ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিয়মবহির্ভূত সবকিছুই পরিচ্ছন্নতার আওতায় আসবে : কৃষিমন্ত্রী


নিয়মবহির্ভূত সবকিছুই পরিচ্ছন্নতার আওতায় আসবে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত অনিয়ম ও অসঙ্গতি দূর করার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পরিচ্ছন্নতা বলতে শুধুমাত্র রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করা বোঝানো হচ্ছে না, বরং যেখানেই নিয়মবহির্ভূত কিছু থাকবে, সেটিকে সংস্কার বা পরিচ্ছন্ন করার আওতায় আনা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাতারাতি এই পরিবর্তন আশা করা যায় না।

শনিবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রটোকল অনুযায়ী তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের বাইরে থাকলেও, স্থানীয় মন্ত্রী হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তদারকি কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। তিনি বলেন, "আমার বাড়ি কুমিল্লায় হওয়ায় এখানকার সবকিছু আমার পরিচিত। এখানে যে কিছু অনিয়ম রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।" তিনি আরও বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যত ধরনের অপরিচ্ছন্নতা বা অনিয়ম রয়েছে, সবকিছুই এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন: শিবগঞ্জে কৃষি বিভাগের অভিযানে ১৬৯ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই কার্যক্রম কেবল ড্রেন পরিষ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতীয় ও জনগণের প্রয়োজনে এই হাসপাতাল ও কলেজকে একটি সত্যিকারের বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাছুম হাসান, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান, কুসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়াসহ সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভে দমনপীড়নের অভিযোগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৬ আইনপ্রণেতার চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভে দমনপীড়নের অভিযোগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৬ আইনপ্রণেতার চিঠি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, দমনপীড়ন এবং বেআইনি আটক সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ছয় আইনপ্রণেতা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওকে চিঠি প্রেরণ করেছেন। সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, তারা আসন্ন ভারত সফরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়গুলি জোরালোভাবে উত্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) তারিখে পাঠানো চিঠিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা ভারতের প্রতি স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে মানবাধিকার পরিস্থিতির পর্যালোচনার দাবি জানান। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী আইনপ্রণেতাদের মধ্যে রয়েছেন— প্রমীলা জয়াপাল, জেমস পি ম্যাকওভার্ন, জেসুস জি 'চুই' গার্সিয়া, এলিনর হোমস নর্টন, ইলহান ওমর এবং রাশিদা তালাইব।

চিঠিতে তারা আরও উল্লেখ করেন যে, শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশ এবং সমাবেশের মৌলিক অধিকার চর্চার জন্য যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া উচিত। এছাড়াও, মার্কিন ভূখণ্ডে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রতিবাদকারীদের ওপর নজরদারি এবং হয়রানির অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এছাড়াও, ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন নিয়ে স্বচ্ছতার অভাবের বিষয়েও চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: ডলার ও সোনা আমদানির নিয়মাবলী প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৪ পি.এম


বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: ডলার ও সোনা আমদানির নিয়মাবলী প্রকাশ

বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা, মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, সীমিত পরিসরে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং সোনা আমদানির অনুমোদনসংক্রান্ত বিধিবিধান একত্রিত করে একটি নথি তৈরি করেছে। নতুন নির্দেশনায় মানি চেঞ্জারদের পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্রমণকারীদের কাছে ডলার বিক্রির সীমা, প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, লাইসেন্স নবায়নের শর্ত ও ফি এবং সোনা আমদানির নিয়মও স্পষ্ট করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারি করা এক সার্কুলারে এসব নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এতে অনুমোদিত ডিলার, মানি চেঞ্জার ও সোনা ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স প্রদান এবং নবায়নের নিয়ম একত্র করা হয়েছে। সার্কুলারটি জারির পর আগের নির্দেশনাগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। সার্কুলারটি জারির তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে; এ সময়ের মধ্যে জারি করা সংশোধনী বা ব্যাখ্যাও এর সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে।

লাইসেন্স পেতে ব্যাংককে দিতে হবে পাঁচ বছরের তথ্য: বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের অনুমোদিত ডিলার বা এডি লাইসেন্স সাধারণত তফসিলি ব্যাংককে দেওয়া হয়। কোনো ব্যাংক শাখার জন্য এ লাইসেন্স নিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-২-এ আবেদন করতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাসঙ্গিক নির্দেশনা মেনে চলার ঘোষণা দিতে হবে। ব্যাংকের সব অনুমোদিত ডিলার শাখার আগের পাঁচ বছরের আমদানি, রপ্তানি, নন-ফান্ডেড এক্সপোজার, সংশ্লিষ্ট দায় ও প্রবাসী আয়সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। এসব লেনদেনের সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণ বছরভিত্তিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।

আমদানি বিল নিষ্পত্তির পরও বকেয়া থাকা বিল অব এন্ট্রির সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণও জানাতে হবে। প্রস্তাবিত শাখায় লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবসার সম্ভাবনা নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা থাকার তথ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে দেওয়া শাখার লাইসেন্সের সত্যায়িত অনুলিপি এবং সর্বশেষ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা দিতে হবে।

লাইসেন্স পাওয়ার পর কোনো ব্যাংক নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ এবং এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা না মানলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাখ্যা দেওয়ার যুক্তিসংগত সুযোগ দিয়ে লাইসেন্স বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারবে।

ডলার বিক্রিতে একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার: নির্দেশনা অনুযায়ী, মানি চেঞ্জাররা বিদেশ থেকে আসা বা বিদেশ থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি ও বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রার নোট ও কয়েন কিনতে পারবেন। প্রতিবার বৈদেশিক মুদ্রা কেনার বিপরীতে বিক্রেতাকে নির্ধারিত ছকে নগদায়ন সনদ দিতে হবে।

বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছে ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার বিপরীতে মানি চেঞ্জাররা একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলারের নোট ও কয়েন বিক্রি করতে পারবেন। তবে বার্ষিক ভ্রমণসীমার অবশিষ্ট অংশের বিপরীতে অন্যান্য অবাধে বিনিময়যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রাও বিক্রি করা যাবে।

২০০ ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পর্যন্ত বিক্রির ক্ষেত্রে বৈধ টিকিট থাকতে হবে। এর বেশি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে বৈধ ভিসা দেখাতে হবে। বিদেশি পর্যটকের বাংলাদেশে অবস্থানকালে বৈদেশিক মুদ্রা ভাঙিয়ে পাওয়া অব্যবহৃত টাকা ফেরত নিয়ে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে লাইসেন্সধারী যেকোনো মানি চেঞ্জারের দেওয়া ব্যবস্থাপনা-উৎপন্ন নগদায়ন সনদ জমা দিতে হবে। পুনরায় বৈদেশিক মুদ্রা দেওয়ার পর মূল সনদে তা উল্লেখ করে অনুলিপি সংরক্ষণ করতে হবে।

বিদেশ ভ্রমণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা দেওয়ার আগে মানি চেঞ্জারকে নিশ্চিত হতে হবে, আগেরবার মুদ্রা নেওয়ার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সত্যিই ভ্রমণ করেছেন কি না, অথবা নেওয়া মুদ্রা যথাযথভাবে নগদায়ন করা হয়েছে কি না। প্রতিটি লেনদেন পাসপোর্ট ও আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকিটে অনুমোদিত ব্যক্তির সিল ও স্বাক্ষরসহ লিপিবদ্ধ করতে হবে। পাসপোর্টের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠা, ভিসা ও বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের পৃষ্ঠার অনুলিপি অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

মানি চেঞ্জারের ব্যবসায় কঠোর শর্ত:

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মানি চেঞ্জারের ব্যবসা হতে হবে প্রতিষ্ঠানের একমাত্র ব্যবসা। এ ব্যবসার জন্য কোনো শাখা কার্যালয় খোলা যাবে না এবং নির্ধারিত প্রাঙ্গণে অন্য কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানো যাবে না।

পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নেওয়া যাবে। এই ফি প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে এবং গ্রাহককে লিখিত রসিদ দিতে হবে। আদায় করা ফি-সংক্রান্ত হিসাবও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

লাইসেন্স নবায়নের জন্য আগের বছরে নির্ধারিত পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় বছরে কমপক্ষে ৫ লাখ ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের শর্ত রয়েছে। অন্যান্য এলাকায় এ সীমা সাড়ে ৩ লাখ ডলার। নির্ধারিত সীমা পূরণ না হলে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন অযোগ্য বিবেচিত হবে।

নবায়নের ক্ষেত্রে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, কর পরিশোধের সনদ, মূল্য সংযোজন কর পরিশোধের প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট সমিতির সদস্যপদের সনদ এবং আয়কর দপ্তরে জমা দেওয়া সম্পদ ও দায়ের বিবরণীসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হবে। একক মালিকানা ও অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম নিট সম্পদ হতে হবে ১০ লাখ টাকা। যৌথ মূলধনী কোম্পানির ক্ষেত্রে নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী পরিশোধিত মূলধন থাকতে হবে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা। নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা, যা ফেরতযোগ্য নয়।

মানি চেঞ্জারের কার্যালয়ের ঠিকানা পরিবর্তন, একক মালিকানা বা অংশীদারি প্রতিষ্ঠান থেকে যৌথ মূলধনী কোম্পানিতে রূপান্তর কিংবা মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন নিতে হবে। লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা না মানলে লাইসেন্স বাতিল কিংবা অন্য নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সীমিত মানি চেঞ্জার লাইসেন্সেও নজরদারি: ব্যাংকের শাখা ও বুথ এবং যোগ্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সীমিত পরিসরে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের লাইসেন্স দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান বিদেশি পাসপোর্টধারীদের কাছ থেকে পণ্য বা সেবার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার নগদ নোট গ্রহণ করতে পারবে। প্রাপ্ত অর্থ পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকায় রূপান্তর করতে হবে। তবে লেনদেনের সুবিধার্থে সর্বোচ্চ ১ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা হাতে রাখা যাবে।

ব্যাংকের শাখা বা বুথের ক্ষেত্রে লাইসেন্স নবায়নের প্রয়োজন নেই। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই মাস আগে নবায়নের আবেদন করতে হবে। এর সঙ্গে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, আয়করসংক্রান্ত কাগজপত্র, আগের এক বছরের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি জমা দিতে হবে। নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা।

এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকের সহজে চোখে পড়ে এমন স্থানে বাংলা ও ইংরেজিতে লাইসেন্সসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং দৈনিক বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রদর্শন করতে হবে। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে প্রচলিত আইন এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নির্দেশনা মানতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারবে এবং নিয়ম না মানলে লাইসেন্স বাতিল করতে পারবে।

সোনা আমদানিতে প্রতিবার আগাম অনুমোদন:

সোনার বার ও অলংকার আমদানির জন্য অনুমোদিত সোনা ব্যবসায়ী বা এজিডি লাইসেন্স দেওয়া যাবে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক কিংবা যোগ্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে। এ লাইসেন্সের মেয়াদ দুই বছর। নবায়ন করতে হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে আবেদন করতে হবে। নবায়ন ফি ২ লাখ টাকা।

তবে সোনা ব্যবসায়ীর লাইসেন্স থাকলেই ইচ্ছামতো আমদানি করা যাবে না। প্রতিবার সোনার বার বা অলংকার আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক আগাম অনুমোদন নিতে হবে। আবেদনে আমদানির চাহিদা এবং যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করতে হবে, তার বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। আমদানি নীতি আদেশসহ প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধানও মানতে হবে।

লাইসেন্স হস্তান্তরযোগ্য নয়। ব্যবসার স্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন প্রয়োজন। লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত প্রাঙ্গণে অন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি থাকবে না। সোনা অলংকার রপ্তানি প্রকল্পের আওতায় সোনার বার আমদানির ক্ষেত্রে পৃথক প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

সোনা পরিশোধন কারখানার কাঁচামাল আমদানিতেও অনুমতি: অপরিশোধিত সোনার আকরিক বা আংশিক পরিশোধিত সোনা আমদানি করে পরিশোধনের জন্য অনুমোদিত আমদানিকারক হওয়ার আলাদা বিধানও রাখা হয়েছে। এ অনুমতি পেতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন, হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বর, মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধন, ব্যবসায়িক পরিচিতি, ব্যাংকের স্বচ্ছলতার প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্য জমা দিতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকার ফেরত-অযোগ্য অনুমতিমূল্য দিতে হবে। অনুমতির মেয়াদ পাঁচ বছর। নবায়নের জন্য মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে আবেদন করতে হবে এবং দিতে হবে ৫ লাখ টাকা নবায়ন ফি। বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনবলের সক্ষমতা যাচাই করতে পারবে। শর্ত না মানলে অনুমতি বাতিল করার ক্ষমতাও থাকবে।

ব্যক্তিপ্রতি একবারে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নোট: বিদেশি মুদ্রার নোট ও কয়েন কেনাবেচার সাধারণ নিয়মও সার্কুলারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার নোট ও কয়েনের ব্যবসা করা যাবে না। অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে অন্য অনুমোদিত ডিলার ও সাধারণ গ্রাহকের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করতে পারবে। উদ্বৃত্ত নোট ও কয়েন বিদেশে পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে অর্থ জমা করার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।

বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটা, ব্যবসায়িক ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা বা অন্য অনুমোদিত খাতের বিপরীতে জনপ্রতি প্রতি যাত্রায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার নোট ও কয়েন দেওয়া যাবে। অবশিষ্ট অর্থ অন্য অবাধে বিনিময়যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় দেওয়া যেতে পারে। ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব, আবাসিক বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাব, রপ্তানিকারকদের রিটেনশন কোটা হিসাব এবং অনুমোদিত টাকার হিসাবের স্থিতির বিপরীতে ডলার নোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই সীমা প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খাতের অন্যান্য বিধিবিধানও মানতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সমন্বিত সার্কুলারে লাইসেন্সের আবেদন ও নবায়নের নিয়মের পাশাপাশি লেনদেনের সীমা, হিসাব সংরক্ষণ, প্রতিবেদন দাখিল এবং তদারকির বিষয়গুলো একত্র করা হয়েছে। এর ফলে অনুমোদিত ডিলার, মানি চেঞ্জার, সীমিত মানি চেঞ্জার এবং সোনা আমদানিকারকদের জন্য প্রযোজ্য নিয়মাবলি একটি নথিতে পাওয়া যাবে। সার্কুলারটি জারির তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের নতুন কৌশল কতটা কার্যকর হবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৪ পি.এম


হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের নতুন কৌশল কতটা কার্যকর হবে?

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ দেশ ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর চলমান সামরিক অভিযান ও এর ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চলছে গভীর বিশ্লেষণ। আল-জাজিরার একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইয়েমেন সরকারের নতুন আক্রমণের টেকসইতা এবং এর কৌশলগত চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা হুথিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফ্রন্টে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কৌশলগতভাবে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং হুথিদের সরবরাহ লাইন দুর্বল করার উদ্দেশ্যে এই আক্রমণ শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো, এই সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী করা সরকারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং হুথিদের গেরিলা যুদ্ধের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ও মানবিক মূল্য এই অভিযানের স্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, হুথিরা তাদের সামরিক সক্ষমতা এবং ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত রাখায় সংঘাতের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র সামরিক শক্তির উপর নির্ভর করে রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এই আক্রমণের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। উভয় পক্ষের জন্য এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে, যা ইয়েমেনের চলমান মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপ্রতিম হত্যা মামলার চার্জশিট শিগগিরই দাখিল হবে: কুমিল্লা পুলিশ সুপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৫ পি.এম


অপ্রতিম হত্যা মামলার চার্জশিট শিগগিরই দাখিল হবে: কুমিল্লা পুলিশ সুপার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) শিগগিরই দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে যুবদল কর্মী কাউসার হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ‘অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সর্বোচ্চ আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিল করা হবে।’

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, মায়ের আইফোন দিয়ে ছবি তুলতে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি সে। ওই রাতেই তার বাবা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

অপ্রতিম কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, তার সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশেই তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মোট চারজন জড়িত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তাদের শনাক্ত করে আটক করে পুলিশ। পরে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে সিয়াম ছাড়া বাকি তিন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আসামিদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক)-এ পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং মো. সিয়াম (১৮)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%