ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট, বিরোধ মিটেছে উপজেলাবাসীর


ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট, বিরোধ মিটেছে উপজেলাবাসীর

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ভুরঘাটা বাসষ্ট্যান্ডে বাস ভাড়া নিয়ে দ্বন্দের ফলস্বরূপ পাশ্ববর্তী মাদারীপুরের ডাসার উপজেলাবাসীর বিরুদ্ধে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর দুই উপজেলাবাসীর মধ্যে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটেছে। ফলে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী বাসষ্ট্যান্ডের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিরোধে জড়িত দুই পক্ষকে নিয়ে ভুরঘাটা বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে কোনো বিরোধে জড়াবেনা বলে অঙ্গীকার করেন। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিশোর কুমার দাস, কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম, ডাসার থানার ওসি মো. সোলায়মান মাহমুদ, গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান সহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৈঠকে উভয়পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের পর আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে সংঘর্ষে না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের অঙ্গীকার করেছেন। উল্লেখ্য, বাসভাড়া নিয়ে দ্বন্দের জেরধরে গত শুক্রবার মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বনগ্রাম এবং গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় ২০/২৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দুই পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। পাশাপাশি ভুরঘাটা বাসষ্ট্যান্ডের প্রায় ১৫টি দোকানে ভাংচুর করে লুটপাট চালানোর অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রাজশাহীবাসী: রাসিক প্রশাসক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাজিরপুরে শহীদ জিয়া কলেজে ১০ বছর ধরে ভুয়া শিক্ষকদের রাজত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৬ পি.এম


নাজিরপুরে শহীদ জিয়া কলেজে ১০ বছর ধরে ভুয়া শিক্ষকদের রাজত্ব

পিরোজপুরের নাজিরপুর শহীদ জিয়া কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য জাল স্বাক্ষর এবং ভুয়া সিল ব্যবহারের মাধ্যমে এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। এই জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সরকারি কোষাগার থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন রতন মন্ডল, পলাশ সাহা এবং অনুপ হালদার, যাদের নাম তথাকথিত শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, এই নিয়োগ জালিয়াতির মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং তৎকালীন কলেজ সভাপতি একেএম আউয়াল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে এই তিনজনকে ভুয়া নিয়োগ প্রদান করেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কলেজের পূর্বের নাম 'শহীদ জিয়া কলেজ' পরিবর্তন করে 'নাজিরপুর কলেজ' রাখেন। গত ৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকে এই প্রভাবশালী নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন।

নিয়োগ বোর্ডের নথিপত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের প্রতিনিধি (ডিজি নমিনি) হিসেবে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যাপক আবদুল জলিল আকনের নাম ও স্বাক্ষর উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে অধ্যাপক জলিল আকন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানান, নথির ওই স্বাক্ষর ও সিল তাঁর নয়। তিনি দাবি করেন, পুরো নিয়োগ বোর্ডটি ভুয়া ছিল এবং তারা জালিয়াতির মাধ্যমে সিল ও স্বাক্ষর নকল করেছে। একইভাবে বিশেষজ্ঞ ডক্টর সফিকুল ইসলামের ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

কলেজের প্রশাসনিক পদ সম্পর্কেও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জালিয়াতির নথিতে নারায়ণ চন্দ্র হালদারকে কলেজের সদস্য সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দেখানো হলেও বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষকদের দাবি, নারায়ণ চন্দ্র কখনো এই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন না। নারায়ণ চন্দ্রের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘ব্যস্ত আছেন’ বলে কল কেটে দেন এবং ফোন বন্ধ করে দেন। কলেজের বর্তমান সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জালিয়াতির বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের মুখোমুখি হলে তারা প্রথমে ক্ষোভ প্রকাশ ও হুমকি দেন। নিয়োগের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। অভিযুক্ত অনুপ হালদার শুরুতে কাগজ আছে দাবি করলেও পরে তা অস্বীকার করেন। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি সদরুল আলম মল্লিক শাহিন সাংবাদিকের পকেটে টাকা গুঁজে দিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেন। সাংবাদিক টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে সাংবাদিককে সরাসরি হুমকি প্রদান করা হয়।

এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক অনুপ হালদারের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। পূর্বে গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, পূর্বে এই নিয়োগ নিয়ে গঠন করা তদন্ত কমিটি অদৃশ্য কারণে আংশিক রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই কমিটির এক সদস্য জানান, নিয়োগে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে এবং প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলসহ গৃহীত বেতন-ভাতা ফেরত দিতে হবে। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির অন্য সদস্য প্রভাষক মশিউর রহমান স্পষ্ট জানান, এই বিতর্কিত নিয়োগের সাথে এনটিআরসিএ-এর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মশিউর কবির জানান, সরকারি নিয়োগ নথিতে জাল স্বাক্ষর বা সিল ব্যবহারের অপরাধ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে ৭ বছরের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে উত্তোলিত সমুদয় অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পিরোজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী আযিযী জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাগজে-কলমে সব নিয়ম মানার ভান করা হলেও আদতে এটি ছিল রাষ্ট্রীয় অর্থ হরিলুটের এক নিখুঁত মঞ্চায়ন। জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের চোখ ফাঁকি দেওয়া এসব ভুয়া শিক্ষক ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কখন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের ওয়াশ অধিকার নিশ্চিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১১ পি.এম


শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের ওয়াশ অধিকার নিশ্চিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত

শ্রীমঙ্গলে চা বাগানের শ্রমিকদের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সংলাপটি সোমবার (৫ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গলের মহসিন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। ‘জরংরহম ভড়ৎ জরমযঃং ভড়ৎ ঝঃৎবহমঃযবহরহম ঈরারষ ঝড়পরবঃু ঘবঃড়িৎশ ঃড় অপযরবাব ঝউএ ৬’ প্রকল্পের আওতায় ‘উরধষড়মঁব ড়হ ডঅঝঐ জরমযঃং ভড়ৎ ঞবধ এধৎফবহ ডড়ৎশবৎং’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে ম্যাক বাংলাদেশ (গঅঈ ইধহমষধফবংয)।

সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম এবং ম্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এ হামিদ ও উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাকিব। অনুষ্ঠানে ম্যাক বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী আরমান খান মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এই প্রেজেন্টেশনে চা বাগানের শ্রমিকদের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

সংলাপে উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানের নারী চা শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি, হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা চা শ্রমিকদের নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাল্লায় সংখ্যালঘু তরুণীকে অপহরণের অভিযোগ ছাত্রদল নেতা তোফাজ্জুল হক বাপনের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১২ পি.এম


শাল্লায় সংখ্যালঘু তরুণীকে অপহরণের অভিযোগ ছাত্রদল নেতা তোফাজ্জুল হক বাপনের বিরুদ্ধে

সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক তরুণীকে অপহরণের অভিযোগ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব তোফাজ্জুল হক বাপনের বিরুদ্ধে উঠেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তরুণীর বাবা রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে শাল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে, শনিবার, এই ঘটনার জন্য থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

অভিযোগকারী বাবা জানিয়েছেন, তাঁর ২০ বছর বয়সী মেয়েকে তোফাজ্জুল হক বাপন অপহরণ করে নিয়ে গেছেন। এরপর থেকে মেয়েটির কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না। মেয়েটি শাল্লা উপজেলা সদরের ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন কৃষকের সন্তান। অভিযুক্ত তোফাজ্জুল হক বাপন শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বিরন মিয়ার ছেলে, যিনি ২৮ বছর বয়সী।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের এক তরুণীকে অপহরণের অভিযোগে শনিবার থানায় একটি জিডি করা হয়েছিল। রোববার দুপুরে মেয়েটির বাবা সরাসরি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও মেয়েটিকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।’ অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তোফাজ্জুল হক বাপনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তারেক হাসান মুন্না বলেন, ‘বাপনের চলাফেরা ভালো না। গতকালই শুনতে পেরেছি, তার বিরুদ্ধে থানায় এক মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ হয়েছে। বিষয়টি জানার পর সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা ছাত্রদলের সভাপতিকে জানানো হয়েছে।’

সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. তারেক মিয়া জানান, ‘শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণের অভিযোগ হয়েছে বলে শুনেছি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মেয়েটির সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে।’ শাল্লা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘শুনেছি শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব একটি ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।’ শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তরুণীকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং তরুণীর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হাডুডু হারিয়ে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৬ পি.এম


গ্রামবাংলার ঐতিহ্য হাডুডু হারিয়ে যাচ্ছে

একসময় বিকেল হলেই গ্রামাঞ্চলের মাঠে হাডুডুর আসর জমে উঠত। খেলোয়াড়রা মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যেত। প্রতিপক্ষের সীমানায় গিয়ে ‘হাডুডু’ বলার সময় উত্তেজনায় চারপাশ কাঁপত। খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠের চারপাশে নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর ও প্রবীণরাও ভিড় করতেন। একটি খেলার মাধ্যমে পুরো গ্রামের উৎসবের আবহ তৈরি হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিনোদনের ধরন বদলে গেছে। এখন মাঠের সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন, অনলাইন গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কিছু জায়গায় খেলার মাঠ সংকুচিত হয়েছে, আবার কিছু জায়গায় মাঠ হারিয়ে গেছে বসতবাড়ি বা অন্য ব্যবহারে। নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবও যোগ হয়েছে। এর ফলে একসময় জনপ্রিয় হাডুডু এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়নের ভার্ণাপাড়া গ্রামে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, একসময় এ এলাকায় নিয়মিত হাডুডু খেলা হতো। দূর-দূরান্ত থেকে দল আসত। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মানুষের ভিড় থাকত। বর্তমানে সেই মাঠে খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তরুণদের একটি বড় অংশ মাঠের বদলে মোবাইল ফোন ও অনলাইন বিনোদনে সময় কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আগে হাডুডু ছিল গ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। বিকেল হলেই ছেলেরা মাঠে চলে যেত। এখন মাঠে খেলোয়াড়ের চেয়ে মোবাইল হাতে তরুণের সংখ্যা বেশি।’ প্রবীণ হাডুডু খেলোয়াড় মোহাম্মদ মোকসেদ আলী বলেন, ‘খেলার প্রতি আগ্রহ এখনো আছে। কিন্তু নিয়মিত মাঠ, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও প্রতিযোগিতা না থাকায় অনেকেই আর ধরে রাখতে পারছে না।’ আরেক প্রবীণ খেলোয়াড় মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘একসময় বিকেল হলেই আমরা মাঠে ছুটে যেতাম। হাডুডুর প্রতি সবার আলাদা ঝোঁক ও উদ্যম ছিল। খেলোয়াড়দের সামাজিকভাবেও সম্মান ছিল। এখন সেই পরিবেশ নেই। তরুণদের মধ্যে এ খেলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে না।’

শুধু খেলা নয়, সামাজিক বন্ধনও হারাচ্ছে। হাডুডু শুধুমাত্র শরীরচর্চার একটি খেলা নয়, এটি গ্রামীণ সমাজের সামাজিক বন্ধন ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ। একটি ম্যাচের মাধ্যমে এক গ্রামের সঙ্গে অন্য গ্রামের মানুষের যোগাযোগ তৈরি হতো। খেলাকে ঘিরে বাড়ত পরিচয়, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য। স্থানীয় শিক্ষক আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমি হাডুডুর প্রতি আগ্রহী ছিলাম এবং বিভিন্ন গ্রামের মাঠে খেলোয়াড় ও সংগঠক হিসেবে যুক্ত ছিলাম। শিশু-কিশোরদের শুধু পড়াশোনা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে আটকে রাখলে তাদের শারীরিক ও সামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ফিরিয়ে আনতে বিদ্যালয় ও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ প্রয়োজন।’

প্রয়োজন নিয়মিত আয়োজন। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বছরে একবার কোনো অনুষ্ঠান করলেই ঐতিহ্যবাহী খেলা বাঁচবে না। নিয়মিত প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে পুরস্কার ও পৃষ্ঠপোষকতাও প্রয়োজন।’

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বলেন, হাডুডুসহ গ্রামীণ খেলাগুলো ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং মাঠ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ। হাডুডু যাতে হারিয়ে না যায়, সে জন্য স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

স্থানীয়দের মতে, হাডুডুকে টিকিয়ে রাখতে শুধু খেলোয়াড় তৈরি করলেই হবে না, প্রয়োজন খেলার মাঠ সংরক্ষণ, নিয়মিত টুর্নামেন্ট, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। বিদ্যালয় পর্যায়েও এ ধরনের খেলাকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। নইলে একসময় গ্রামবাংলার মাঠ থেকে হারিয়ে যাবে ‘হাডুডু’ নামের সেই চিরচেনা হাঁক। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেই না, একসময় একটি খেলা ঘিরে কীভাবে পুরো গ্রামের মানুষ একসঙ্গে মাঠে জড়ো হতো, কীভাবে খেলোয়াড়ের প্রতিটি দৌড় আর প্রতিপক্ষের সীমানা ছোঁয়ার মুহূর্তে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ত চারপাশ। ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার আগে তাই হাডুডুর মাঠে আবারও ফিরিয়ে আনতে হবে সেই প্রাণের হাঁক-‘হাডুডু... হাডুডু...’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%