেনের উত্তরের আস্তুরিয়াস অঞ্চলের রাজধানী ওভিয়েদোতে অনুষ্ঠিত হয়। মেসি যখন সেখানে পৌঁছান, তখন বাজছিল ব্যাগপাইপ এবং ঢোল। আর্জেন্টিনার জার্সি পরা কয়েক ডজন সমর্থক তাকে দেখে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং বারবার মেসির নাম ধরে স্লোগান দেন।

পুরস্কারটি রাজকন্যা লিওনর তুলে দেন, যিনি স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। তার নামেই এই পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে। মেসির হাতে তিনি একটি পার্চমেন্ট স্ক্রল তুলে দেন।

মেসির ‘অনন্য ক্যারিয়ারের’ প্রশংসা করে লিওনর বলেন, ‘তিনি অসাধারণকে প্রতিদিনের ঘটনা বানিয়ে ফেলেছেন। খেলাটাকে পড়ে এবং সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি এটা করেছেন। আর সব সময় নিজের অহংকারের ওপরে রেখেছেন দলীয় চেতনাকে।’

মেসি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে পরিচিত। তিনি আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন এবং একটি বিশ্বকাপের শিরোপা অর্জন করেছেন। ক্লাব পর্যায়ে তার ট্রফির সংখ্যা কয়েক ডজন। বার্সেলোনায় তিনি ২১ বছর কাটিয়েছেন এবং সেখানে ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগও জিতেছেন।

২০২১ সালে বার্সা ছেড়ে তিনি ফ্রান্সের প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁতে যোগ দেন, যেখানে তিনি দুই বছর ছিলেন। বর্তমানে তিনি এমএলএসের ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে খেলছেন।

আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি গোল, সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারী। এ মাসের শুরুতে তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেন, বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলে তিনি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন।

প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার ১৯৮১ সালে শুরু হয়। এটি স্প্যানিশ ভাষাভাষী বিশ্বে সবচেয়ে মর্যাদাবান পুরস্কার হিসেবে পরিচিত। অনেক সময় একে স্প্যানিশ নোবেল পুরস্কার হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এই পুরস্কারের সঙ্গে ৫০ হাজার ইউরোর (প্রায় ৭০ লাখ টাকা) পুরস্কার অর্থ প্রদান করা হয়। শিল্প, বিজ্ঞান ও ক্রীড়া, তিন ক্ষেত্রেই প্রতিবছর এটি প্রদান করা হয়। মানুষের সহাবস্থান, সংহতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টাকে সম্মান জানানোই এর উদ্দেশ্য।

শুক্রবার আরও কয়েকজন পুরস্কার গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ লেখক জুলিয়ান বার্নস, যুক্তরাষ্ট্রের পথিকৃৎ নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ এবং পাঙ্ক তারকা প্যাটি স্মিথ।

ক্রীড়া বিভাগে পূর্বে পুরস্কার পেয়েছেন টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদাল। এছাড়াও পুরস্কার পেয়েছেন ম্যারাথনের রেকর্ডধারী এলিউদ কিপচোগে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্কিয়ার লিন্ডসে ভন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সামরিক মহড়া ও সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়াবে যুক্তরাজ্য-ওমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ এম


সামরিক মহড়া ও সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়াবে যুক্তরাজ্য-ওমান

যুক্তরাজ্য ও ওমান প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবেশবান্ধব শিল্প এবং নতুন প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এ তথ্য শুক্রবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যা ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের যুক্তরাজ্য সফরের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই দেশ তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করে একটি ‘উচ্চাভিলাষী ও ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্ব’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আসেন ওমানের সুলতান।

লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে বুধবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ও সুলতান হাইথাম দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনা চলাকালে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আধুনিকায়ন, উন্নত শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

দুই দেশ সামরিক সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে। এ ক্ষেত্রে ‘সাইফ সারিয়া’ সামরিক মহড়া সিরিজকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে সাইফ সারিয়া-৪ মহড়ার প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়ে সামরিক সক্ষমতা উন্নয়ন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নতুন কৌশল যাচাই এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্য বিনিময়ে আরও সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ।

এছাড়া, যুক্তরাজ্য ও ওমান সাইবার নিরাপত্তা এবং জাতীয় সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চৌমুহনী অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত, নাগরিকদের কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ এম


চৌমুহনী অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত, নাগরিকদের কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি

বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী ক্রমশ অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে। এখানে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও জবরদখলের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং গোলাগুলি প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের আবাসিক হোটেলগুলো বিশেষ করে অপরাধচক্রের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে চৌমুহনীর বেশ কিছু আবাসিক হোটেলে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে অবাধে চলছে দেহব্যবসা, মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার আসর।

হোটেলগুলোতে আগতদের তথ্য রেজিস্টারে নথিভুক্ত করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এর ফলে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। এমনকি স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণ-তরুণীদেরও এসব হোটেলে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে এসব আস্তানায় বেশ কিছু সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর চৌমুহনী বাজারের ‘ডিলাক্স’ ও ‘রাজ’ আবাসিক হোটেল থেকে ১৮ জন এবং ৩০ আগস্ট ‘মিয়ামী’ ও ‘স্কাইভিউ’ হোটেল থেকে আট নারী-পুরুষকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে ২৫ জুন ‘হোটেল রাজ’ থেকে আরো ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুধু অনৈতিক কর্মকাণ্ডই নয়, গত ২ জানুয়ারি ‘হোটেল রিয়াদ’ থেকে বিদেশি পিস্তল ও কার্তুজসহ বাসু ও রাসেল নামের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বছরের পর বছর এ বেআইনি কর্মকাণ্ড চলছে। কোনো পর্যটনকেন্দ্র না থাকা সত্ত্বেও কেন এখানে এত আবাসিক হোটেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে।

চৌমুহনী নোয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনি এলাকার স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ বাণিজ্যিক শহরে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসেন। শহরটিকে বাঁচাতে এখনই আবাসিক হোটেলগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনা এবং কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।

অভিযানের বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি শামসুজ্জামান বলেন, ‘নোয়াখালী ডিবি ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শহরের নিরাপত্তা ও নজরদারি আরো বাড়ানো হয়েছে এবং দ্রুতই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতকানিয়ায় সাঙ্গুর ভাঙনে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে, স্থানীয়দের জীবনযাত্রা বিপন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ এম


সাতকানিয়ায় সাঙ্গুর ভাঙনে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে, স্থানীয়দের জীবনযাত্রা বিপন্ন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নে সাঙ্গু নদীর ভাঙনের ফলে বেড়িবাঁধ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীতে সৃষ্ট তীব্র স্রোতে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাচ্ছে। বসতঘর, কবরস্থান, মসজিদ, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে, ভাঙনকবলিত সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত জুলাই মাসের শুরুতে প্রবল বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চৌধুরীপাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে, যার ফলে এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেড়িবাঁধের জরুরি মেরামতের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে নদীভাঙন রোধে ১৫০ মিটার এলাকায় জিও টিউব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সম্প্রতি কাজ শুরু হয়েছে, নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। কাজ চলাকালে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ সাঙ্গু নদীগর্ভে ধসে পড়েছে, ফলে আপাতত জিও টিউব স্থাপনের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

পটিয়া পানি উন্নয়ন শাখা-১-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম জানান, নদীভাঙনের কারণে নির্ধারিত স্থানের বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ ধসে পড়েছে। এ অবস্থায় আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। এরপর ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই পদ্ধতি নির্ধারণ করে কাজ শুরু করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ জামাল এবং মোহাম্মদ ফোরকান জানান, বর্ষা এলেই সাঙ্গু নদীর ভাঙন নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। নদীর স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, ফসলি জমি এবং চলাচলের সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরো বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। তাই সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে নদীর স্রোত এবং ভাঙনের ধরন বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বেড়িবাঁধ রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বরাদ্দ করা ১৯ লাখ টাকার কাজ দ্রুত পুনর্মূল্যায়ন করে টেকসইভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%