০৫:২৩ পি.এম
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের জন্য জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা একই সঙ্গে জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় নিজেদের অভিন্ন স্বার্থ তুলে ধরার জন্য তিন দেশের মধ্যে আঞ্চলিক ঐক্য জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন।
জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১) সামনে রেখে শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ (সিজেএ-বি), ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, সচেতন সংস্থা, শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস), এবিসিডি ফাউন্ডেশনসহ কয়েকটি নাগরিক ও উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও সিজেএ-বির সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা।
আরও পড়ুন: বরিশালে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা
স্বাগত বক্তব্যে মো. শামসুদ্দোহা উল্লেখ করেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তিনি বলেন, "অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিংবা এলডিসি উত্তরণ কোনোভাবেই জলবায়ু ঝুঁকি কমিয়ে দেয় না।" একইভাবে জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে না।
তিনি আরও বলেন, ভুটান ইতিমধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণ করেছে। বাংলাদেশ ও নেপালও নিজ নিজ উত্তরণপ্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অথচ তিনটি দেশই উল্লেখযোগ্য জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশগুলোর সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ, যৌথ অ্যাডভোকেসি এবং অভিযোজন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম বলেন, "এলডিসি উত্তরণকে জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণতা থেকে উত্তরণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।" উন্নয়নের অগ্রগতির অজুহাতে আন্তর্জাতিক অভিযোজন সহায়তা প্রত্যাহার করা উচিত হবে না। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, উন্নত দেশ এবং বহুপক্ষীয় জলবায়ু অর্থায়ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি আমিনুর রসুল বলেন, "জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা ও বেঁচে থাকার অধিকার উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থের অধীন হতে পারে না।" বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় অভিন্ন স্বার্থ তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ফটিকছড়িতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ফ্রি ক্যাম্প, ৩ লাখ টাকার ওষুধ ও চশমা বিতরণ
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, কপ-৩১ এবং পরবর্তী সময়ে ন্যায্য অভিযোজন সহায়তা ও জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি জোরদার করতে হবে। এ জন্য সরকার ও নাগরিক সমাজের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।
উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, "অভিযোজন ও প্রশমন জলবায়ু কার্যক্রমের পরিপূরক দুটি স্তম্ভ।" অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এটি উন্নত দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার অংশ।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ বলেন, "অর্থনৈতিক উত্তরণ ও জলবায়ু ঝুঁকির বিষয় দুটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।" জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের জন্য অনুদানভিত্তিক অভিযোজন অর্থায়নের দাবিতে আপসহীন অবস্থান বজায় রাখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি) সুমাইয়া বিনতে আনোয়ার। তিনি বলেন, "প্রচলিত উন্নয়ন সূচকের বাইরে দীর্ঘমেয়াদি ও ভবিষ্যৎমুখী জলবায়ু ঝুঁকিকেও যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে।" এ জন্য আন্তর্জাতিক অভিযোজন ও জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: অচল শরীরেও জীবনযুদ্ধে হার মানেননি কাঞ্চন, সঙ্গী স্ত্রী আসমা
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে তিনটি নীতিগত দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো— বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জলবায়ু ঝুঁকি, ন্যায্যতা ও মানবাধিকারের ভিত্তিতে সহায়তা নির্ধারণ; এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অভিযোজন অর্থায়ন অব্যাহত রাখা ও সেই অর্থে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা; এবং বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের মধ্যে অভিন্ন আঞ্চলিক অ্যাডভোকেসি ও আলোচনাভিত্তিক কর্মসূচি গড়ে তোলা।
এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সচেতন ফাউন্ডেশনের হাবিবুর রহমান, রিভারাইন পিপলের মো. আনোয়ার হোসেন, সচেতন সংস্থার সাকিলা পারভীন, মৃত্তিকা সমাজ উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠানের খাদিজা খানম এবং সিপিআরডির গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শেখ নূর আতায়া রাব্বি প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন