১১:২৯ এম
দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশে এবং বিদেশে তাদের নানান ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। সেই ভোগান্তি কমাতে চলতি মাসেই ডিজিটাল 'প্রবাসী কার্ড' চালু হতে যাচ্ছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই এক কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংকিং সুবিধা, বিমা, বিনিয়োগ এবং সম্পদ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা মিলবে। প্রবাসীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করতে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায়, যেমন বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বাংলাদেশ দূতাবাস পর্যন্ত, তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। তথাকথিত দালাল চক্রের প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, পুনর্বাসন সংকটসহ একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হন তারা।
আরও পড়ুন: রূপপুরের জন্য ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় রাশিয়ার বিমান
এসব সমস্যা সমাধানে সরকার চলতি মাসেই ডিজিটাল 'প্রবাসী কার্ড' চালু করতে যাচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিমানবন্দরে হয়রানি কমবে এবং দূতাবাসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন জরুরি সেবা এবং অনলাইন পেমেন্টও সহজ হবে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে যুক্ত করে এ প্রবাসী কার্ডটি প্রদান করা হবে। আশা করা হচ্ছে, চলতি মাসের মধ্যেই এটি চালু করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, বিমানবন্দরের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ার পাশাপাশি দূতাবাসে কার্ডধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। অন্যান্য সেবার ফি এবং পেমেন্ট অনলাইনে এই কার্ডের মাধ্যমে করা যাবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা নিজের অর্থকে আরও নিরাপদ রাখতে পারবেন। চাইলে পরিবারের একজন সদস্যকে সম্পূরক (সাপ্লিমেন্টারি) কার্ডধারী করা সম্ভব হবে। তিনি মাসে কত টাকা তুলতে পারবেন, সেটিও আগে থেকেই নির্ধারণ করা যাবে। এতে প্রতারণা ও হুন্ডির ব্যবহার কমবে এবং অর্থ লেনদেনের সঠিক হিসাবও থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনেক প্রবাসী দেশে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে টাকা পাঠান অথবা সম্পত্তি কেনার জন্য অর্থ পাঠান। পরে দেশে ফিরে গিয়ে তারা দেখতে পান, টাকা বা সম্পত্তির সঙ্গে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসী কার্ড চালু হলে তারা নিজের নামে থাকা অ্যাকাউন্টেই টাকা রাখতে পারবেন এবং সুদও পাবেন। পরিবারের প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে একজন সদস্য সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবেন।
আরও পড়ুন: রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন
প্রবাসীরাও আশা করছেন, এই কার্ড চালু হলে দেশে ও বিদেশে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। তারা জানান, একই কার্ড ব্যবহার করে তারা বিদেশে যেমন টাকা তুলতে পারবেন, তেমনি বাংলাদেশেও সহজে লেনদেন করতে পারবেন। সরকারের দ্রুত এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন তাদের জন্য লাভজনক হবে।
তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, এই কার্ডের মাধ্যমে তথ্য নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও থাকা প্রয়োজন, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপব্যবহার না ঘটে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ডাটাবেজের সঙ্গে যুক্ত করলে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সঠিকভাবে সেবা পাবেন। তবে রাজনৈতিক প্রভাব বা অসাধু গোষ্ঠীগুলো যাতে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু কার্ড চালু করলেই হবে না; দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক এবং সমাজের সব স্তরের সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই কার্ডের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: যৌতুকের জন্য স্ত্রী-কন্যা হত্যা মামলায় আবদুর রউফ সরদারের মৃত্যুদণ্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন