প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিতাস-২৮ নম্বর কূপের গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) জানায়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উদ্বোধনের মাধ্যমে এই কূপ থেকে দৈনিক ১২-১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহমুদ শ্যামল, এমপি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল আলম, বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিকসহ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা ও বিজিএফসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন, তিতাস-২৮ কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এতে গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে নতুন আরও কয়েকটি গ্যাস কূপ খননের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, যা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে পেট্রোবাংলার আওতাধীন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির আওতায় তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা—এই ছয়টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। ফেনী গ্যাসক্ষেত্রও বিজিএফসিএলের আওতাধীন ছিল, যা বহুজাতিক কোম্পানি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে ভূকম্পন জরিপ, কূপ খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ, কূপমুখের সংকোচক যন্ত্রের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, উপজাত হিসেবে কনডেনসেট সংগ্রহ ও বিপণন এবং গ্যাসের গুণগত মান বজায় রেখে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে বিজিএফসিএল দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং মোট সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ গ্যাস উৎপাদন করছে।
গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং আটটি বন্ধ কূপ সংস্কারের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যে বিজিএফসিএলের পাঁচটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
এছাড়া, আরো নয়টি নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যমান ১২টি কূপ সংস্কারের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ২৩ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিজিএফসিএলের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় নতুন গ্যাসের মজুদ অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলছে। হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র ও তৎসংলগ্ন ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটারসহ মোট এক হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পশ্চিম ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের কার্যক্রম চলছে।
জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ‘তিতাস ও কামতা গ্যাসক্ষেত্রে চারটি মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি খনন করা হয়। কূপটি খননের জন্য চীনের সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল চুক্তি করা হয়।
চুক্তির আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৯ জুন শেষ হয়। কূপটি তিন হাজার ৬০১ মিটার গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। পরে কূপটির সম্পন্নকরণ কাজ শেষ করে গ্যাসের চাপ ও উৎপাদন সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।
তিতাস-২৮ নম্বর কূপ খননে মূল্য সংযোজন কর ও আয়করসহ প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিজিএফসিএল জানিয়েছে, কূপটি থেকে দৈনিক ১২-১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এ গ্যাস দেশের সামগ্রিক গ্যাস সংকট মোকাবেলায় সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা চলমান গভীর অনুসন্ধান কূপ তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯-এর খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, শিগগিরই দেশের গ্যাস সংকট কেটে যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন