০১:৫২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি হালাল বারবিকিউ রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠা করতে ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার (প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা) বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এক প্রযুক্তিবিদ, যার নাম সালাহউদ্দিন আবদুল-কাফি।
তার বয়স ৩৫ বছর। তিনি প্রযুক্তি কম্পানিতে ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুগল, মাইক্রোসফট, ইউটিউব এবং ক্রুজের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
আবদুল-কাফি জানান, দীর্ঘ সময় কাজ করার পর তিনি প্রযুক্তি খাতে হতাশ হয়ে পড়েন।
তার মতে, এ খাতে মানুষের জীবন উন্নতের জন্য কাজের চেয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অর্থ উপার্জনে। এ কারণেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন একটি উচ্চ বেতনের চাকরি ত্যাগ করার। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি নিজের বেতন ৫০ শতাংশেরও বেশি কমিয়ে একটি ধর্মীয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগগ্রহণ করেন।
এরপর তিনি সান ফ্রান্সিসকো ছেড়ে চলে যান। সেই সময়, তিনি দিনের চাকরির পাশাপাশি বন্ধুদের জন্য রাতের খাবার রান্না ও বারবিকিউ আয়োজন করতেন। তার রান্না দেখার পর বন্ধুদের প্রশংসা করতেন। আবদুল-কাফি বলেন, সেটাই ছিল তার নতুন পরিকল্পনার সূচনা। তিনি ভাবতে শুরু করেন টেক্সাসে বারবিকিউ নিয়ে এমন কিছু করা যাবে কি না, যা আগে কেউ করেনি। বিজনেস ইনসাইডারকে তিনি জানিয়েছেন, সেই ভাবনা থেকেই 'কাফি বারবিকিউ' শুরু করার পরিকল্পনা রচনা হয়। রেস্তোরাঁটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে উন্মুক্ত হয়। শুরুর সময় তারা তিন দিনের খাবার প্রস্তুত করে। কিন্তু প্রথম দিনেই সমস্ত খাবার বিক্রি হয়ে যায়, যা সকলকে অবাক করে দেয়। এরপর সেই রাতেই আবার রান্না শুরু করতে হয়।
অল্প সময়ের মধ্যেই রেস্তোরাঁটি টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আবদুল-কাফি বলেছেন, তার রেস্তোরাঁর আয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরে তাদের আয় ছিল প্রায় ২৩ লাখ ডলার (প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা)। এ বছর আশা করা হচ্ছে তা বাড়তে বাড়তে প্রায় ৪০ লাখ ডলারে (প্রায় ৪৯ কোটি ৭ লাখ টাকা) পৌঁছাবে। তিনি জানান, ব্যবসা ভালো চললেও তিনি রেস্তোরাঁ থেকে এখনও নিজের জন্য এক ডলারও নেননি। তিনি তার সঞ্চয়ের টাকা থেকেই জীবন নির্বাহ করছেন।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
রেস্তোরাঁ দ্রুত সফল হলেও খরচও অনেক বেশি। আবদুল-কাফি জানান, ব্যবসা পরিচালনা করতে প্রত্যেক মাসে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ডলার খরচ হয়। এর মধ্যে খাবারের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ, অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার প্রয়োজন। কর্মীদের বেতন দিতে খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার ডলার। ভাড়া বাবদ দিতে হয় প্রায় ১৫ হাজার ডলার। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, বিপণন এবং অন্যান্য খাতে বড় অঙ্কের টাকা ব্যয় হওয়ার প্রয়োজন পড়ছে।
তিনি বলেন, শুরুতে প্রায় ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হলেও সেই টাকা এখনও পুরোপুরি ফিরে আসেনি। সে কারণে আবদুল-কাফি ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী হলেও তিনি সতর্ক থাকছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন