মোঃ নুর হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, নোয়াখালী
০৫:২২ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের জন্য জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা একই সঙ্গে জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় নিজেদের অভিন্ন স্বার্থ তুলে ধরার জন্য তিন দেশের মধ্যে আঞ্চলিক ঐক্য জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন।
জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১) সামনে রেখে শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ (সিজেএ-বি), ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, সচেতন সংস্থা, শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস), এবিসিডি ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি নাগরিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও সিজেএ-বির সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা।
স্বাগত বক্তব্যে মো. শামসুদ্দোহা উল্লেখ করেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তিনি বলেন, "অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিংবা এলডিসি উত্তরণ কোনোভাবেই জলবায়ু ঝুঁকি কমিয়ে দেয় না।" একইভাবে জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে না।
তিনি আরও বলেন, ভুটান ইতিমধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণ করেছে। বাংলাদেশ ও নেপালও নিজ নিজ উত্তরণপ্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অথচ তিনটি দেশই উল্লেখযোগ্য জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশগুলোর সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ, যৌথ অ্যাডভোকেসি এবং অভিযোজন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম বলেন, "এলডিসি উত্তরণকে জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণতা থেকে উত্তরণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।" উন্নয়নের অগ্রগতির অজুহাতে আন্তর্জাতিক অভিযোজন সহায়তা প্রত্যাহার করা উচিত হবে না। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, উন্নত দেশ এবং বহুপক্ষীয় জলবায়ু অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি আমিনুর রসুল বলেন, "জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা ও বেঁচে থাকার অধিকার উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থের অধীন হতে পারে না।" বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় অভিন্ন স্বার্থ তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, কপ-৩১ এবং পরবর্তী সময়ে ন্যায্য অভিযোজন সহায়তা ও জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি জোরদার করতে হবে। এ জন্য সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।
উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, "অভিযোজন ও প্রশমন জলবায়ু কার্যক্রমের পরিপূরক দুটি স্তম্ভ।" অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এটি উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার অংশ।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ বলেন, "অর্থনৈতিক উত্তরণ ও জলবায়ু ঝুঁকির বিষয় দুটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।" জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের জন্য অনুদানভিত্তিক অভিযোজন অর্থায়নের দাবিতে আপসহীন অবস্থান বজায় রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি) সুমাইয়া বিনতে আনোয়ার। তিনি বলেন, "প্রচলিত উন্নয়ন সূচকের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি ও ভবিষ্যৎমুখী জলবায়ু ঝুঁকিকেও যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে।" এ জন্য আন্তর্জাতিক অভিযোজন ও জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তিনটি নীতিগত দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো— বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জলবায়ু ঝুঁকি, ন্যায্যতা ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তা নির্ধারণ; এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অভিযোজন অর্থায়ন অব্যাহত রাখা ও সেই অর্থে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা; এবং বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের মধ্যে অভিন্ন আঞ্চলিক অ্যাডভোকেসি ও আলোচনাভিত্তিক কর্মসূচি গড়ে তোলা।
এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সচেতন ফাউন্ডেশনের হাবিবুর রহমান, রিভারাইন পিপলের মো. আনোয়ার হোসেন, সচেতন সংস্থার সাকিলা পারভীন, মৃত্তিকা সমাজ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের খাদিজা খানম এবং সিপিআরডির গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শেখ নূর আতায়া রাব্বি প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই মাসের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে সম্প্রতি দেশে ফিরে এসেছেন শাকিব খান। তবে ঢাকায় তার অবস্থান বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছুদিনের বিরতি নিয়ে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। সেখানে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। এবার স্বল্প সময়ের সেই সফর শেষ করে দেশে ফিরছেন ঢালিউডের সুপারস্টার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন শাকিব। আগামী সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ঢাকায় ফিরে তিনি ‘নিঃস্ব’ সিনেমার টিমের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।
এর আগে সাকিব ফাহাদ পরিচালিত ‘সোলজার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল শাকিবের। তবে আপাতত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সিনেমাটির শুটিংও এখন অনিশ্চিত। ফলে ঢাকায় ফিরে আপাতত ‘নিঃস্ব’ নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটাবেন এই তারকা।
জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে রাজধানী ঢাকায় ‘নিঃস্ব’র শুটিং শুরু হবে। এখানে দুই দিনের কাজ শেষে পুরো ইউনিট নিয়ে কলকাতায় যাবেন নির্মাতা। সেখানেই প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন শাকিব। কলকাতায় টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সিনেমাটির শুটিং চলার কথা রয়েছে।
এদিকে ‘নিঃস্ব’ নিয়ে আরও একটি চমকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করবেন ইধিকা পাল। তবে খলনায়কের চরিত্রে থাকবে বিশেষ চমক। ইতিমধ্যে বলিউডের একজন জনপ্রিয় অভিনেতার সঙ্গে এ বিষয়ে কথাবার্তা এগিয়েছে বলেও জানা গেছে। একাধিক সূত্রও নিশ্চিত করেছে, সিনেমাটির খলনায়ক চরিত্রে বলিউডের কোনো অভিনেতাকে দেখা যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অতীতের মতো আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্বকে তারা দাবিয়ে রাখতে চায়। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৭১, ৭ নভেম্বর এবং ২৪-এর মতো ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র্যালি-পূর্ব সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ৭১-এ অর্জিত সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে দেশের মানুষের ওপর বাকশাল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা পরাজিত করেছিল।
দুপুর পৌনে ৩টায় লাখো জনতার মধ্যে ৭ নভেম্বরে সিপাহি জনতার নায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান তারেক রহমান উপস্থিত হন। তিনি উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হন এবং জনসাধারণের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন।
পরে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘সার্বভৌমত্ব’ র্যালি শুরু হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের লাখো নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশ ২০২৬’-এ অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে আসার পথে তীব্র গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে দুই জন গ্রাম পুলিশ সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। একই কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া আরও কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) মহাসমাবেশে যোগ দিতে আসার সময় এই ঘটনা ঘটে।
মৃত্যুবরণকারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মো. জমসেদ আলী (৪৭) এবং ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার চুরাইন ইউনিয়নের মো. কাইমুদ্দিন (৫৮)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সমাবেশস্থলে আসার পথে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া আরও কয়েকজন গ্রাম পুলিশ সদস্য বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সমাবেশ শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন গ্রাম পুলিশ সদস্যদের শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আহতদের সর্বাত্মক ও সর্বোত্তম চিকিৎসাসেবা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, অসুস্থ ও আহত সদস্যদের চিকিৎসার সমুদয় ব্যয়ভার সরকার বহন করবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে নগদ ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।
এছাড়া নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তাদের পরিবার থেকে একজন যোগ্য সদস্যকে গ্রাম পুলিশের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। সরকারি খরচে নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানো এবং সম্মানজনক দাফন-কাফনের সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ