শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৯ পি.এম
ভারতের মধ্যপ্রদেশের আগর মালওয়া জেলার নালখেদায় একটি গাড়ি নর্দমায় পড়ে যাওয়ার ফলে একই পরিবারের সাত সদস্য এবং গাড়ির চালকসহ মোট আটজনের মৃত্যু ঘটেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজন নারী, দুজন পুরুষ এবং তিন শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারা সবাই গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে ছিলেন। পরে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা গাড়িটি নর্দমা থেকে বের করে আনেন। চিকিৎসকরা গাড়ির ভেতরে থাকা আটজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আগর মালওয়ার পুলিশ সুপার দিলীপ সোনি জানিয়েছেন, পরিবারটি ওড়িশা থেকে উজ্জয়িনী যাচ্ছিল। নালখেদায় পৌঁছানোর জন্য তারা একটি ট্যাক্সি ভাড়া করেছিলেন। মন্দিরের কাছে নর্দমার পানির স্তর বেড়ে যাওয়ার কারণে গাড়িটি স্রোতে ভেসে যায়।
জেলা কালেক্টর শের সিং মিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকায় ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে মন্দিরের সামনে নর্দমার পানির স্তর বৃদ্ধি পায় এবং গাড়িটি ভেসে যায়। ঘটনার পর স্থানীয়রা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা নর্দমার ওপর একটি সেতু নির্মাণের পাশাপাশি এলাকার নিরাপত্তা ও উন্নয়নের দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন যে, শিগগিরই গ্যাস সংকট সমাধান হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকার বিদেশের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হবে না।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপের গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহমুদ, শ্যামল এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক।
এ সময় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল আলম, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিকসহ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা ও বিজিএফসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জে নেশাগ্রস্ত জামাই ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীসহ শ্বশুর পরিবারের তিনজনকে বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। আহতরা হলেন স্ত্রী রুমানা আক্তার (২১), শ্বশুড় মাহবুব আলম মিন্টু হাওলাদার (৫৮) ও শ্বাশুড়ি মাহমুদা বেগম (৫৫)। আহতরা মুমূর্ষ অবস্থায় বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোর রাত ৫ টার সময় উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তমপুর গ্রাম এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ইমরান হোসেন উজ্জ্বল শনিবার ভোর রাতে তার স্ত্রী রুমানা আক্তারকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ওই সময় আহত রুমানার ডাকচিৎকারে তার পিতা মাহবুব আলম মিন্টু হাওলাদার ও মা মাহমুদা বেগম বাঁচাতে গেলে তাদেরকেও এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। পরবর্তীতে ঘরের দরজা বাহির থেকে লাগিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সে পালিয়ে যায়। আহতদের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তাদেরকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে জামাই ইমরান হোসেন উজ্জ্বল বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হলে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ সকাল ১০ টার সময় অভিযুক্ত মোঃ ইমরান হোসেন উজ্জ্বলকে সেখান থেকে আটক করে।
বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নেশাগ্রস্থ জামাইর হাতে স্ত্রী-শ্বশুর-শাশুড়িরসহ তিনজন গুরুতর জখমের ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্ত ইমরান হোসেন উজ্জ্বল একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তবে কি কারণে হত্যা চেষ্টার মত এমন ঘটনা তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে বাসের ধাক্কায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কামারখন্দ উপজেলার তালুকদার বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন, দিনাজপুর সদর উপজেলার গুড়গোলা প্রাণনাথপুর এলাকার আপন ইসলাম (২৬) এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তাড়াশ গ্রামের মো. আসলাম (৪০)।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার এসআই প্রণয় প্রামানিক জানান, রাত দেড়টার দিকে মহাসড়কের পাশে একটি বিকল ট্রাক মেরামতের জন্য দাঁড় করানো হয়েছিল। এ সময় ঢাকাগামী একটি বাস দ্রুত গতিতে এসে ট্রাকটিতে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনায় ট্রাক মেরামত কাজে নিয়োজিত দুজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত আলিশা পরিবহনের বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিতাস-২৮ নম্বর কূপের গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) জানায়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উদ্বোধনের মাধ্যমে এই কূপ থেকে দৈনিক ১২-১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহমুদ শ্যামল, এমপি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল আলম, বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিকসহ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা ও বিজিএফসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন, তিতাস-২৮ কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এতে গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নতুন আরও কয়েকটি গ্যাস কূপ খননের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, যা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে পেট্রোবাংলার আওতাধীন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির আওতায় তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা—এই ছয়টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। ফেনী গ্যাসক্ষেত্রও বিজিএফসিএলের আওতাধীন ছিল, যা বহুজাতিক কোম্পানি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে ভূকম্পন জরিপ, কূপ খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ, কূপমুখের সংকোচক যন্ত্রের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, উপজাত হিসেবে কনডেনসেট সংগ্রহ ও বিপণন এবং গ্যাসের গুণগত মান বজায় রেখে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে বিজিএফসিএল দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং মোট সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ গ্যাস উৎপাদন করছে।
গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং আটটি বন্ধ কূপ সংস্কারের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যে বিজিএফসিএলের পাঁচটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
এছাড়া, আরো নয়টি নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যমান ১২টি কূপ সংস্কারের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ২৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিজিএফসিএলের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় নতুন গ্যাসের মজুদ অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলছে। হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র ও তৎসংলগ্ন ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটারসহ মোট এক হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পশ্চিম ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের কার্যক্রম চলছে।
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ‘তিতাস ও কামতা গ্যাসক্ষেত্রে চারটি মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি খনন করা হয়। কূপটি খননের জন্য চীনের সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল চুক্তি করা হয়।
চুক্তির আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৯ জুন শেষ হয়। কূপটি তিন হাজার ৬০১ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। পরে কূপটির সম্পন্নকরণ কাজ শেষ করে গ্যাসের চাপ ও উৎপাদন সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।
তিতাস-২৮ নম্বর কূপ খননে মূল্য সংযোজন কর ও আয়করসহ প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিজিএফসিএল জানিয়েছে, কূপটি থেকে দৈনিক ১২-১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এ গ্যাস দেশের সামগ্রিক গ্যাস সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা চলমান গভীর অনুসন্ধান কূপ তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯-এর খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, শিগগিরই দেশের গ্যাস সংকট কেটে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ