১২:৫৫ পি.এম
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে অবমাননার অভিযোগে ইরানের ২৩ বছর বয়সি তরুণী নাজমেহ আমিনির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে, জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করা এবং সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাকে ১২ বছরের বেশি কারাদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনও চূড়ান্ত হয়নি; ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
নাজমেহ আমিনি পেশায় অ্যাকাউন্টিংয়ের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি পোস্টের কারণে মহানবী (সা.)কে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইন অনুযায়ী, এ অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
জানুয়ারির বিক্ষোভে গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বিক্ষোভকে কঠোরভাবে দমন করা হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আমিনির বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ করা এবং সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ১২ বছর ছয় মাস এক দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কারাগার থেকে ধারণ করা এক অডিও বার্তায় আমিনি জাতিসংঘ, আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে তার মামলার তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমার অনেক আশা ও স্বপ্ন রয়েছে এবং আমার পরিবার প্রতিনিয়ত আমাকে হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।"
আদালতে কী বলেছিলেন আমিনি?
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়
ইরানের সংবাদপত্র খোরাসানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আমিনি আদালতে দাবি করেন, বন্ধুদের সঙ্গে হ্যালুসিনেশন সৃষ্টিকারী মাশরুম গ্রহণের পর বিভ্রমের মধ্যে তিনি ওই পোস্টটি দিয়েছিলেন। তার আইনজীবীও ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন।
তবে বিচারক তার এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিচারক প্রশ্ন তোলেন, বিভ্রমের মধ্যে থাকলে তিনি কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো অন্য ব্যক্তি বা সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের মন্তব্য করেননি?
ইরানের ইসলামি দণ্ডবিধির ২৬২ ধারায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে ২৬৩ ধারায় অনিচ্ছাকৃত বক্তব্য, ভুলবশত বলা কথা কিংবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন মন্তব্য করার ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যতিক্রমগুলো আমিনির মামলায় কেন প্রযোজ্য হয়নি, তা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
মৃত্যুদণ্ড নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ
আরও পড়ুন: ৩৬ জেলায় ১০১ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ইরানে ৬০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে এক তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক নজির তৈরি করতে পারে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কঠোর প্রতিক্রিয়া না জানালে শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ আরো বাড়তে পারে।
ইরানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। এর আগে ২০২৩ সালের ৮ মে ইউসুফ মেহরদাদ ও সদরোল্লাহ ফাজেলি-জারে নামের দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননাসংক্রান্ত অভিযোগে তাদের দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
আমিনির মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় মামলাটি আপিলের পর্যায়ে রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তার সাজা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি এবং মৃত্যুদণ্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ ৭ নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন