শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩০ পি.এম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও অন্যান্য অপরাধের কারণে ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। শাস্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে এবং পরবর্তী এক থেকে তিনটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
শাস্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি গত ৩১ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হয়। এর আগে ২০ আগস্ট শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছিল। ৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত আদেশে শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ‘পরীক্ষা +১’, ‘পরীক্ষা +২’ ও ‘পরীক্ষা +৩’ এই তিন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। তালিকায় থাকা ৬৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জনকে +১ মেয়াদে, ৩১ জনকে +২ মেয়াদে এবং ১৩ জনকে +৩ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য ফাতহুন কারিব চৌধুরীকে ‘পরীক্ষা + ২’ এবং হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ফেরদাউসকে ‘পরীক্ষা + ১’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। উভয় শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র।
শাস্তিপ্রাপ্ত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরবি বিভাগের সর্বাধিক ৭ জন রয়েছেন। নার্সিং, এমবিবিএস, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, আইন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই শাস্তির আওতায় পড়েছেন।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের জন্য অনুতপ্ত হয়ে প্রক্টর অফিসের মাধ্যমে উপাচার্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে শাস্তি কমানোর আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া আবেদনের ভিত্তিতে উপাচার্য ইতিমধ্যে ১৪ জন শিক্ষার্থীর এক বছরের শাস্তি মওকুফ করেছেন।
এছাড়া এবারের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সময় জব্দ করা মোবাইল ফোন শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফেরত পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিখিত আবেদন করে শিক্ষার্থীরা তাদের মোবাইল ফোন ফেরত নিতে পারবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন যে, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সঠিক ছিল না, এবং জামায়াত এই অবস্থান মেনে নিয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় আইনমন্ত্রী বলেন, "ব্যারিস্টার রাজ্জাক একাত্তরের বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা জামায়াত মেনে নিলে অনেক প্রশ্নেরই সমাধান হয়ে যেত।" আইন অঙ্গনে এখনও প্রাসঙ্গিক আব্দুর রাজ্জাক।
তার বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে জামায়াতের আইনজীবীদের উপস্থিত না থাকার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী। অন্যদিকে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী মন্তব্য করেন যে, জামায়াতের ভিতরে অনেক রিফর্মেশন করার বিষয় রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) স্কুল ও কলেজ পর্যায় থেকে ১৪০ জন গুণী শিক্ষকের একটি তালিকা চেয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষকদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট এবং সম্মাননা সনদ প্রদান করা হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তালিকা জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১৭ সেপ্টেম্বরের একটি বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা, কারিগরি এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো আয়োজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে রয়েছে।
আরো পড়ুন
ফকিরহাটে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ভ্যানযাত্রীর।
মাউশির চাওয়া তালিকায় ঢাকা জেলা থেকে সাতজন করে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক এবং দেশের অন্যান্য প্রতিটি জেলা থেকে একজন করে শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এভাবে ৭০ জন গুণী কলেজ শিক্ষক এবং ৭০ জন গুণী স্কুল শিক্ষক বাছাই করা হবে।
নীতিমালায় জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শিক্ষা স্তর থেকে মোট ১০০ জন শিক্ষককে গুণী শিক্ষক সম্মাননা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তাদের নির্বাচন করা হবে।
শিক্ষক নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে কমিটি ও সার্চ কমিটি কাজ করবে। শিক্ষকদের তথ্য সংগ্রহের পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে নির্ধারিত তথ্য ফর্মের মাধ্যমে। সংশ্লিষ্টদের হার্ডকপির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহায়ক নথি সাধারণ প্রশাসন শাখায় জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে পূরণ করা তথ্য ফর্মের সফটকপি ই-মেইলে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন
হানিফ ফ্লাইওভারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী নিহত।
বাছাইয়ের সময় শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, নৈতিকতা এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান বিবেচনা করা হবে। এর পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, পাঠ্যবই বা গবেষণাপত্র প্রণয়ন, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান এবং সমাজ সংস্কারে ভূমিকার বিষয়ও মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলা ও জেলা কমিটি শিক্ষকদের বাছাই করবে। পরে জাতীয় পর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটি পুরো প্রক্রিয়া সমন্বয় করবে। নির্ধারিত মানদণ্ডে চূড়ান্ত যাচাই শেষে নির্বাচিত শিক্ষকদের ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএস-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আমীরে জামায়াত ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সাক্ষাৎকালে, ডাকসুর মেয়াদ সফলভাবে ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সম্পন্ন করায় তিনি ছাত্র নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান। তিনি ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোঁজখবর নেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর নেতারা তার নিজ বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন।
এসময়, শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য ডাকসু কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রশাসন কর্তৃক অসহযোগিতা ও বাধা প্রদান এবং ডাকসু ভবন ও বিভিন্ন হল সংসদে ছাত্রদলের মব সন্ত্রাসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একইসঙ্গে, ক্যাম্পাসে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রাখতে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের রূপরেখা ও তফসিল ঘোষণার জন্য ডাকসু নেতৃবৃন্দের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন।
আমীরে জামায়াত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আরও সক্রিয় থাকার পরামর্শ দেন। তিনি দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এবং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে ছাত্র সংসদে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথাও বলেন।
এসময়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যে কোনো মৌলিক সংকট নিরসন এবং মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগে ডাকসু নেতৃবৃন্দকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত লং মার্চ আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ প্রদান করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি উল্লেখ করেন, ‘লং মার্চের নামে সড়ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি অপচয় হচ্ছে।’
তবে, ভিন্নমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে জামায়াতের কর্মসূচিতে সরকার সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
আজ শুক্রবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভ ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।
জামায়াতের লং মার্চ সম্পর্কে রাশেদ খান বলেন, ‘জামায়াতের লং মার্চের সব দাবি সরকার বাস্তবায়ন করেছে। এরপরও এ ধরনের কর্মসূচি নেওয়া অযৌক্তিক। লং মার্চের কারণে বিভিন্ন সড়ক বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
তিনি জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবার রয়েছে। ‘সরকার ভিন্নমতের প্রতি সম্মান দেখায়। তাই জামায়াতের কর্মসূচিতেও সরকার সহযোগিতা করবে,’ বলেন তিনি।
তবে, কর্মসূচির কারণে যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি দেখছে। তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে।’
এর আগে সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন রাশেদ খান। সেখানে চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ